বাংলাদেশে কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয়, কেন?

বাংলাদেশে কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয়, কেন?

গ্রীষ্ম এলে অথবা প্রাক বর্ষায় বাংলাদেশে একটি প্রাণঘাতী দুর্যোগের আধিক্য দেখা যায়, সেটি হলো বজ্রপাত। গুরুতর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশে ২০১৬ সালের মে মাসে বজ্রপাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এবছর ২৬ এপ্রিলে একদিনেই দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১২-১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ২৭ এপ্রিল নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নোয়াখালীতে আরও ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বজ্রপাতের এই প্রাণঘাতী দুর্যোগ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা, এতে কোন কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত ও প্রাণহানী ঘটে এবং কেন এসব জেলায় এত বজ্রপাত হয় তা তুলে ধরা হয়েছে।

 

যেখানে সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, বাংলাদেশের সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলায় সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয়। জেলার ভেতরে জামালগঞ্জ উপজেলাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। গত এক দশকে বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে এই উপজেলাতেই।

এর বাইরে নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মৌলভীবাজার, রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, ফরিদপুর, মাদারীপুর, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, বরিশালের খেপুপাড়াসহ আরও কিছু এলাকায় তুলনামূলক বেশি বজ্রপাত হয়।

 

কেন?

মূলত, ভৌগোলিক অবস্থান ও আবহাওয়াগত বৈশিষ্ট্যের কারণে সিলেটে বজ্রপাত বেশি ঘটে। এর ব্যাখ্যায় আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, “জলীয় বাষ্প সমৃদ্ধ এলাকার আশেপাশেই বজ্রপাত বেশি হয়। এক্ষেত্রে সিলেট অঞ্চলে বড় বড় হাওড় রয়েছে, যা থেকে প্রচুর জলীয়বাষ্প তৈরি হয়। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয়বাষ্প সমৃদ্ধ বাতাস দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে সিলেট অঞ্চলে প্রবেশ করে। এই আর্দ্র বাতাস সিলেটের উত্তর-পূর্ব দিকের পাহাড়ের সঙ্গে সংঘর্ষে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে দ্রুত উপরের দিকে উঠে যায়।”

এই উর্ধ্বগামী আর্দ্র বাতাস ঠান্ডা হয়ে ঘনীভূত হলে মেঘ তৈরি হয়, বিশেষ করে কিউমুলোনিম্বাস বা বজ্রমেঘ। এই প্রক্রিয়াই বজ্রঝড় ও বজ্রপাতের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।

এছাড়া, উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শুষ্ক ও গরম বাতাসের সঙ্গে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্র বাতাসের সংঘর্ষও বজ্রপাতের একটি বড় কারণ।

এই দুই ধরনের বাতাসের মিলনস্থল হিসেবে সিলেটসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দেশের কিছু উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পাহাড়ি অঞ্চল এবং হিমালয়ের পাদদেশ ঘিরে যে আবহাওয়াগত ব্যবস্থা তৈরি হয়, তার প্রভাবও বাংলাদেশে পড়ে।

সব মিলিয়ে, হাওড়ের জলীয় বাষ্প, পাহাড়ের বাধা, এবং ভিন্ন ধরনের বায়ুপ্রবাহের সংঘর্ষ– এই তিনটি প্রধান কারণে সিলেট ও আশপাশের এলাকায় বজ্রপাতের প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

 

যত প্রাণহানী

বিবিসি বাংলা বলছে: বাংলাদেশে এক দশকে বজ্রপাতে সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর তথ্য দিচ্ছে সরকারি সূত্রগুলো। দশ বছর আগে এটিকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হলেও প্রাণহানি থেমে নেই। এখনও প্রায় প্রতি বছরই বাংলাদেশে শতাধিক মানুষ বজ্রপাতে প্রাণ হারাচ্ছেন।

বাংলাদেশে সাধারণত মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বজ্রঝড়-বজ্রপাত হয় এবং এই দুর্যোগ সবচেয়ে বেশি হয় দেশের উত্তর-পূর্ব দিকের অঞ্চল সিলেটে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে সিলেটেই।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মাঝে বাংলাদেশে বজ্রপাতে মারা গেছে মোট তিন হাজার ৬৫৮ জন।

বজ্রপাতে মৃত্যুর সেই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত এক দশকে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে ওঠানামা করেছে এবং একটি সময় পর্যন্ত এর প্রবণতা ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এর মাঝে ২০১৫ সালে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২২৬ জন। পরের বছর ২০১৬ সালে এটি বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯১ জনে। ২০১৭ সালে কিছুটা কমে ৩৮৮ জন হলেও ২০১৮ সালে আরও কমে ৩৫৯ জনে নেমে আসে।

এরপর ২০১৯ সালে আবার বৃদ্ধি পেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ৪০১ জনে এবং ২০২০ সালে সর্বোচ্চ ৪২৭ জনে পৌঁছায়। অর্থাৎ, এই সময়টিতে বজ্রপাতজনিত মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। তবে ২০২১ সাল থেকে ধীরে ধীরে বজ্রপাতে মৃত্যু কমার প্রবণতা দেখা যায়। ওই বছর ৩৬৩ জন, ২০২২ সালে ৩৩৭ জন এবং ২০২৩ সালে ৩২২ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালে এটি আরও কমে ২৭১ জনে নেমে আসে এবং ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে দাঁড়ায় ১৭৩ জনে।

আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক এ প্রসঙ্গে বিবিসি বাংলাকে বলেন, চলতি বছরেও এখন পর্যন্ত বজ্রপাতে ২৮ থেকে ৩০ জন মানুষ মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সামগ্রিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২০ সালের পর থেকে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে।

এর পেছনে ‘২০১৯-২০২০ সাল থেকে বজ্রপাতের দুই- চার ঘণ্টা আগে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে দেওয়া আগাম সতর্কতা, সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ’ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন এই আবহাওয়াবিদ।

তবে তিনি এটিও বলেন যে, পর্যাপ্ত তথ্য না থাকার কারণে এটি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব না যে এখন বজ্রপাতে মারা যাওয়ার হার ২০১৫ সালের আগের সময়ের তুলনায় বেশি নাকি কম।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

ঢাবি শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তীকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি

বাংলাদেশে কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয়, কেন?

আপডেট সময় ০২:১৭:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

গ্রীষ্ম এলে অথবা প্রাক বর্ষায় বাংলাদেশে একটি প্রাণঘাতী দুর্যোগের আধিক্য দেখা যায়, সেটি হলো বজ্রপাত। গুরুতর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশে ২০১৬ সালের মে মাসে বজ্রপাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এবছর ২৬ এপ্রিলে একদিনেই দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১২-১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ২৭ এপ্রিল নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নোয়াখালীতে আরও ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বজ্রপাতের এই প্রাণঘাতী দুর্যোগ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা, এতে কোন কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত ও প্রাণহানী ঘটে এবং কেন এসব জেলায় এত বজ্রপাত হয় তা তুলে ধরা হয়েছে।

 

যেখানে সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, বাংলাদেশের সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলায় সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয়। জেলার ভেতরে জামালগঞ্জ উপজেলাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। গত এক দশকে বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে এই উপজেলাতেই।

এর বাইরে নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মৌলভীবাজার, রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, ফরিদপুর, মাদারীপুর, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, বরিশালের খেপুপাড়াসহ আরও কিছু এলাকায় তুলনামূলক বেশি বজ্রপাত হয়।

 

কেন?

মূলত, ভৌগোলিক অবস্থান ও আবহাওয়াগত বৈশিষ্ট্যের কারণে সিলেটে বজ্রপাত বেশি ঘটে। এর ব্যাখ্যায় আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, “জলীয় বাষ্প সমৃদ্ধ এলাকার আশেপাশেই বজ্রপাত বেশি হয়। এক্ষেত্রে সিলেট অঞ্চলে বড় বড় হাওড় রয়েছে, যা থেকে প্রচুর জলীয়বাষ্প তৈরি হয়। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয়বাষ্প সমৃদ্ধ বাতাস দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে সিলেট অঞ্চলে প্রবেশ করে। এই আর্দ্র বাতাস সিলেটের উত্তর-পূর্ব দিকের পাহাড়ের সঙ্গে সংঘর্ষে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে দ্রুত উপরের দিকে উঠে যায়।”

এই উর্ধ্বগামী আর্দ্র বাতাস ঠান্ডা হয়ে ঘনীভূত হলে মেঘ তৈরি হয়, বিশেষ করে কিউমুলোনিম্বাস বা বজ্রমেঘ। এই প্রক্রিয়াই বজ্রঝড় ও বজ্রপাতের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।

এছাড়া, উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শুষ্ক ও গরম বাতাসের সঙ্গে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্র বাতাসের সংঘর্ষও বজ্রপাতের একটি বড় কারণ।

এই দুই ধরনের বাতাসের মিলনস্থল হিসেবে সিলেটসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দেশের কিছু উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পাহাড়ি অঞ্চল এবং হিমালয়ের পাদদেশ ঘিরে যে আবহাওয়াগত ব্যবস্থা তৈরি হয়, তার প্রভাবও বাংলাদেশে পড়ে।

সব মিলিয়ে, হাওড়ের জলীয় বাষ্প, পাহাড়ের বাধা, এবং ভিন্ন ধরনের বায়ুপ্রবাহের সংঘর্ষ– এই তিনটি প্রধান কারণে সিলেট ও আশপাশের এলাকায় বজ্রপাতের প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

 

যত প্রাণহানী

বিবিসি বাংলা বলছে: বাংলাদেশে এক দশকে বজ্রপাতে সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর তথ্য দিচ্ছে সরকারি সূত্রগুলো। দশ বছর আগে এটিকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হলেও প্রাণহানি থেমে নেই। এখনও প্রায় প্রতি বছরই বাংলাদেশে শতাধিক মানুষ বজ্রপাতে প্রাণ হারাচ্ছেন।

বাংলাদেশে সাধারণত মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বজ্রঝড়-বজ্রপাত হয় এবং এই দুর্যোগ সবচেয়ে বেশি হয় দেশের উত্তর-পূর্ব দিকের অঞ্চল সিলেটে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে সিলেটেই।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মাঝে বাংলাদেশে বজ্রপাতে মারা গেছে মোট তিন হাজার ৬৫৮ জন।

বজ্রপাতে মৃত্যুর সেই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত এক দশকে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে ওঠানামা করেছে এবং একটি সময় পর্যন্ত এর প্রবণতা ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এর মাঝে ২০১৫ সালে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২২৬ জন। পরের বছর ২০১৬ সালে এটি বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯১ জনে। ২০১৭ সালে কিছুটা কমে ৩৮৮ জন হলেও ২০১৮ সালে আরও কমে ৩৫৯ জনে নেমে আসে।

এরপর ২০১৯ সালে আবার বৃদ্ধি পেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ৪০১ জনে এবং ২০২০ সালে সর্বোচ্চ ৪২৭ জনে পৌঁছায়। অর্থাৎ, এই সময়টিতে বজ্রপাতজনিত মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। তবে ২০২১ সাল থেকে ধীরে ধীরে বজ্রপাতে মৃত্যু কমার প্রবণতা দেখা যায়। ওই বছর ৩৬৩ জন, ২০২২ সালে ৩৩৭ জন এবং ২০২৩ সালে ৩২২ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালে এটি আরও কমে ২৭১ জনে নেমে আসে এবং ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে দাঁড়ায় ১৭৩ জনে।

আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক এ প্রসঙ্গে বিবিসি বাংলাকে বলেন, চলতি বছরেও এখন পর্যন্ত বজ্রপাতে ২৮ থেকে ৩০ জন মানুষ মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সামগ্রিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২০ সালের পর থেকে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে।

এর পেছনে ‘২০১৯-২০২০ সাল থেকে বজ্রপাতের দুই- চার ঘণ্টা আগে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে দেওয়া আগাম সতর্কতা, সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ’ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন এই আবহাওয়াবিদ।

তবে তিনি এটিও বলেন যে, পর্যাপ্ত তথ্য না থাকার কারণে এটি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব না যে এখন বজ্রপাতে মারা যাওয়ার হার ২০১৫ সালের আগের সময়ের তুলনায় বেশি নাকি কম।