বাংলাদেশে শালিক পাখি অত্যন্ত পরিচিত এবং প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ । এরা মূলত Sturnidae (স্টার্নিডি) পরিবারের অন্তর্ভুক্ত বুদ্ধিমান ও মাঝারি আকারের পাখি। সারা বিশ্বে শালিকের প্রায় ১০৪টি প্রজাতি থাকলেও বাংলাদেশে মোট ১১টি প্রজাতি দেখা যায়, যার মধ্যে ৮টি স্থানীয় এবং ৩ টি পরিযায়ী বা অতিথি।
ভাত শালিক
ভাত শালিক বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচিত শালিক। দৈর্ঘ্য সাধারণত ২৩–২৬ সেমি। গা বাদামি, মাথা ও বুক কালো; চোখের পেছনে উজ্জ্বল হলুদ পালকহীন চামড়া, ঠোঁট ও পা হলুদ। উন্মুক্ত বন, কৃষিজমি, বাজার–বসতি—সবখানেই মানিয়ে নিতে পারে। খাদ্য সর্বভুক: পোকামাকড়, ফল, শস্য, মানুষের ফেলে দেওয়া খাবার। মার্চ–সেপ্টেম্বর প্রজননকাল; গাছের কোটর, দালানের ফাঁক বা ভেন্টিলেটরে খড়–কাগজ দিয়ে বাসা বানায়; ৪–৬টি নীল ডিম। বাংলাদেশের সব বিভাগেই অত্যন্ত সাধারণ আবাসিক পাখি।
গো শালিক
আকারে প্রায় ২২ সেমি; কালো-সাদা দেহ, চোখের চারপাশে লাল/কমলা খালি চামড়া, ঠোঁট হলুদে লাল গোড়া। জলাভূমি ও কৃষিজমির কাছে থাকতে পছন্দ করে, গবাদি পশুর আশেপাশে পোকা খায়। মার্চ–সেপ্টেম্বর প্রজনন; বড় গাছে খড়–ঘাসে অগোছালো গম্বুজ বাসা বানায়; ৪–৬টি নীল ডিম পাড়ে। সারা বাংলাদেশেই খুব সাধারণ।
গাং শালিক
ভাত শালিকের চেয়ে কিছুটা ছোট; দেহ স্লেট-ধূসর, চোখের পেছনে ইট-লাল খালি চামড়া। নদীর খাড়া পাড়ে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে কলোনি বাসা বানানো এদের বিশেষত্ব। এরা সর্বভুক মানে সব খায়। এপ্রিল–জুলাই প্রজনন করে। পদ্মা–মেঘনা অববাহিকা ও উত্তরাঞ্চলের নদী তীরে বেশি দেখা যায়।
ঝুঁটি শালিক
আকারে প্রায় ২৩ সেমি; গাঢ় ধূসর দেহ, ঠোঁটের উপরে ছোট পালকের ঝুঁটি। চোখের চারপাশে ভাত শালিকের মতো হলুদ খালি চামড়া নেই। বনপ্রান্ত, চা-বাগান ও বসতির কাছে বিচরণ। ৪–৬টি ফিরোজা ডিম গাছের কোটর/দালানের ফাঁকে পাড়ে। উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বেশি, তবে অন্যত্রও দেখা যায়।
কাঠ শালিক
এরা দেখতে বেশ সুন্দর, আকারে প্রায় ২০ সেমি; ধূসর দেহ, তলদেশ তামাটে, লেজ চেস্টনাট-বাদামি। বৃক্ষচারী; বনের প্রান্ত ও গ্রামাঞ্চলের বড় গাছে থাকে। ফল ও ফুলের মধু প্রধান খাদ্য। পলাশ ফুলের মৌসুমে এদের গাছে গাছে দেখা যায় বেশি। গাছের কোটরে বাসা। বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় আবাসিক।
বামুনি কাঠ শালিক
মাথায় লম্বা কালো সিল্কি ঝুঁটি; দেহ হালকা তামাটে-ক্রিম, ডানা ধূসর; ঠোঁট নীল-হলুদ। বাগান, পার্ক ও শুষ্ক খোলা এলাকায় স্বচ্ছন্দ। ফল, মধু ও পোকা খায়। উত্তর ও উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশে তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
এশীয় তেল শালিক বা কালো শালিক
এশীয় তেলশালিক (বৈজ্ঞানিক নাম: Aplonis panayensis) স্টারনিডি পরিবারের অন্তর্গত এক প্রজাতির ছোট-মাঝারি আকারের বৃক্ষচর পাখি, যা বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পাওয়া যায়]। এদের শরীর তেলচিকচিকে কালচে-সবুজ বা কালো রঙের এবং চোখ গাঢ় লাল । এরা সাধারণত ফল ও ফুলের মধু খেয়ে থাকে। পাখিটি বর্তমানে অত্যন্ত বিরল।
পাহাড়ি ময়না
পাহাড়ি এই শালিক বাংলাদেশে পরিচিত ময়না পাখি নামে। এর আকার প্রায় ২৯ সেমি লম্বা, চকচকে কালো পালকে সবুজ/বেগুনি আভা। মাথার পাশে উজ্জ্বল হলুদ মাংসল ওয়াটল, ঠোঁট লাল-হলুদ দ্বিবর্ণ। আর্দ্র চিরহরিৎ পাহাড়ি বনে বৃক্ষচারী জীবন। ফলভোজী (বিশেষত ডুমুর), সঙ্গে কীটপতঙ্গ। এপ্রিল–জুলাই প্রজনন; উঁচু গাছের কোটরে ২–৩টি ডিম। বাংলাদেশে চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহের পাহাড়ি বনে দেখা যায়। এরা খুব দ্রুত মানুষের কাছ থেকে কথা শিখে নিতে ওস্তাদ; এজন্য অবৈধ পাখি বাণিজ্যের কারণে স্থানীয়ভাবে হ্রাসমান।
এরা ছাড়াও শীতকালে এদেশে আসে এমন ৩ টি প্রজাতি হলো:
- গোলাপি শালিক
- চিত্রা শালিক
- বেগুনী পিঠ শালিক
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 



















