ইসরায়েলের সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হামাস প্রধান ইসমাইল হানিয়া, হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহর হয়ে প্রায় ২০০ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে প্রতিশোধ নিয়েছে ইরান। যদিও এতে ইসরায়েলের তেমন কোন বড় ক্ষয়ক্ষতি কিংবা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে এতগুলো ক্ষেপণাস্ত্রে ভীতসন্ত্রস্ত ইসরায়েল যে এর পাল্টা জবাব দেবে তা প্রায় নিশ্চিত বলা যায়।
ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টির পর পরই ইসরায়েলের ক্ষ্যাপাটে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানকে মাশুল চোকাতে হবে বলে রেখেছেন। ইসরায়েলের সঙ্গে বরাবরের মতোই আছে আমেরিকা।

ধারণা করা হচ্ছে, ইসরায়েল জবাবি হামলায় ইরানের পারমাণবিক প্লান্টগুলোতে বিমান হামলা চালাতে পারে। এছাড়া ইরানের তেলক্ষেত্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সাংবাদিকদের বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক ক্ষেত্রগুলোতে ইসরায়েল হামলা চালাক সেটা তিনি চান না।

যদিও বিবিসির নিরাপত্তা বিশ্লেষণ প্রতিনিধি ফ্রাঙ্ক গার্ডনার লিখেছেন, ইরান গত এপ্রিলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক সহযোগীরা দেশটিকে যেভাবে ধৈর্য ধারণের আহবান জানিয়েছিলো এবার তেমনটি হওয়ার সম্ভাবনা কম।
ইসরায়েলের এখনকার কৌশল হলো এক সাথে দু’ভাবে এগুনো: হত্যা, বিমান হামলা ও প্রতিরোধ- যার মাধ্যমে ইরান ও ছায়াশক্তিগুলোকে বুঝিয়ে দেয়া যে ইসরায়েলে আঘাত করলে আরও বেশি শক্তির মুখোমুখি হতে হবে।
বিবিসি বলছে, যেসব এলাকা থেকে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে সেসব জায়গা সম্ভাব্য ইসরায়েলী হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে। ফায়ারিং এর জন্য ক্ষেপণাস্ত্র যেখানে রাখা হয়েছে শুধু সেই জায়গা নয় বরং কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার, এমনকি রিফুয়েলিং সেন্টারগুলোও এর আওতায় থাকবে।

এমনকি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নির্দেশ দিয়েছে যারা এবং যারা এটি পরিচালিত করেছে তাদের বিরুদ্ধে ইরানের অভ্যন্তরেই গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে পারে ইসরায়েল। আর যদি দেশটি আরও বেশি কিছু করতে চায় তাহলে তারা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে টার্গেট করতে পারে।
বিবিসির ভাষ্যে, যে পথেই প্রতিশোধ নিক ইসরায়েল, এতে ইরানের পাল্টা হামলা অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠবে এবং এর মাধ্যমে দেশ দুটি হামলা ও প্রতিশোধের চিরস্থায়ী এক চক্রে পড়বে।
নিজস্ব সংবাদ : 



















