অপু নজরুল, ভ্রমণপিপাসু এবং প্রকৃতিপ্রেমী ও পরিবেশবাদী এক যুবক। দেশজুড়ে ঘুরে বেরিয়ে প্রকৃতি, ইতিহাস আর ভ্রমণের গল্পের কারণে এক আলাদা ধরনের ভক্তকুল আছে তার। প্রায় ৮৮ হাজার ফলোয়ার রয়েছে অপুর। দেশজুড়ে ঘুরে ঘুরে ইতিহাস, ঐতিহ্য, ঐতিহাসিক স্থাপনা, প্রাণ-প্রকৃতি-জীববৈচিত্র্যের কথা সচিত্র তুলে ধরছেন ফেসবুকে, তুলে ধরছেন নানা অসঙ্গগতিও।
এবার এক ফেসবুক পোস্টে অপু নজরুল তুলে ধরেছেন দিন দিন মরতে থাকা শীর্ণ হয়ে আসা করতোয়া নদীর কথা। সঙ্গে প্রকাশ করা ছবিতে দেখালেন একসময়ে প্রাচীন জনপদের জন্ম দেয়া নদীটি এখন দখল-দূষণে কতটা নিঃস্ব-ধ্বংস।
ফেসবুক পোস্টে অপু নজরুল এই বেহাল দশার ছবি দিয়ে লিখেছেন:

“দুই-আড়াই হাজার বছর আগের মহাজনপদ পুন্ড্র বা পুন্ড্রবর্ধনের রাজধানী (বর্তমান মহাস্থানগড়, বগুড়া) ছিলো করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত; হিউয়েন সাং সহ অনেক প্রাচীন বর্ণনায় এই নদীতে বড় বড় জাহাজ চলার বিবরণ পাওয়া গেছে।
করতোয়া ছিল একসময় তিস্তা নদীর একটি শাখা। করতোয়ার মাধ্যমেই তিস্তার জলরাশি গঙ্গা নদীতে প্রবাহিত হতো। সুলতানী আমলে বা মোগলদের বাংলা মুভনেন্টও গঙ্গা হয়ে এই করতোয়ার উপরই নির্ভরশীল ছিলো।
১৭৮৭ সালের ২৭ আগস্ট তিস্তা অববাহিকায় এক প্রলয়ঙ্করী বন্যা হয়। এ বন্যার ফলেই করতোয়ার সঙ্গে তিস্তার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তিস্তার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর করতোয়া তার মূল স্রোতধারা হারিয়ে খর্বকায় হতে থাকে।
তবে বগুড়া শহরের বুকে ছিড়ে যাওয়া করতোয়ার কালাপানিময় নালাসদৃশ যে দৃশ্য দেখলাম তা আসলেই মেনে নেয়ার মত না! দখলের কথা তো বাদই দিলাম!
বগুড়া শহরের বুকে করতোয়া নদী। ”
সূত্র: অপু নজরুলের ফেসবুক পোস্ট।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 










