কপ ৩০: তৃতীয় দিন শেষ হয়েছে ঘোষণা, বিতর্ক, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায়

কপ ৩০: তৃতীয় দিন শেষ হয়েছে ঘোষণা, বিতর্ক, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায়

ব্রাজিলের বেলেমে চলমান জাতিসংঘ বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের তৃতীয় দিন শেষ হয়েছে ঘোষণা, বিতর্ক ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায়। সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং জলবায়ু বিষয়ক আইনজীবি আল গোরের কড়া মন্তব্য, জলবায়ু পরিবর্তনের তথ্যের অখণ্ডতা সংক্রান্ত ঘোষণা, ন্যায্য রূপান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কসহ বিভিন্ন প্রস্তাব ও আলোচনায় সমর্থন এবং বিরোধিতা ছিলো আলোচনার কেন্দ্রে।

 

প্রাণ-প্রকৃতি তথা বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে পরিবেশকর্মি ও আদিবাসীদের আন্দোলনের বার্তা, ব্রাজিলের আমাজান অধ্যুষিত বেলেম পেরিয়ে কড়া নেড়েছে বিশ্বজুড়ে।

 

বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়তে দেওয়াকে “আক্ষরিক অর্থেই পাগলামি” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর। সেসময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্যাটেলাইট নির্ভর ‘ক্লাইমেট ট্রেস’ নামক নতুন প্রকল্পের ঘোষণা দেন। যার মাধ্যমে কার্বন নির্গমনের উৎস চিহ্নিত করার পাশাপাশি দেশগুলোকে তাদের জাতীয় জলবায়ু পরিকল্পনা-এনডিসি হালনাগাদে সহায়তা করবে।

 

জলবায়ু সংক্রান্ত ভুল তথ্য মোকাবিলয় প্রথমবারের মত ব্রাজিল, কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স ও সুইডেনসহ ১২টি দেশ ‘জলবায়ু পরিবর্তনের তথ্যের অখণ্ডতা সংক্রান্ত ঘোষণা’য় স্বাক্ষর করেছে। বিশেষজ্ঞেরা এটিকে জলবায়ু অগ্রগতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

 

সম্মেলনে অংশ নিতে ব্রাজিলের বেলেমে আছেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু। তিনি সম্মেলন ভেন্যু থেকে বলেন, ‘আমরা যারা এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছি তারা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নিজ নিজ দেশের ভোগান্তি, পরিবেশ-প্রকৃতির কথা তুলে ধরছি। এগুলোর মধ্যে জলবায়ু ন্যায়বিচার অন্যতম। আমাদের জলবায়ু পরিবর্তন আক্রান্তদের জন্য স্বল্পমূল্যে পরিবেশবান্ধব হাউজিং নিয়ে সম্মেলনের সাইড ইভেন্টে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ডান্ডি ইউনিভার্সিটি কথা বলেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০২৫ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার যে লক্ষ্যমাত্রা ছিলো সেটা আমরা পূরণ করতে পারিনি। তবে আশার কথা হলো ২০৩০ সালের দিকে চীন এব্যাপারে তাদের তরফ থেকে একটা ভালো খবর দেবে। আসলে বিভিন্ন দেশ কার্বন নিঃসরণ করছে, তারা যখনই এটা কমিয়ে আনবে তখনই আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারবো।’

 

সব মিলিয়ে, তৃতীয় দিনে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় প্রযুক্তি, তথ্যের অখণ্ডতা এবং একটি কার্যকর ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বৈশ্বিক বিভাজন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

 

 

 

প্রতিবেদন: মোশাহিদ রনি

ভিডিওচিত্র: মেহেদী হাসান

 

 

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

তামিমকে নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দেখতে চান সাকিব আল হাসান

কপ ৩০: তৃতীয় দিন শেষ হয়েছে ঘোষণা, বিতর্ক, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায়

আপডেট সময় ০৭:০৩:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

ব্রাজিলের বেলেমে চলমান জাতিসংঘ বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের তৃতীয় দিন শেষ হয়েছে ঘোষণা, বিতর্ক ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায়। সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং জলবায়ু বিষয়ক আইনজীবি আল গোরের কড়া মন্তব্য, জলবায়ু পরিবর্তনের তথ্যের অখণ্ডতা সংক্রান্ত ঘোষণা, ন্যায্য রূপান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কসহ বিভিন্ন প্রস্তাব ও আলোচনায় সমর্থন এবং বিরোধিতা ছিলো আলোচনার কেন্দ্রে।

 

প্রাণ-প্রকৃতি তথা বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে পরিবেশকর্মি ও আদিবাসীদের আন্দোলনের বার্তা, ব্রাজিলের আমাজান অধ্যুষিত বেলেম পেরিয়ে কড়া নেড়েছে বিশ্বজুড়ে।

 

বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়তে দেওয়াকে “আক্ষরিক অর্থেই পাগলামি” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর। সেসময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্যাটেলাইট নির্ভর ‘ক্লাইমেট ট্রেস’ নামক নতুন প্রকল্পের ঘোষণা দেন। যার মাধ্যমে কার্বন নির্গমনের উৎস চিহ্নিত করার পাশাপাশি দেশগুলোকে তাদের জাতীয় জলবায়ু পরিকল্পনা-এনডিসি হালনাগাদে সহায়তা করবে।

 

জলবায়ু সংক্রান্ত ভুল তথ্য মোকাবিলয় প্রথমবারের মত ব্রাজিল, কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স ও সুইডেনসহ ১২টি দেশ ‘জলবায়ু পরিবর্তনের তথ্যের অখণ্ডতা সংক্রান্ত ঘোষণা’য় স্বাক্ষর করেছে। বিশেষজ্ঞেরা এটিকে জলবায়ু অগ্রগতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

 

সম্মেলনে অংশ নিতে ব্রাজিলের বেলেমে আছেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু। তিনি সম্মেলন ভেন্যু থেকে বলেন, ‘আমরা যারা এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছি তারা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নিজ নিজ দেশের ভোগান্তি, পরিবেশ-প্রকৃতির কথা তুলে ধরছি। এগুলোর মধ্যে জলবায়ু ন্যায়বিচার অন্যতম। আমাদের জলবায়ু পরিবর্তন আক্রান্তদের জন্য স্বল্পমূল্যে পরিবেশবান্ধব হাউজিং নিয়ে সম্মেলনের সাইড ইভেন্টে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ডান্ডি ইউনিভার্সিটি কথা বলেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০২৫ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার যে লক্ষ্যমাত্রা ছিলো সেটা আমরা পূরণ করতে পারিনি। তবে আশার কথা হলো ২০৩০ সালের দিকে চীন এব্যাপারে তাদের তরফ থেকে একটা ভালো খবর দেবে। আসলে বিভিন্ন দেশ কার্বন নিঃসরণ করছে, তারা যখনই এটা কমিয়ে আনবে তখনই আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারবো।’

 

সব মিলিয়ে, তৃতীয় দিনে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় প্রযুক্তি, তথ্যের অখণ্ডতা এবং একটি কার্যকর ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বৈশ্বিক বিভাজন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

 

 

 

প্রতিবেদন: মোশাহিদ রনি

ভিডিওচিত্র: মেহেদী হাসান