সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মাছ বেশি ভাজলে যে যে ক্ষতি হয় Logo ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকাসহ ৫ বিভাগে কালবৈশাখীর সম্ভাবনা, ভারী বৃষ্টির আভাস Logo হোয়াইট হাউজের নৈশভোজে গুলি, তবে এতে ট্রাম্প ‘সম্মানিত’ বোধ করছেন!   Logo রংপুর বিভাগে বৃষ্টি, শীঘ্রই দেশের ৭০-৮০ শতাংশ এলাকায় মিলতে পারে একই স্বস্তি Logo উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo কাপ্তাইয়ে আহত লজ্জাবতী উদ্ধার করে চিকিৎসার পর অবমুক্ত Logo পরিবেশ ধ্বংসের বাস্তবচিত্র: ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্যের ভাগাড়! Logo প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঢাকা থেকে জরুরি সহায়তা যাচ্ছে ইরানে Logo পরিবেশ ধ্বংসের বাস্তবচিত্র: ইটভাটার ধোঁয়ায় প্রায় দুইশো বিঘা জমির ধান নষ্ট Logo প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া ১১ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

ঘূর্ণিঝড় কিভাবে উৎপত্তি হয়?

ঘূর্ণিঝড় কিভাবে উৎপত্তি হয়?

প্রতিবছর আশ্বিন শেষে কিংবা কার্তিক মাসের শুরুতে আমাদের দেশে একটি ঘূণিঝড় হয়ে থাকে। কখনো সম্পূর্ণ শক্তি নিয়ে আমাদের দেশে আবার কখনো ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আছড়ে পড়ে। সাগর ঘেঁষে সুন্দরবন থাকায় আমাদের রক্ষা হয়। সিডর, আইলা, নার্গিস, রেমালের আঘাত মনে আছে। কিন্তু কেন কিভাবে এইসব ঝড়ের উৎপত্তি হয়। আসুন একটু জেনে নেই।

ঘূর্ণিঝড় শব্দের উৎপত্তি হয়েছে গ্রিক (Kyklos) কিক্লোস শব্দ থেকে। যার অর্থ হল সাপের কুণ্ডলী (Coil of snakes)। ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তি হয় স্থলভাগ থেকে অনেক দূরে গভীর সমুদ্রে। ঝড় সৃষ্টির প্রধান উপাদান হল উষ্ণ সামুদ্রিক পানি, বায়ুপ্রবাহ ও সৌরশক্তি। প্রথমে আমরা ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে নিম্নচাপের প্রভাব সম্পর্কে জানি। ঘূর্ণিঝড় হলে নিম্নচাপ কী সেটাই আগে জানতে হবে। আমরা মূলত বাতাসের সমুদ্রে বাস করি। বাতাসের চাপ থাকে। অদেখা বাতাসের চাপ আমরা বুঝতে পারি না। যখন খুব বেশি হয়, তখনই বুঝতে পারি। সমুদ্রের আশপাশে কোনো জায়গায় বায়ুচাপ যদি কমে যায়, তাহলে সেখানে লঘুচাপ অথবা নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। লঘুচাপ মানে আশপাশের অঞ্চলের তুলনায় কোনো জায়গায় বায়ুর চাপ কম থাকা। জল ও স্থলের সংযোগস্থলে এরকম হয়। কিন্তু কীভাবে সৃষ্টি হয়?

ঘূর্ণিঝড় কিভাবে উৎপত্তি হয়? prokritibarta

নিম্নচাপের একটা বড় কারণ হল তাপমাত্রা। কোনো বস্তুর ঘনত্ব যত বেশি, তার তাপ ধারণক্ষমতা তত বেশি। মাটি, পানি আর বাতাস এই তিনে সবচেয়ে বেশি ঘনত্ব হল মাটির। তাই সমান তাপে মাটি বেশি উষ্ণ হয়। দিনের বেলা সূর্যের তাপের কারণে স্থল বা মাটি পানির চেয়ে বেশি উত্তপ্ত থাকে। এর কারণ হল পানিতে যে পরিমাণ সূর্যের তাপ পড়ে তার বেশিরভাগ প্রতিফলিত হয়ে বায়ুমণ্ডলে ফিরে যায় এবং ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। মাটি এত তাপ প্রতিফলিত করতে পারে না। ফলে পরিবেশ উষ্ণ হয়ে ওঠে। দিনের বেলা উষ্ণ মাটির সঙ্গে বাতাস এসে তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই উষ্ণ মাটি আবার ওপরে থাকা বায়ুর তাপ বাড়িয়ে দেয়। ফলে উত্তপ্ত হতে থাকে বায়ুমণ্ডল।

ঘূর্ণিঝড় কিভাবে উৎপত্তি হয়? prokritibarta

রাতের বেলা আবার উল্টো ঘটনা ঘটে। পানির তাপধারণের ক্ষমতা বেশি। তাই রাতের বেলা মাটি দ্রুত সব তাপ বিকিরণ করে দেওয়ার পরও আশপাশের পানি সেই তাপ ধরে রাখে। ফলে রাতে মাটি হয়ে যায় তুলনামূলক ঠান্ডা। আর সমুদ্রের পানি হয়ে যায় তুলনামূলক উষ্ণ। বুঝতেই পারছেন এর ফলে রাতের বেলা সমুদ্রের ওপর লঘুচাপ তৈরি হয়। আর মাটির ওপরের উচ্চ চাপের বায়ু সেদিকে ছুটে যেতে থাকে। এর ফলেও তৈরি হয় ঘূর্ণিপাক।

অন্যদিকে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানি অতটা উষ্ণ নয়, তাই সমুদ্রপৃষ্ঠের ওপরের বায়ুমণ্ডল ভূপৃষ্ঠের বায়ুমণ্ডলের সমান উষ্ণ হতে পারে না। সুতরাং ভূপৃষ্ঠের আর সমুদ্রপৃষ্ঠের বায়ুমণ্ডলের মধ্যে উষ্ণতার পার্থক্য তৈরি হয়। যে বস্তু যত উষ্ণ তার তাপমাত্রা তত বাড়ে, এতে বস্তুগুলোর ভেতরের অণুদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। ফলে সে বস্তুর ঘনত্ব কমতে শুরু করে। ভূপৃষ্ঠের বায়ুমণ্ডল বেশি উত্তপ্ত হয় বলে এদের অণুগুলো পরস্পর থেকে দূরে সরে যায়, ফলে কমতে থাকে ভূপৃষ্ঠের বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব। বাতাস তখন এখানে অনেক হালকা হয়ে যায়। হালকা বাতাসকে তাই স্বাভাবিক নিয়মেই বায়ুমণ্ডলের ওপরের দিকে উঠে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। নিচের দিকে তখন অনেকটা ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়। সমুদ্রপৃষ্ঠের বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা বাড়ে না বলে ঘনত্ব চাপ একই থাকে। তাই ভূপৃষ্ঠ আর সমুদ্রপৃষ্ঠের চাপের মধ্যে পার্থক্য অনেক বেড়ে যায়। ফলে ভূ-পৃষ্ঠে তৈরি হয় নিম্নচাপ। দিনের বেলা সমুদ্রপৃষ্ঠ তুলনামূলক শীতল, তাই সেখানকার বায়ুমণ্ডলের চাপ বেশি। স্বাভাবিকভাবেই একটা খোলা জায়গায় চাপ ও তাপের ভারসাম্য থাকবে, এটাই প্রকৃতির নিয়ম।

ঘূর্ণিঝড় কিভাবে উৎপত্তি হয়? prokritibarta

কিন্তু যখন কোথাও চাপ কমে যায়, বাতাসের ভেতর ফাঁকা জায়গা থাকে, সেখানে চাপের ভারসাম্যটা আর থাকে না। তখন বেশি চাপের অঞ্চল থেকে শীতল বায়ু দ্রুত গিয়ে সেই ফাঁকা জায়গার দখল নেয়। এভাবেই তৈরি হয় ভারসাম্য। আর এই ভারসাম্য তৈরি করতে গিয়ে দ্রুত সমুদ্রপৃষ্ঠের বায়মুণ্ডল ভূপৃষ্ঠের দিকে ধেয়ে আসে। ফলে তৈরি হয় ঝড়ো হাওয়া। অর্থাৎ দ্রুত যখন কোনো স্থানে শূন্যতা তৈরি হয়, হুড়াহুড়ি করে সেখানে বাতাস এসে শূন্যতা পূরণ করে, তখন সেখানে ঘূর্ণিবত তৈরি হয়। নিম্নচাপের জায়গায় চাপ যত কম, তত বেশি জায়গা ফাঁকা হয়, ছুটে আসা বাতাসের বেগ তত বেশি হয়। এতে ঝড় তত শক্তিশালী হয়। লঘুচাপের ভয়ংকর রূপ হলো নিম্নচাপ। এই যে নিম্নচাপ তৈরি হলো, সেটা কিন্তু একটা জায়গায় স্থির থাকে না। নিম্নচাপ আসলে প্রচণ্ড ঘূর্ণিবায়ুর প্রবাহ। তাই এটি যেখানে শক্তিশালী হয়ে অবস্থান করবে সেখানে সৃষ্টি হবে ঘূর্ণিঝড়। তবে সমুদ্র একাই ঘূর্ণিঝড় তৈরি করে, ব্যাপারটা এমন নয়। সূর্যের প্রভাব, বায়ুমণ্ডলের প্রভাব, বায়ুর ঘনত্বের প্রভাব, তাপমাত্রার পার্থক্যের প্রভাব ইত্যাদি অনেক বিষয় জড়িত থাকে একটা ঘূর্ণিঝড়ের পেছনে। আর এই ঝড়ের পিছনে জলবায়ু পরিবর্তন প্রত্যক্ষভাবে ভূমিকা পালন করে। আসুন আমরা জলবায়ু পরিবর্তন রোধে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হই। পরিবেশবান্ধব জীবন-যাপন করি। পরিবেশদূষণ বন্ধ করি।

মাছ বেশি ভাজলে যে যে ক্ষতি হয়

ঘূর্ণিঝড় কিভাবে উৎপত্তি হয়?

আপডেট সময় ০৩:৩৭:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৪

প্রতিবছর আশ্বিন শেষে কিংবা কার্তিক মাসের শুরুতে আমাদের দেশে একটি ঘূণিঝড় হয়ে থাকে। কখনো সম্পূর্ণ শক্তি নিয়ে আমাদের দেশে আবার কখনো ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আছড়ে পড়ে। সাগর ঘেঁষে সুন্দরবন থাকায় আমাদের রক্ষা হয়। সিডর, আইলা, নার্গিস, রেমালের আঘাত মনে আছে। কিন্তু কেন কিভাবে এইসব ঝড়ের উৎপত্তি হয়। আসুন একটু জেনে নেই।

ঘূর্ণিঝড় শব্দের উৎপত্তি হয়েছে গ্রিক (Kyklos) কিক্লোস শব্দ থেকে। যার অর্থ হল সাপের কুণ্ডলী (Coil of snakes)। ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তি হয় স্থলভাগ থেকে অনেক দূরে গভীর সমুদ্রে। ঝড় সৃষ্টির প্রধান উপাদান হল উষ্ণ সামুদ্রিক পানি, বায়ুপ্রবাহ ও সৌরশক্তি। প্রথমে আমরা ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে নিম্নচাপের প্রভাব সম্পর্কে জানি। ঘূর্ণিঝড় হলে নিম্নচাপ কী সেটাই আগে জানতে হবে। আমরা মূলত বাতাসের সমুদ্রে বাস করি। বাতাসের চাপ থাকে। অদেখা বাতাসের চাপ আমরা বুঝতে পারি না। যখন খুব বেশি হয়, তখনই বুঝতে পারি। সমুদ্রের আশপাশে কোনো জায়গায় বায়ুচাপ যদি কমে যায়, তাহলে সেখানে লঘুচাপ অথবা নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। লঘুচাপ মানে আশপাশের অঞ্চলের তুলনায় কোনো জায়গায় বায়ুর চাপ কম থাকা। জল ও স্থলের সংযোগস্থলে এরকম হয়। কিন্তু কীভাবে সৃষ্টি হয়?

ঘূর্ণিঝড় কিভাবে উৎপত্তি হয়? prokritibarta

নিম্নচাপের একটা বড় কারণ হল তাপমাত্রা। কোনো বস্তুর ঘনত্ব যত বেশি, তার তাপ ধারণক্ষমতা তত বেশি। মাটি, পানি আর বাতাস এই তিনে সবচেয়ে বেশি ঘনত্ব হল মাটির। তাই সমান তাপে মাটি বেশি উষ্ণ হয়। দিনের বেলা সূর্যের তাপের কারণে স্থল বা মাটি পানির চেয়ে বেশি উত্তপ্ত থাকে। এর কারণ হল পানিতে যে পরিমাণ সূর্যের তাপ পড়ে তার বেশিরভাগ প্রতিফলিত হয়ে বায়ুমণ্ডলে ফিরে যায় এবং ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। মাটি এত তাপ প্রতিফলিত করতে পারে না। ফলে পরিবেশ উষ্ণ হয়ে ওঠে। দিনের বেলা উষ্ণ মাটির সঙ্গে বাতাস এসে তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই উষ্ণ মাটি আবার ওপরে থাকা বায়ুর তাপ বাড়িয়ে দেয়। ফলে উত্তপ্ত হতে থাকে বায়ুমণ্ডল।

ঘূর্ণিঝড় কিভাবে উৎপত্তি হয়? prokritibarta

রাতের বেলা আবার উল্টো ঘটনা ঘটে। পানির তাপধারণের ক্ষমতা বেশি। তাই রাতের বেলা মাটি দ্রুত সব তাপ বিকিরণ করে দেওয়ার পরও আশপাশের পানি সেই তাপ ধরে রাখে। ফলে রাতে মাটি হয়ে যায় তুলনামূলক ঠান্ডা। আর সমুদ্রের পানি হয়ে যায় তুলনামূলক উষ্ণ। বুঝতেই পারছেন এর ফলে রাতের বেলা সমুদ্রের ওপর লঘুচাপ তৈরি হয়। আর মাটির ওপরের উচ্চ চাপের বায়ু সেদিকে ছুটে যেতে থাকে। এর ফলেও তৈরি হয় ঘূর্ণিপাক।

অন্যদিকে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানি অতটা উষ্ণ নয়, তাই সমুদ্রপৃষ্ঠের ওপরের বায়ুমণ্ডল ভূপৃষ্ঠের বায়ুমণ্ডলের সমান উষ্ণ হতে পারে না। সুতরাং ভূপৃষ্ঠের আর সমুদ্রপৃষ্ঠের বায়ুমণ্ডলের মধ্যে উষ্ণতার পার্থক্য তৈরি হয়। যে বস্তু যত উষ্ণ তার তাপমাত্রা তত বাড়ে, এতে বস্তুগুলোর ভেতরের অণুদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। ফলে সে বস্তুর ঘনত্ব কমতে শুরু করে। ভূপৃষ্ঠের বায়ুমণ্ডল বেশি উত্তপ্ত হয় বলে এদের অণুগুলো পরস্পর থেকে দূরে সরে যায়, ফলে কমতে থাকে ভূপৃষ্ঠের বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব। বাতাস তখন এখানে অনেক হালকা হয়ে যায়। হালকা বাতাসকে তাই স্বাভাবিক নিয়মেই বায়ুমণ্ডলের ওপরের দিকে উঠে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। নিচের দিকে তখন অনেকটা ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়। সমুদ্রপৃষ্ঠের বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা বাড়ে না বলে ঘনত্ব চাপ একই থাকে। তাই ভূপৃষ্ঠ আর সমুদ্রপৃষ্ঠের চাপের মধ্যে পার্থক্য অনেক বেড়ে যায়। ফলে ভূ-পৃষ্ঠে তৈরি হয় নিম্নচাপ। দিনের বেলা সমুদ্রপৃষ্ঠ তুলনামূলক শীতল, তাই সেখানকার বায়ুমণ্ডলের চাপ বেশি। স্বাভাবিকভাবেই একটা খোলা জায়গায় চাপ ও তাপের ভারসাম্য থাকবে, এটাই প্রকৃতির নিয়ম।

ঘূর্ণিঝড় কিভাবে উৎপত্তি হয়? prokritibarta

কিন্তু যখন কোথাও চাপ কমে যায়, বাতাসের ভেতর ফাঁকা জায়গা থাকে, সেখানে চাপের ভারসাম্যটা আর থাকে না। তখন বেশি চাপের অঞ্চল থেকে শীতল বায়ু দ্রুত গিয়ে সেই ফাঁকা জায়গার দখল নেয়। এভাবেই তৈরি হয় ভারসাম্য। আর এই ভারসাম্য তৈরি করতে গিয়ে দ্রুত সমুদ্রপৃষ্ঠের বায়মুণ্ডল ভূপৃষ্ঠের দিকে ধেয়ে আসে। ফলে তৈরি হয় ঝড়ো হাওয়া। অর্থাৎ দ্রুত যখন কোনো স্থানে শূন্যতা তৈরি হয়, হুড়াহুড়ি করে সেখানে বাতাস এসে শূন্যতা পূরণ করে, তখন সেখানে ঘূর্ণিবত তৈরি হয়। নিম্নচাপের জায়গায় চাপ যত কম, তত বেশি জায়গা ফাঁকা হয়, ছুটে আসা বাতাসের বেগ তত বেশি হয়। এতে ঝড় তত শক্তিশালী হয়। লঘুচাপের ভয়ংকর রূপ হলো নিম্নচাপ। এই যে নিম্নচাপ তৈরি হলো, সেটা কিন্তু একটা জায়গায় স্থির থাকে না। নিম্নচাপ আসলে প্রচণ্ড ঘূর্ণিবায়ুর প্রবাহ। তাই এটি যেখানে শক্তিশালী হয়ে অবস্থান করবে সেখানে সৃষ্টি হবে ঘূর্ণিঝড়। তবে সমুদ্র একাই ঘূর্ণিঝড় তৈরি করে, ব্যাপারটা এমন নয়। সূর্যের প্রভাব, বায়ুমণ্ডলের প্রভাব, বায়ুর ঘনত্বের প্রভাব, তাপমাত্রার পার্থক্যের প্রভাব ইত্যাদি অনেক বিষয় জড়িত থাকে একটা ঘূর্ণিঝড়ের পেছনে। আর এই ঝড়ের পিছনে জলবায়ু পরিবর্তন প্রত্যক্ষভাবে ভূমিকা পালন করে। আসুন আমরা জলবায়ু পরিবর্তন রোধে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হই। পরিবেশবান্ধব জীবন-যাপন করি। পরিবেশদূষণ বন্ধ করি।