২০২৪ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত ফলে ১১টি বোর্ডে গড় পাশের হার ৭৭ শমিক ৭৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ শিক্ষার্থী।
আজ মঙ্গলবার সকালে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে একযোগে এ ফল প্রকাশ করা হয়। এবার প্রধান উপদেষ্টা কিংবা শিক্ষা উপদেষ্টা এবার ফল ঘোষণা করেননি। শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা নিজ নিজ বোর্ডের ফল প্রকাশ করেছেন।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার ফলাফলের সারসংক্ষেপ সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান, ৯টি সাধারণ ও মাদরাসা এবং কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। গত বছর ১১টি বোর্ডে গড় পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন। গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৯২ হাজার ৩৬৫ জন শিক্ষার্থী।
১৫ বছরের রীতি ভেঙে ভিন্ন পদ্ধতিতে ফল প্রকাশ
বিগত বছরগুলোতে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে দিতেন। সেখান থেকে তিনি ফল প্রকাশের ঘোষণা দিতেন। এর পর শিক্ষামন্ত্রী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অথবা সচিবালয় থেকে এইচএসসির ফলাফলের বিস্তারিত গণমাধ্যমে তুলে ধরতেন। এ প্রক্রিয়া এক রকম রীতি হয়ে উঠেছিল। এতে অনেক সময় ফল প্রকাশে দেরি হতো। সেই প্রক্রিয়া থেকে এবার বেরিয়ে এসে বোর্ডগুলোকে ফল প্রকাশের ঘোষণা দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
যেভাবে জানা যাবে ফলাফল
শিক্ষার্থীরা অনলাইনে বা মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে তাদের ফলাফল জানতে পারবেন। মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে HSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে আবার স্পেস দিয়ে পাসের বছর লিখে পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে।
উদাহরণ—HSC DHA 123456 2024 লিখে পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে। ফিরতি এসএমএসে জানা যাবে ফলাফল।
এ ছাড়া, http://www.educationboardresults.gov.bd, http://www.eduboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকেও ফলাফল জানা যাবে। রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে প্রবেশ করে ফলাফল শিট ডাউনলোড করা যাবে।
এ বছর এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ৩০ জুন। সাতটি পরীক্ষা হওয়ার পর সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে কয়েক দফায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। তখন পর্যন্ত ছয়টি বিষয়ের পরীক্ষা বাকি ছিল। এ ছাড়া ব্যবহারিক পরীক্ষাও বাকি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়। পরে ১১ আগস্ট থেকে নতুন সময়সূচিতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এর প্রতিবাদে সচিবালয়ের ভেতরে ঢুকে পরীক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও ঘেরাও করলে এবারের এইচএসসি বা সমমানের স্থগিত পরীক্ষাগুলো বাতিল করতে বাধ্য হয় শিক্ষা বিভাগ। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এ বছর অংশ নেন মোট ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৭৯০ শিক্ষার্থী।
ডেস্ক রিপোর্ট 




















