সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু Logo হাম হলে শিশুকে যেসব খাবার খাওয়াবেন Logo ২২০০ পিঁপড়া পাচার চেষ্টায় চীনা নাগরিকের এক বছরের জেল Logo চট্টগ্রামে নিজেই হাসপাতালে এসে ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা নিলো কাক! Logo বাংলাদেশে প্রতি তিন শিশুর মধ্যে এক জন মারাত্মকভাবে জলবায়ু ঝুঁকির মুখে Logo এপ্রিল এখন পর্যন্ত সহনীয়, দেশে এবছরের গ্রীষ্ম কম ভোগাবে আশা আবহাওয়াবিদের   Logo আজ স্বাধীনতা পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo ‘ধান খাওয়ায়’ মেরে ফেলা হলো বাবুই পাখির ২৯ বাচ্চা, এক জনের কারাদণ্ড Logo পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া Logo জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হতে পারে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

এবার ঢাকাতেও দেখা গেছে বিষাক্ত পার্থেনিয়াম!  

এবার ঢাকাতেও দেখা গেছে বিষাক্ত পার্থেনিয়াম!  

ছোট ছোট সাদা ফুল ঠিক যেন ধনিয়াগাছের মতো। হঠাৎ করে দেখলে যে কেউ ভুল করবেন ধনিয়াগাছ ভেবে। এটি আসলে বিষাক্ত পার্থেনিয়াম আগাছা। ফসলের খেত কিংবা রাস্তার দুধারে এ আগাছাটি বেশি জন্মে। আগাছাটির বেঁচে থাকতে কোনো ধরনের যত্ন-আত্তির প্রয়োজন পড়ে না। খুব সহজেই প্রকৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। এটি উপমহাদেশীয় অঞ্চলের নিজস্ব উদ্ভিদ নয়, আনা হয়েছে মেক্সিকো থেকে। ছড়িয়ে পড়েছে গোটা উপমহাদেশে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা, চীন, পাকিস্তান, নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের ভূখণ্ডে এটি বেশি নজরে পড়ে সীমান্তবর্তী জেলার রাস্তার দুধারে। এ ছাড়াও দেশের অন্যান্য জেলায় কমবেশি দেখা যায়।

এটি ছড়িয়েছে কয়েকভাবে। গরুর গোবর, গাড়ির চাকার সঙ্গে লেপটে, সেচের মাধ্যমে এবং জুতার তলার কাদার সঙ্গে লেপটে। ছড়িয়েছে বাতাসের মাধ্যমেও। অনেকের ধারণা এর বীজ গমের মাধ্যমে আমাদের দেশে এসেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিষাক্ত এই আগাছা উত্তরবঙ্গের কয়েক জেলায় দেখা গেছে। তবে এবার পার্থেনিয়ামের দেখা মিলেছে রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকাতেও!

অপু নজরুলের ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনগ্র্যাব

ভ্রমণপিপাসু এবং প্রকৃতিপ্রেমী ও পরিবেশবাদী যুবক অপু নজরুল এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন: “মিরপুর ডিওএইচএস এর এক কোনায় বিষাক্ত ও আগ্রাসী উদ্ভিদ পার্থেনিয়াম এর আগ্রাসন অবাক করলো। কিছুদিন আগে উত্তরবঙ্গজুড়ে বেশ ভালোমতোই পার্থেনিয়াম ছড়িয়ে পড়েছে দেখলাম; এখন ঢাকাতেও দেখছি! বেশ কিছু বছর আগে আমদানী করা গমের বস্তার মাধ্যমে এই বিষাক্ত উদ্ভিদের বীজ বাংলাদেশে ঢোকে। তারপর গরুর গোবর, বাতাস, গাড়ির চাকার সঙ্গে লেপটে, সেচের মাধ্যমে এবং জুতার তলার কাদার সঙ্গে লেপটে সারাদেশে ছড়িয়েছে।

পার্থেনিয়াম বিষক্রিয়ায় গবাদি পশু ও মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে তাই যত দ্রুত সম্ভব এই উদ্ভিদকে ঢাকা শহর থেকে উচ্ছেদ করতে হবে। সেক্ষেত্রে গাছ পুড়িয়ে পুঁতে ফেলাটাই সমাধান। মিরপুর ডিওএইচএস কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি !”

 

কী এই পার্থেনিয়াম?

পার্থেনিয়াম (Parthenium hysterophorus L) আগাছা Asteraceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি আক্রমণাত্মক ও এক বর্ষজীবী বীরুৎ উদ্ভিদ। উত্তর, মধ্য এবং দক্ষিণ আমেরিকার সাব ট্রপিক্যাল অঞ্চল, মেক্সিকো এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে এর উৎপত্তি। এখন পর্যন্ত পাঁচটি মহাদেশ এবং অসংখ্য দ্বীপসহ বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে বিষাক্ত এ আগাছা। বাংলাদেশে এটি নাকফুল নামে পরিচিত।

গাছ সাধারণত এক থেকে দেড় মিটার উচ্চতার হয়। অসংখ্য শাখা ত্রিভুজের মতো ছড়িয়ে থাকে। ছোট ছোট সাদা ফুল হয়। ঠিক যেন ধনিয়াগাছের ফুল। হঠাৎ করে দেখলে যে কেউ ভুল করবেন ধনিয়াগাছ ভেবে। গাছটির আয়ুষ্কাল মাত্র তিন-চার মাস। এ আয়ুষ্কালের মধ্যে তিনবার ফুল ও বীজ দেয় গাছটি। ফুল সাধারণত গোলাকার, সাদা, পিচ্ছিল হয়। এ গাছ তিন-চার মাসের মধ্যে ৪ থেকে ২৫ হাজার বীজ জন্ম দিতে সক্ষম।

আগাছাটি অত্যন্ত ভয়ংকর। গবাদিপশু চরানোর সময় গায়ে লাগলে পশুর শরীর ফুলে যায়। এছাড়াও তীব্র জ্বর, বদহজমসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়। আর পশুর পেটে গেলে কেমন বিষক্রিয়া হতে পারে তা অনুমেয়। বিশেষ করে গাভী পার্থেনিয়াম খেলে দুধ তিতা হয়। ওই দুধ অনবরত কেউ খেলে সেই মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

শুধু পশুই নয়, আগাছাটি মানুষের হাতে-পায়ে লাগলে চুলকে লাল হয়ে ফুলে যায়। আক্রান্ত মানুষটি ঘনঘন জ্বর, অসহ্য মাথাব্যথা ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগতে থাকে। এমনকি মারাও যেতে পারেন মানুষটি। গণমাধ্যম মারফত জানা যায়, ভারতের পুনেতে পার্থেনিয়ামজনিত বিষক্রিয়ায় ১২ জন মানুষ মারা গেছেন কয়েক বছর আগে।

এতসব ভয়ংকর বিষয় জানতে পেরে পরিবেশবিদরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন তাই এ উদ্ভিদের বিষয়ে। আতঙ্কিত হয়েছেন উপমহাদেশের কৃষিবিদরাও। তারা এটিকে বিষাক্ত আগাছা হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। এটি শুধু বিষাক্তই নয়, যেকোনো ধরনের ফসলের ব্যাপক ক্ষতিও করে। যদি কোনো ফসলের খেতে পার্থেনিয়ামের বিস্তার ঘটে তাহলে ফলন প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু

এবার ঢাকাতেও দেখা গেছে বিষাক্ত পার্থেনিয়াম!  

আপডেট সময় ০১:০৯:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

ছোট ছোট সাদা ফুল ঠিক যেন ধনিয়াগাছের মতো। হঠাৎ করে দেখলে যে কেউ ভুল করবেন ধনিয়াগাছ ভেবে। এটি আসলে বিষাক্ত পার্থেনিয়াম আগাছা। ফসলের খেত কিংবা রাস্তার দুধারে এ আগাছাটি বেশি জন্মে। আগাছাটির বেঁচে থাকতে কোনো ধরনের যত্ন-আত্তির প্রয়োজন পড়ে না। খুব সহজেই প্রকৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। এটি উপমহাদেশীয় অঞ্চলের নিজস্ব উদ্ভিদ নয়, আনা হয়েছে মেক্সিকো থেকে। ছড়িয়ে পড়েছে গোটা উপমহাদেশে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা, চীন, পাকিস্তান, নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের ভূখণ্ডে এটি বেশি নজরে পড়ে সীমান্তবর্তী জেলার রাস্তার দুধারে। এ ছাড়াও দেশের অন্যান্য জেলায় কমবেশি দেখা যায়।

এটি ছড়িয়েছে কয়েকভাবে। গরুর গোবর, গাড়ির চাকার সঙ্গে লেপটে, সেচের মাধ্যমে এবং জুতার তলার কাদার সঙ্গে লেপটে। ছড়িয়েছে বাতাসের মাধ্যমেও। অনেকের ধারণা এর বীজ গমের মাধ্যমে আমাদের দেশে এসেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিষাক্ত এই আগাছা উত্তরবঙ্গের কয়েক জেলায় দেখা গেছে। তবে এবার পার্থেনিয়ামের দেখা মিলেছে রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকাতেও!

অপু নজরুলের ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনগ্র্যাব

ভ্রমণপিপাসু এবং প্রকৃতিপ্রেমী ও পরিবেশবাদী যুবক অপু নজরুল এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন: “মিরপুর ডিওএইচএস এর এক কোনায় বিষাক্ত ও আগ্রাসী উদ্ভিদ পার্থেনিয়াম এর আগ্রাসন অবাক করলো। কিছুদিন আগে উত্তরবঙ্গজুড়ে বেশ ভালোমতোই পার্থেনিয়াম ছড়িয়ে পড়েছে দেখলাম; এখন ঢাকাতেও দেখছি! বেশ কিছু বছর আগে আমদানী করা গমের বস্তার মাধ্যমে এই বিষাক্ত উদ্ভিদের বীজ বাংলাদেশে ঢোকে। তারপর গরুর গোবর, বাতাস, গাড়ির চাকার সঙ্গে লেপটে, সেচের মাধ্যমে এবং জুতার তলার কাদার সঙ্গে লেপটে সারাদেশে ছড়িয়েছে।

পার্থেনিয়াম বিষক্রিয়ায় গবাদি পশু ও মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে তাই যত দ্রুত সম্ভব এই উদ্ভিদকে ঢাকা শহর থেকে উচ্ছেদ করতে হবে। সেক্ষেত্রে গাছ পুড়িয়ে পুঁতে ফেলাটাই সমাধান। মিরপুর ডিওএইচএস কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি !”

 

কী এই পার্থেনিয়াম?

পার্থেনিয়াম (Parthenium hysterophorus L) আগাছা Asteraceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি আক্রমণাত্মক ও এক বর্ষজীবী বীরুৎ উদ্ভিদ। উত্তর, মধ্য এবং দক্ষিণ আমেরিকার সাব ট্রপিক্যাল অঞ্চল, মেক্সিকো এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে এর উৎপত্তি। এখন পর্যন্ত পাঁচটি মহাদেশ এবং অসংখ্য দ্বীপসহ বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে বিষাক্ত এ আগাছা। বাংলাদেশে এটি নাকফুল নামে পরিচিত।

গাছ সাধারণত এক থেকে দেড় মিটার উচ্চতার হয়। অসংখ্য শাখা ত্রিভুজের মতো ছড়িয়ে থাকে। ছোট ছোট সাদা ফুল হয়। ঠিক যেন ধনিয়াগাছের ফুল। হঠাৎ করে দেখলে যে কেউ ভুল করবেন ধনিয়াগাছ ভেবে। গাছটির আয়ুষ্কাল মাত্র তিন-চার মাস। এ আয়ুষ্কালের মধ্যে তিনবার ফুল ও বীজ দেয় গাছটি। ফুল সাধারণত গোলাকার, সাদা, পিচ্ছিল হয়। এ গাছ তিন-চার মাসের মধ্যে ৪ থেকে ২৫ হাজার বীজ জন্ম দিতে সক্ষম।

আগাছাটি অত্যন্ত ভয়ংকর। গবাদিপশু চরানোর সময় গায়ে লাগলে পশুর শরীর ফুলে যায়। এছাড়াও তীব্র জ্বর, বদহজমসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়। আর পশুর পেটে গেলে কেমন বিষক্রিয়া হতে পারে তা অনুমেয়। বিশেষ করে গাভী পার্থেনিয়াম খেলে দুধ তিতা হয়। ওই দুধ অনবরত কেউ খেলে সেই মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

শুধু পশুই নয়, আগাছাটি মানুষের হাতে-পায়ে লাগলে চুলকে লাল হয়ে ফুলে যায়। আক্রান্ত মানুষটি ঘনঘন জ্বর, অসহ্য মাথাব্যথা ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগতে থাকে। এমনকি মারাও যেতে পারেন মানুষটি। গণমাধ্যম মারফত জানা যায়, ভারতের পুনেতে পার্থেনিয়ামজনিত বিষক্রিয়ায় ১২ জন মানুষ মারা গেছেন কয়েক বছর আগে।

এতসব ভয়ংকর বিষয় জানতে পেরে পরিবেশবিদরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন তাই এ উদ্ভিদের বিষয়ে। আতঙ্কিত হয়েছেন উপমহাদেশের কৃষিবিদরাও। তারা এটিকে বিষাক্ত আগাছা হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। এটি শুধু বিষাক্তই নয়, যেকোনো ধরনের ফসলের ব্যাপক ক্ষতিও করে। যদি কোনো ফসলের খেতে পার্থেনিয়ামের বিস্তার ঘটে তাহলে ফলন প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।