আজারবাইজানের বাকুতে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের কর্মসূচীতে উঠে আসে, বিদ্যমান জ্বালানী নীতি পর্যালোচনা ও জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক উৎপাদন থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা। কিন্তু নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনেও প্রাণ-প্রকৃতির কিছু ঝুঁকির কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে উইন্ড টারবাইনের মাধ্যমে বায়ুবিদ্যুৎ এবং পানি প্রবাহ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে পাখি-মাছের জন্য ঝুঁকির বিষয়গুলো পর্যালোচনার দাবি রাখে। প্রাণ-প্রকৃতির জন্য আপাতত অপেক্ষাকৃত নিরাপদ হিসেবে সৌরবিদ্যুতে জোর দেওয়া হচ্ছে।
প্রাণ-প্রকৃতি বাঁচিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন করা এবং দূরদর্শীতার প্রয়োজন বলে মনে করেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু। আজারবাইজানের বাকুতে সম্মেলনের ৯ম দিনের কর্মসূচির ফাঁকে তিনি বলেন, ‘এবারের সম্মেলনে আমরা কিভাবে নবায়নযোগ্য শক্তিকে এগিয়ে নেবো তা নিয়ে কথা হয়েছে। এখানে কথার মধ্যে কিছু ব্যাপার উঠে এসেছে। বায়ু বিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনে যে উইন্ড টারবাইন, সেগুলোর মাধ্যমে পরিযায়ী পাখিরদের ক্ষতি হচ্ছে বলে আলোচকরা বলছেন। প্রতিবেশগত প্রভাব আরও রয়েছে, যেমন হাইড্রোইলেকট্রিসিটি উৎপাদন করতে গিয়ে মাছেরও ক্ষতি হচ্ছে। সুতরাং নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে আমাদের ভাবতে হবে যে তা পরিবেশের কতটুকু লাভ এবং ক্ষতি হচ্ছে।’

এখন সৌরবিদ্যুতে জোর দেয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আলোচনায় সোলারপ্যানেলে জোর দেওয়া হয়েছে, বলা হচ্ছে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল উইন্ড টারবাইন এবং হাইড্রোইলেকট্রিসিটির চেয়ে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ।’
এবারের জলবায়ু সম্মেলনে জ্বালানী রূপান্তর বেশ আলোচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে স্বল্পোন্নত-উন্নয়নশীল দেশগুলোর রূপান্তরে ধনী দেশগুলোর অর্থায়নেও জোর দেয়া হয়েছে।
কপ ২৯ এর উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায়, অভিঘাত মোকাবেলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রতি বছর প্রয়োজনীয় ১ ট্রিলিয়ন অর্থের যোগানে ধনী দেশগুলোর উপর কোন চাপও তৈরি হবেনা বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবীদরা। উন্নয়ন ব্যাংক আর বেসরকারি খাতেই সমাধানের রূপরেখা দেখছেন তারা।
বৈশ্বিক শক্তি ব্যবস্থার রূপান্তরের পাশাপাশি কার্বন নির্গমন কমানোর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগে গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশবীদরা।
(বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনে ধুঁকতে থাকা বিশ্বকে আশার বার্তা দিতে শুরু হয়েছে এবছরের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কপ ২৯। আজারবাইজানের বাকুতে ১১ থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই সম্মেলন। জলবায়ু পরিবর্তন রোধের বৈশ্বিক প্রচেষ্টার এই সম্মেলনে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও চ্যানেল আইয়ের পরিচালক মুকিত মজুমদার বাবুর নেতৃত্বে অংশ নিচ্ছেন ফাউন্ডেশনের এনভায়রনমেন্ট মিডিয়া কনটেন্ট স্পেশালিস্ট শাফরিনা খাতুন , সিনিয়র ক্যামেরাপার্সন বিল্লাল হাওলাদার এবং চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি আলীম আল রাজি ।
কপ ২৯ সম্মেলনস্থল বাকু,আজারবাইজান থেকে প্রতিদিনের সংবাদ পাঠাচ্ছেন তারা। প্রতিবেদনগুলো নিয়মিত প্রকাশ করছে প্রকৃতিবার্তা অনলাইন।)
প্রকৃতি ও জীবন 




















