ব্রাজিলের বেলেমে জাতিসংঘ বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে জলবায়ু অর্থায়ন এবং দেশগুলোর জাতীয় নির্গমন হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে গুরুত্বারোপ করা হয়। দিনটিকে অভিযোজন, বিজ্ঞান এবং টেকসই অবকাঠামোর থিম্যাটিক দিবস হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়। প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা বজায় রাখতে বিশ্বকে ২০৩৫ সালের মধ্যে নির্গমন ৬৫ শতাংশ কমানো উচিত হলেও, বর্তমান এনডিসি পরিকল্পনাগুলি মাত্র প্রায় ১০ শতাংশ হ্রাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা নিতান্তই অপর্যাপ্ত বলছেন বিশ্লেষকরা।
এবারের সম্মেলনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অস্বাভাবিক অনুপস্থিতির সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগ হয়েছে আদিবাসী ও পরিবেশকর্মীদের জোরালো বিক্ষোভ, সংঘর্ষ। এরই মধ্যে দেয়া হচ্ছে প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা পূরণের তাগিদ।
দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় দুর্বল ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। সেসময় তারা বৈশ্বিক উষ্ণতা দেড় ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্যকে লাইফলাইন তথা জীবনরেখা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, দেড় ডিগ্রির লক্ষ্য অতিক্রম করলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ছাড়াও বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ের মতো বিশ্বজুড়ে একাধিক বিপর্যয়কর পরিবর্তন ঘটবে।
নেকম-এর নির্বাহী পরিচালক মঞ্জুরুল হান্নান খান বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো জলবায়ুগত দুর্ভোগে আক্রান্ত যেসব দেশ আছে সেসব দেশে পর্যাপ্ত অর্থ অর্থাৎ লস এন্ড ড্যামেজ ভিত্তিতে অর্থ পাওয়া, অভিযোজন, দক্ষতা বৃদ্ধিতে যত অর্থ দরকার তা পাওয়া যায়নি। অথচ এসব আমরা আশা করেছিলাম।’
এমন বাস্তবতায় বৈশ্বিক বিপর্যয় এড়াতে বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন অপসারণ জরুরি বলছেন পরিবেশবিদরা।
ব্রাজিলে জলবায়ু সম্মেলনের ত্রিশতম আসরে অংশ নিচ্ছেন প্রকৃতিবন্ধু মুকিত মজুমদার বাবু। তিনি বলেন, ‘বেলেমে এই জলবায়ু সম্মেলনে যে বিষয়টি জোরেশোরে উঠে আসছে সেটি হলো- জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে যথাযথ অভিযোজন, প্রশমন এবং ন্যায্য রূপান্তর। এখানে একটি কথাই সবাই বার বার বলছে যে, এই যে বছর বছর আমরা আলোচনা করেই সময়ক্ষেপণ না করে এখন থেকে যেন দ্রুততার সাথে সমাধানের দিকে যাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবাই জোর দিয়ে বলছে আমরা জলবায়ু নিয়ে সম্মেলন করে ৩০ বছর পার করে ফেলেছি। এখন চূড়ান্ত কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে সমাধানের দিকে আসার সময়।’
পরিস্থিতি বলছে, সম্মেলনের আগামী দিনগুলোতে অর্থায়ন ও জীবাশ্ম জ্বালানি পরিহারের মতো কঠিন বিষয়গুলোতে চুক্তি সইয়ের জন্য চাপ বাড়বে।
প্রতিবেদন: মোশাহিদ রনি
ভিডিওচিত্র: মেহেদী হাসান
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 










