খাগড়াছড়িতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত

খাগড়াছড়িতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত

স্থানীয়ভাবে বন্যপ্রাণী শিকার ও হত্যার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে বিভিন্ন সময় বন থেকে উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলো লালন-পালন করছিলেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার সাবেক ইউপি সদস্য নবদ্বীপ চাকমা। এতদিন সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে লালন-পালন করা বিরল প্রজাতির ১টি এশীয় কালো ভালুক, ৬টি মায়া হরিণ ও ২টি বানর  বন বিভাগকে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি।

 

এর মাধ্যমে খাগড়াছড়িতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে একটি ইতিবাচক ও প্রশংসনীয় উদ্যোগের দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার তেঁতুলতলা এলাকায় খাগড়াছড়ি বন বিভাগের একটি টিম এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ চট্টগ্রামের একটি টিম যৌথভাবে নবদ্বীপ চাকমার জিম্মায় থাকা প্রাণীগুলো গ্রহণ করে। প্রাণীগুলো পরবর্তীতে কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের প্রাকৃতিক অভয়ারণ্যে অবমুক্ত করার জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।

বন বিভাগ জানায়, সদর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য নবদ্বীপ চাকমার বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে প্রাণীগুলো ছিল। স্থানীয়ভাবে বন্যপ্রাণী শিকার ও হত্যার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে তিনি বিভিন্ন সময় বন থেকে উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলো লালন-পালন করছিলেন। বিষয়টি অবৈধ জেনে প্রাণীদের নিরাপদ ও প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়ার মানসিকতা থেকেই তিনি স্বেচ্ছায় বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

 

নবদ্বীপ চাকমা বলেন, “এলাকায় অনেক সময় মানুষ বন্যপ্রাণী শিকার করে হত্যা করত। সেই খবর পেয়ে আমি প্রাণীগুলোকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। পরে বুঝতে পারি, বন্যপ্রাণীর প্রকৃত জায়গা বনই। তাই জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক অনিমেষ চাকমা রিংকু এবং মোশারফ হোসেনের সহায়তায় বন বিভাগকে বিষয়টি জানাই।”

এ বিষয়ে অনিমেষ চাকমা রিংকু বলেন, “বন্যপ্রাণী মানুষের ঘরে নয়, বনের মুক্ত পরিবেশেই নিরাপদ। নবদ্বীপ চাকমার এই মানবিক সিদ্ধান্ত সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। প্রাণীগুলোকে আবার প্রাকৃতিক অভয়ারণ্যে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমরা সবাই আনন্দিত।”

 

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ফরিদ মিঞা বলেন, “বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নবদ্বীপ চাকমা স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রাণীগুলো হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পেরেছি। খাগড়াছড়ি বন বিভাগ এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, চট্টগ্রামের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রাণীগুলোকে উদ্ধার করে প্রাকৃতিক বনে অবমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।”

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

দেশে দেখা যায় যত রকমের শালিক

খাগড়াছড়িতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত

আপডেট সময় ০১:৩৪:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

স্থানীয়ভাবে বন্যপ্রাণী শিকার ও হত্যার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে বিভিন্ন সময় বন থেকে উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলো লালন-পালন করছিলেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার সাবেক ইউপি সদস্য নবদ্বীপ চাকমা। এতদিন সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে লালন-পালন করা বিরল প্রজাতির ১টি এশীয় কালো ভালুক, ৬টি মায়া হরিণ ও ২টি বানর  বন বিভাগকে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি।

 

এর মাধ্যমে খাগড়াছড়িতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে একটি ইতিবাচক ও প্রশংসনীয় উদ্যোগের দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার তেঁতুলতলা এলাকায় খাগড়াছড়ি বন বিভাগের একটি টিম এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ চট্টগ্রামের একটি টিম যৌথভাবে নবদ্বীপ চাকমার জিম্মায় থাকা প্রাণীগুলো গ্রহণ করে। প্রাণীগুলো পরবর্তীতে কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের প্রাকৃতিক অভয়ারণ্যে অবমুক্ত করার জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।

বন বিভাগ জানায়, সদর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য নবদ্বীপ চাকমার বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে প্রাণীগুলো ছিল। স্থানীয়ভাবে বন্যপ্রাণী শিকার ও হত্যার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে তিনি বিভিন্ন সময় বন থেকে উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলো লালন-পালন করছিলেন। বিষয়টি অবৈধ জেনে প্রাণীদের নিরাপদ ও প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়ার মানসিকতা থেকেই তিনি স্বেচ্ছায় বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

 

নবদ্বীপ চাকমা বলেন, “এলাকায় অনেক সময় মানুষ বন্যপ্রাণী শিকার করে হত্যা করত। সেই খবর পেয়ে আমি প্রাণীগুলোকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। পরে বুঝতে পারি, বন্যপ্রাণীর প্রকৃত জায়গা বনই। তাই জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক অনিমেষ চাকমা রিংকু এবং মোশারফ হোসেনের সহায়তায় বন বিভাগকে বিষয়টি জানাই।”

এ বিষয়ে অনিমেষ চাকমা রিংকু বলেন, “বন্যপ্রাণী মানুষের ঘরে নয়, বনের মুক্ত পরিবেশেই নিরাপদ। নবদ্বীপ চাকমার এই মানবিক সিদ্ধান্ত সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। প্রাণীগুলোকে আবার প্রাকৃতিক অভয়ারণ্যে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমরা সবাই আনন্দিত।”

 

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ফরিদ মিঞা বলেন, “বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নবদ্বীপ চাকমা স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রাণীগুলো হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পেরেছি। খাগড়াছড়ি বন বিভাগ এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, চট্টগ্রামের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রাণীগুলোকে উদ্ধার করে প্রাকৃতিক বনে অবমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।”