সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু Logo হাম হলে শিশুকে যেসব খাবার খাওয়াবেন Logo ২২০০ পিঁপড়া পাচার চেষ্টায় চীনা নাগরিকের এক বছরের জেল Logo চট্টগ্রামে নিজেই হাসপাতালে এসে ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা নিলো কাক! Logo বাংলাদেশে প্রতি তিন শিশুর মধ্যে এক জন মারাত্মকভাবে জলবায়ু ঝুঁকির মুখে Logo এপ্রিল এখন পর্যন্ত সহনীয়, দেশে এবছরের গ্রীষ্ম কম ভোগাবে আশা আবহাওয়াবিদের   Logo আজ স্বাধীনতা পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo ‘ধান খাওয়ায়’ মেরে ফেলা হলো বাবুই পাখির ২৯ বাচ্চা, এক জনের কারাদণ্ড Logo পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া Logo জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হতে পারে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

চীনে তীব্র গরম, ছাত্রাবাসে থাকতে না পেরে হোটেল-সুপারমার্কেটে ঢুকছেন শিক্ষার্থীরা

চীনে তীব্র গরম, ছাত্রাবাসে থাকতে না পেরে হোটেল-সুপারমার্কেটে ঢুকছেন শিক্ষার্থীরা

চীনের পূর্বাঞ্চলে তীব্র গরমের কারণে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের ডরমিটরি [ছাত্রাবাস] ছেড়ে আশ্রয় নিচ্ছেন সুপারমার্কেট, হলওয়ে কিংবা হোটেলেও। কেউ কেউ ক্যাম্পাসই ছেড়ে দিয়েছেন গরম থেকে বাঁচার আশায়। শিক্ষার্থীদের এমন বিপর্যস্ত পরিস্থিতির খবর প্রকাশিত হয়েছে বিবিসিতে।

জুলাইতে চীনের এই অঞ্চলের তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবনের,বিশেষ করে যারা শীতাতপ ব্যবস্থার বাইরে বা কিনতে সক্ষম নন তাদের ভোগান্তির কথা উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে।

চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চাংশুন শহরের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা মাঝেমধ্যে হোটেলে গিয়ে থাকি, শুধু এসির জন্য। বছরে কিছুদিন এমন যায়, যখন গরম একেবারেই সহ্য হয় না।’

চীনের বেশিরভাগ ডরমিটরিতে চার থেকে আটজন শিক্ষার্থী একই কক্ষে থাকেন। এসির সুবিধা নেই বললেই চলে। তাই বিকল্প খুঁজতেই হোটেলমুখী হচ্ছেন অনেকে। তবে এ খরচ অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়।

‘হোটেল তো আমাদের মতো ছাত্রদের জন্য বিশাল খরচের ব্যাপার’, বলেন চাংশুনের ওই শিক্ষার্থী। তাই বাধ্য হয়ে তিনি নিজেই তৈরি করেছেন ‘হোমমেইড এসি’—একটা ছোট ফ্যানের সামনে বরফের বাটি রেখে নিজ কক্ষ ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করেন। এভাবেই তিনি চলতি সেমিস্টার শেষ করেছেন।

 

চীনে প্রতিবছর গরমের সবচেয়ে ভয়াবহ সময়কে বলা হয় সানফু সিজন বা ‘ডগ ডেইজ’। সাধারণত এটা জুলাইয়ের মাঝামাঝি শুরু হয়, তবে এবার তা আগেভাগেই এসেছে। গত সপ্তাহে পূর্বাঞ্চলের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়, যা কোটি কোটি মানুষকে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে।

এই গরমেই কুইংডাও বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ডরমিটরি গার্ডের মৃত্যু ঘটেছে, অনেকে হিটস্ট্রোক বলেই মনে করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রোববার (৭ জুলাই) ওই নিরাপত্তারক্ষীকে তার কক্ষে ‘অস্বাভাবিক অবস্থায়’ পাওয়া যায় এবং ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর কারণ তদন্তাধীন।

তীব্র গরমে চীনের এই অঞ্চলে দেখা দিয়েছে অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ। জিয়াংসি প্রদেশে একটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত রেস্তোরাঁ গরমে কষ্টে থাকা প্রবীণদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। তাঁরা খাবার না কিনেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেখানে সময় কাটাচ্ছেন, যা রেস্তোরাঁর কর্মীদের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জিলিন প্রদেশের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা নাকি এসি-যুক্ত হলওয়ের পাশে তাঁবু টানিয়ে রাত কাটাচ্ছেন। শানডং প্রদেশে শিক্ষার্থীরা সুপারমার্কেট বা হোটেলে গিয়ে ঠান্ডা পরিবেশে ঘুমানোর ব্যবস্থা করেছেন—এমন খবরে এক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লাইব্রেরিতে থাকার সুযোগ করে দিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে শানডংয়ের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ডরমিটরিতে এসি বসানোর ঘোষণা দিয়েছে। চীনের জ্বালানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেবল এসি-ই পূর্বাঞ্চলের বিদ্যুৎ ব্যবহারের এক-তৃতীয়াংশের বেশি চাহিদা তৈরি করছে। জুলাইয়ের শুরুতেই দেশজুড়ে বিদ্যুৎ চাহিদা রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। কুইংডাও বিশ্ববিদ্যালয়ও জানিয়েছে, গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে ডরমিটরিতে এসি বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চীনজুড়ে চরম আবহাওয়া বিরাজ করছে, যাকে বিশেষজ্ঞরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বলেই মনে করছেন। বুধবার চীনের পূর্ব উপকূলে টাইফুন আঘাত হানার পর সরকার আকস্মিক বন্যা সতর্কতা জারি করে। এই টাইফুনই এর আগে তাইওয়ানে দু’জনের প্রাণ নিয়েছে এবং এরপর ঝেজিয়াং ও ফুজিয়ান প্রদেশে প্রবেশ করেছে।

অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলে নেপাল ও চীন সংযোগকারী একটি সেতু বন্যায় ভেসে যায়। এতে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও এক ডজন নিখোঁজ, যাদের মধ্যে চীন ও নেপাল—উভয় দেশের নাগরিক আছেন।

চীনে গরমের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বেড়েই চলেছে। ২০২২ সালে অতিরিক্ত গরমে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে জানিয়েছে দ্য ল্যানসেট নামের একটি চিকিৎসাবিষয়ক জার্নাল। ২০২৩ সালে শিনজিয়াংয়ের একটি টাউনশিপে সর্বোচ্চ ৫২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়—চীনে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ।

২০২৪ সাল ছিল চীনের ইতিহাসে উষ্ণতম বছর, আর জুলাই ছিল দেশটির সবচেয়ে গরম মাস—১৯৬১ সাল থেকে তাপমাত্রা রেকর্ড শুরুর পর থেকে।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু

চীনে তীব্র গরম, ছাত্রাবাসে থাকতে না পেরে হোটেল-সুপারমার্কেটে ঢুকছেন শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় ০২:৫৩:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫

চীনের পূর্বাঞ্চলে তীব্র গরমের কারণে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের ডরমিটরি [ছাত্রাবাস] ছেড়ে আশ্রয় নিচ্ছেন সুপারমার্কেট, হলওয়ে কিংবা হোটেলেও। কেউ কেউ ক্যাম্পাসই ছেড়ে দিয়েছেন গরম থেকে বাঁচার আশায়। শিক্ষার্থীদের এমন বিপর্যস্ত পরিস্থিতির খবর প্রকাশিত হয়েছে বিবিসিতে।

জুলাইতে চীনের এই অঞ্চলের তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবনের,বিশেষ করে যারা শীতাতপ ব্যবস্থার বাইরে বা কিনতে সক্ষম নন তাদের ভোগান্তির কথা উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে।

চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চাংশুন শহরের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা মাঝেমধ্যে হোটেলে গিয়ে থাকি, শুধু এসির জন্য। বছরে কিছুদিন এমন যায়, যখন গরম একেবারেই সহ্য হয় না।’

চীনের বেশিরভাগ ডরমিটরিতে চার থেকে আটজন শিক্ষার্থী একই কক্ষে থাকেন। এসির সুবিধা নেই বললেই চলে। তাই বিকল্প খুঁজতেই হোটেলমুখী হচ্ছেন অনেকে। তবে এ খরচ অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়।

‘হোটেল তো আমাদের মতো ছাত্রদের জন্য বিশাল খরচের ব্যাপার’, বলেন চাংশুনের ওই শিক্ষার্থী। তাই বাধ্য হয়ে তিনি নিজেই তৈরি করেছেন ‘হোমমেইড এসি’—একটা ছোট ফ্যানের সামনে বরফের বাটি রেখে নিজ কক্ষ ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করেন। এভাবেই তিনি চলতি সেমিস্টার শেষ করেছেন।

 

চীনে প্রতিবছর গরমের সবচেয়ে ভয়াবহ সময়কে বলা হয় সানফু সিজন বা ‘ডগ ডেইজ’। সাধারণত এটা জুলাইয়ের মাঝামাঝি শুরু হয়, তবে এবার তা আগেভাগেই এসেছে। গত সপ্তাহে পূর্বাঞ্চলের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়, যা কোটি কোটি মানুষকে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে।

এই গরমেই কুইংডাও বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ডরমিটরি গার্ডের মৃত্যু ঘটেছে, অনেকে হিটস্ট্রোক বলেই মনে করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রোববার (৭ জুলাই) ওই নিরাপত্তারক্ষীকে তার কক্ষে ‘অস্বাভাবিক অবস্থায়’ পাওয়া যায় এবং ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর কারণ তদন্তাধীন।

তীব্র গরমে চীনের এই অঞ্চলে দেখা দিয়েছে অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ। জিয়াংসি প্রদেশে একটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত রেস্তোরাঁ গরমে কষ্টে থাকা প্রবীণদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। তাঁরা খাবার না কিনেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেখানে সময় কাটাচ্ছেন, যা রেস্তোরাঁর কর্মীদের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জিলিন প্রদেশের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা নাকি এসি-যুক্ত হলওয়ের পাশে তাঁবু টানিয়ে রাত কাটাচ্ছেন। শানডং প্রদেশে শিক্ষার্থীরা সুপারমার্কেট বা হোটেলে গিয়ে ঠান্ডা পরিবেশে ঘুমানোর ব্যবস্থা করেছেন—এমন খবরে এক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লাইব্রেরিতে থাকার সুযোগ করে দিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে শানডংয়ের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ডরমিটরিতে এসি বসানোর ঘোষণা দিয়েছে। চীনের জ্বালানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেবল এসি-ই পূর্বাঞ্চলের বিদ্যুৎ ব্যবহারের এক-তৃতীয়াংশের বেশি চাহিদা তৈরি করছে। জুলাইয়ের শুরুতেই দেশজুড়ে বিদ্যুৎ চাহিদা রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। কুইংডাও বিশ্ববিদ্যালয়ও জানিয়েছে, গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে ডরমিটরিতে এসি বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চীনজুড়ে চরম আবহাওয়া বিরাজ করছে, যাকে বিশেষজ্ঞরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বলেই মনে করছেন। বুধবার চীনের পূর্ব উপকূলে টাইফুন আঘাত হানার পর সরকার আকস্মিক বন্যা সতর্কতা জারি করে। এই টাইফুনই এর আগে তাইওয়ানে দু’জনের প্রাণ নিয়েছে এবং এরপর ঝেজিয়াং ও ফুজিয়ান প্রদেশে প্রবেশ করেছে।

অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলে নেপাল ও চীন সংযোগকারী একটি সেতু বন্যায় ভেসে যায়। এতে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও এক ডজন নিখোঁজ, যাদের মধ্যে চীন ও নেপাল—উভয় দেশের নাগরিক আছেন।

চীনে গরমের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বেড়েই চলেছে। ২০২২ সালে অতিরিক্ত গরমে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে জানিয়েছে দ্য ল্যানসেট নামের একটি চিকিৎসাবিষয়ক জার্নাল। ২০২৩ সালে শিনজিয়াংয়ের একটি টাউনশিপে সর্বোচ্চ ৫২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়—চীনে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ।

২০২৪ সাল ছিল চীনের ইতিহাসে উষ্ণতম বছর, আর জুলাই ছিল দেশটির সবচেয়ে গরম মাস—১৯৬১ সাল থেকে তাপমাত্রা রেকর্ড শুরুর পর থেকে।