সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু Logo হাম হলে শিশুকে যেসব খাবার খাওয়াবেন Logo ২২০০ পিঁপড়া পাচার চেষ্টায় চীনা নাগরিকের এক বছরের জেল Logo চট্টগ্রামে নিজেই হাসপাতালে এসে ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা নিলো কাক! Logo বাংলাদেশে প্রতি তিন শিশুর মধ্যে এক জন মারাত্মকভাবে জলবায়ু ঝুঁকির মুখে Logo এপ্রিল এখন পর্যন্ত সহনীয়, দেশে এবছরের গ্রীষ্ম কম ভোগাবে আশা আবহাওয়াবিদের   Logo আজ স্বাধীনতা পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo ‘ধান খাওয়ায়’ মেরে ফেলা হলো বাবুই পাখির ২৯ বাচ্চা, এক জনের কারাদণ্ড Logo পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া Logo জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হতে পারে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

উড়িষ্যায় আঘাত হেনে দুর্বল ‘দানা’, সর্বশেষ পরিস্থিতি

উড়িষ্যায় আঘাত হেনে দুর্বল ‘দানা’, সর্বশেষ পরিস্থিতি

ভারতের উড়িষ্যা উপকূলে তাণ্ডব চালিয়ে ধীরে ধীরে শক্তি হারাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’। এখন পর্যন্ত কোথাও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায় স্থলভাগে ঢুকতে শুরু করেছিল ঘূর্ণিঝড়টি। শুক্রবার ভোরে স্থলভাগ অতিক্রম করেছে। স্থলভাগে আঘাত হানার সময় উড়িষ্যা এবং পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে ঝড়ের সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার। তবে শুক্রবার সকালে ঝড়ের তাণ্ডব শেষ হওয়ার পর গতি কিছুটা কমেছে।

ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছে, বর্তমানে উপকূল এলাকায় ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইছে। শক্তি হারিয়ে তা এখন ‘সাধারণ’ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। বিকালের মধ্যে আরও কিছুটা শক্তিক্ষয় করে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে ‘দানা’।

স্যাটেলাইট ইমেজে দানার সর্বশেষ অবস্থান

দানা আছড়ে পড়ার পর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। দিঘা ও সাগরদ্বীপে জলোচ্ছ্বাস হয়েছে। কলকাতায় গভীর রাত থেকে কিছু এলাকায় ঝিরঝির বৃষ্টি হয়েছে ও এখনো হচ্ছে। রাস্তা ডুবে যায়নি। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়নি। গাছপালাও ভেঙে যাওয়ার খবর মেলেনি।

তবে উড়িষ্যার পারাদ্বীপ, পুরি এলাকায় সমুদ্র উত্তাল হয়েছে। জলোচ্ছ্বাসও হয়েছে।সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, গতকাল গভীর রাত থেকেই দিঘা, শঙ্করপুর, তাজপুর, মন্দারমণিসহ হলদিয়া আর সাগরদ্বীপের বেশ কিছু সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের তাণ্ডব চালিয়েছে দানা। বেশ কিছু গাছপালা ভেঙে গেছে।

যদিও নিরাপত্তার কারণে দিঘায় বারবার বন্ধ করতে হয়েছে বিদ্যুতের সরবরাহ। দিঘার সমুদ্রসৈকতের গার্ডওয়াল ছাপিয়ে সমুদ্রের বিশাল বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়েছে রাস্তার ওপর। তবে আগেভাগেই রাজ্য প্রশাসন দিঘা, মন্দারমণি, শঙ্করপুর ও তাজপুর থেকে পর্যটকদের সরিয়ে দেয়।

এদিকে বাংলাদেশের আবহওয়া অধিদপ্তরের শেষ ও ১৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে দমকা/ঝড়ো হওয়া বয়ে যেতে পারে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে শনিবার সকাল পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

তেমন প্রভাব পড়েনি সাতক্ষীরায়

সাতক্ষীরায় ঘূর্ণিঝড় দানার তেমন প্রভাব পড়েনি। শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকে কখনও সূর্যের দেখা মিলছে কখনও মেঘে ঢেকে যাচ্ছে আকাশ।

জেলার উপকূলবর্তী বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা এখন স্বাভাবিক। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে হালকা মাঝারি বৃষ্টি শুরু হয় চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত। সন্ধ্যার দিকে কিছু সময়ের জন্য মাঝারি বৃষ্টি হলেও রাতে বৃষ্টি হয়নি। তবে সামান্য দমকা হাওয়া ছিল।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অধিদফতরের কর্মকর্তা জুলফিকার আলী জানান, জেলায় ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশী দমকা হাওয়া ছিল। তবে আজ শুক্রবার হালকা মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামীকাল শনিবার থেকে আবহাওয়া পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলেও জানান তিনি।

খুলনায় রাতভর বৃষ্টি

ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে খুলনা অঞ্চলে রাতভর ভারী বৃষ্টি হয়েছে। ভোরের আলো ফুটতেই খুলনার আকাশ পরিষ্কার হয়ে ওঠে। এ পর্যন্ত খুলনায় ৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস।

তবে ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাব কেটে দুপুরে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল আজাদ বলেন, ‘দানার প্রভাব কেটেছে। তবে দুপুরে প্রভাবের শেষ ধাক্কা হিসেবে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) ভোর ৬টা পর্যন্ত খুলনায় ৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে।’

খুলনার ভৈরব, রূপসা ও কাজী বাছার নদীতে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রয়েছে। শহরের নিম্নাঞ্চল বাদে অন্য অঞ্চলে তেমন পানি জমে নেই। মানুষের জনজীবন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক।

বাগেরহাট
আরেক উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা আবহাওয়া অফিস। শুক্রবার সকালে জেলায় রোদ উঠেছে এবং জনজীবন স্বাভাবিক আছে।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু

উড়িষ্যায় আঘাত হেনে দুর্বল ‘দানা’, সর্বশেষ পরিস্থিতি

আপডেট সময় ১২:৩১:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৪

ভারতের উড়িষ্যা উপকূলে তাণ্ডব চালিয়ে ধীরে ধীরে শক্তি হারাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’। এখন পর্যন্ত কোথাও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায় স্থলভাগে ঢুকতে শুরু করেছিল ঘূর্ণিঝড়টি। শুক্রবার ভোরে স্থলভাগ অতিক্রম করেছে। স্থলভাগে আঘাত হানার সময় উড়িষ্যা এবং পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে ঝড়ের সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার। তবে শুক্রবার সকালে ঝড়ের তাণ্ডব শেষ হওয়ার পর গতি কিছুটা কমেছে।

ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছে, বর্তমানে উপকূল এলাকায় ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইছে। শক্তি হারিয়ে তা এখন ‘সাধারণ’ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। বিকালের মধ্যে আরও কিছুটা শক্তিক্ষয় করে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে ‘দানা’।

স্যাটেলাইট ইমেজে দানার সর্বশেষ অবস্থান

দানা আছড়ে পড়ার পর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। দিঘা ও সাগরদ্বীপে জলোচ্ছ্বাস হয়েছে। কলকাতায় গভীর রাত থেকে কিছু এলাকায় ঝিরঝির বৃষ্টি হয়েছে ও এখনো হচ্ছে। রাস্তা ডুবে যায়নি। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়নি। গাছপালাও ভেঙে যাওয়ার খবর মেলেনি।

তবে উড়িষ্যার পারাদ্বীপ, পুরি এলাকায় সমুদ্র উত্তাল হয়েছে। জলোচ্ছ্বাসও হয়েছে।সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, গতকাল গভীর রাত থেকেই দিঘা, শঙ্করপুর, তাজপুর, মন্দারমণিসহ হলদিয়া আর সাগরদ্বীপের বেশ কিছু সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের তাণ্ডব চালিয়েছে দানা। বেশ কিছু গাছপালা ভেঙে গেছে।

যদিও নিরাপত্তার কারণে দিঘায় বারবার বন্ধ করতে হয়েছে বিদ্যুতের সরবরাহ। দিঘার সমুদ্রসৈকতের গার্ডওয়াল ছাপিয়ে সমুদ্রের বিশাল বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়েছে রাস্তার ওপর। তবে আগেভাগেই রাজ্য প্রশাসন দিঘা, মন্দারমণি, শঙ্করপুর ও তাজপুর থেকে পর্যটকদের সরিয়ে দেয়।

এদিকে বাংলাদেশের আবহওয়া অধিদপ্তরের শেষ ও ১৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে দমকা/ঝড়ো হওয়া বয়ে যেতে পারে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে শনিবার সকাল পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

তেমন প্রভাব পড়েনি সাতক্ষীরায়

সাতক্ষীরায় ঘূর্ণিঝড় দানার তেমন প্রভাব পড়েনি। শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকে কখনও সূর্যের দেখা মিলছে কখনও মেঘে ঢেকে যাচ্ছে আকাশ।

জেলার উপকূলবর্তী বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা এখন স্বাভাবিক। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে হালকা মাঝারি বৃষ্টি শুরু হয় চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত। সন্ধ্যার দিকে কিছু সময়ের জন্য মাঝারি বৃষ্টি হলেও রাতে বৃষ্টি হয়নি। তবে সামান্য দমকা হাওয়া ছিল।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অধিদফতরের কর্মকর্তা জুলফিকার আলী জানান, জেলায় ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশী দমকা হাওয়া ছিল। তবে আজ শুক্রবার হালকা মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামীকাল শনিবার থেকে আবহাওয়া পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলেও জানান তিনি।

খুলনায় রাতভর বৃষ্টি

ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে খুলনা অঞ্চলে রাতভর ভারী বৃষ্টি হয়েছে। ভোরের আলো ফুটতেই খুলনার আকাশ পরিষ্কার হয়ে ওঠে। এ পর্যন্ত খুলনায় ৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস।

তবে ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাব কেটে দুপুরে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল আজাদ বলেন, ‘দানার প্রভাব কেটেছে। তবে দুপুরে প্রভাবের শেষ ধাক্কা হিসেবে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) ভোর ৬টা পর্যন্ত খুলনায় ৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে।’

খুলনার ভৈরব, রূপসা ও কাজী বাছার নদীতে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রয়েছে। শহরের নিম্নাঞ্চল বাদে অন্য অঞ্চলে তেমন পানি জমে নেই। মানুষের জনজীবন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক।

বাগেরহাট
আরেক উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা আবহাওয়া অফিস। শুক্রবার সকালে জেলায় রোদ উঠেছে এবং জনজীবন স্বাভাবিক আছে।