ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য হরিয়ানায় জমিতে খড় পোড়ানোর অপরাধে ১৬ জন কৃষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজধানী দিল্লির বায়ু দূষণ রোধে আশপাশে খড় পোড়ানো আইনত দণ্ডনীয়। দিল্লির বায়ুদূষণ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে এই ধরনের খড় পোড়ানোকে দায়ী করা হয়। যার কারণে প্রতি শীতেই দিল্লির বায়ুদূষণ বিশ্বের সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হয়।
প্রতি বছর এই সময়ে সেখানে তাপমাত্রা কমে যায়; ঠান্ডা ও ভারী বাতাসে নির্মাণকাজের ধুলো, যানবাহনের ধোঁয়া আটকে থাকে। আর এসব ধোঁয়ার অনেকাংশই প্রতিবেশী রাজ্য পাঞ্জাব ও হরিয়ানার খড়-বিচালি পোড়ানো থেকে আসে।
বায়ুমান বিষয়ক সংস্থা আইকিউএয়ার টানা চার বছর ধরে দিল্লিকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত রাজধানী শহর হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। এর আগেও দূষণ ঠেকাতে স্কুল বন্ধ এবং নির্মাণকাজ স্থগিত রাখে দিল্লি।

হরিয়ানার কাইথাল অঞ্চলের পুলিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, এই বছর খড় পোড়ানোর ২২টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে এবং ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উপ-পুলিশ সুপার বীরভান বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কারণ এটি জামিনযোগ্য অপরাধ।
স্থানীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে, হরিয়ানাজুড়ে প্রায় ১০০ জন কৃষকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। ৩০০ জনের বেশি কৃষককে জরিমানা করা হয়েছে।

সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের (সিপিসিবি) তথ্য অনুসারে, মঙ্গলবার (২২ অক্টেবার) সকালে দিল্লির বায়ু মান খুব খারাপ রেকর্ড করা হয়েছে। এ দিন শহরের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ছিল ৩২০। বায়ু মান ০-৫০ হলে ভালো বলে গণ্য করা হয়। আর ৪০০-৫০০ এর মধ্যে কিছু হলে তা স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক।
মঙ্গলবার দিল্লি বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত শহর ছিল। প্রথম স্থানে ছিল প্রতিবেশী পাকিস্তানের লাহোর শহর।
ভারতীয় পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন দিল্লির দৈনিক গড় একিউআই খুব খারাপ (৩০০-৪০০) বিভাগে থাকতে পারে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিস্থিতির কারণে এমনটা থাকবে।
দিল্লির দূষণ কমাতে ধুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য রাস্তায় পানি ছিটানো, পাবলিক বাস ও মেট্রো পরিষেবা বাড়ানো এবং গাড়ির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার জন্য পার্কিং ফি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে পরিবেশবিদরা বলছেন, এই পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়।
ডেস্ক রিপোর্ট 




















