প্রতিবছরই ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে চ্যানেল আইয়ের ‘চেতনা চত্বরে’ বসে লাল-সবুজের মেলা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মহান মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদ-বীরাঙ্গনাদের স্মরণ এবং জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বরণ করতে এবারের আয়োজনের শিরোনাম ‘স্মরণে বরণে বিজয় দিবস’। এই আয়োজনে ১০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা জানিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু।

আজ সোমবার সকাল ৯:৩০ মিনিটে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এরপর আকাশে উড়ানো হয় শান্তির প্রতীক পায়রা এবং রঙিন বেলুন।

হৃদয়ে বাংলাদেশ ধারণ করা দেশের প্রথম ডিজিটাল টেলিভিশন চ্যানেলটির অন্যতম কর্ণধার বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু উপস্থিত হয়েছিলেন সকাল সকাল।
অনুষ্ঠানে মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে দৃঢ়ভাবে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পরিবর্তিত পরিস্থিতি দেশের ইতিবাচক অগ্রগতিতে কাজ আসবে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টে যে পরিবর্তন দেখেছি তাতে আশা করবো বাংলাদেশটা আরও সুদৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাবে। আমরা ৭১ কখনোই ভুলতে পারবো না, কারণ এই ৭১ এর উপরই দাঁড়িয়ে আছি আমরা।’

ইতিবাচক চিন্তায় দেশের সমৃদ্ধি সম্ভব এই বার্তা দিয়ে তিনি আরও বলেন,‘আমাদের সবাইকে হাতে হাত রেখে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদের আত্মার শান্তির জন্য আমাদের মমতা দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতেই হবে।’

অনুষ্ঠানে চ্যানেল আইয়ের পরিচালক, ইমপ্রেস গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রকৃতিবন্ধু মুকিত মজুমদার বাবু ১০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রত্যেকের হাতে ৫০ হাজার টাকার চেক তুলে দেন। এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরীয় পরিয়ে ও ক্রেস্ট প্রদানের মাধ্যমে সম্মাননা জানানো হয়।
এরপর চ্যানেল আইয়ের চেতনা চত্বরের অস্থায়ী মঞ্চে লাল-সবুজ বসনে শিল্পীরা গানে গানে সুরের মুর্ছনায় মাতান বিজয়ের সকাল।

সংগীত পরিবেশন করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী শাহীন সামাদ, রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী অণিমা রায়, লীনু বিল্লাহ, শফী মন্ডল সহ একঝাঁক তরুণ শিল্পী। এছাড়াও ছিল আবৃত্তি এবং নৃত্য।

ছাতিমতলায় চিত্র শিল্পীরা ক্যানভাস রাঙান লাল-সবুজের দেশ, দেশের জন্ম দেয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা অথবা বিমূর্ত অবয়ব এঁকে।

মঞ্চের পাশেই ছিল শীতের পিঠাপুলি, লুচি-আলুর দমের আয়োজন। রন্ধনশিল্প বিশেষজ্ঞ এবং দেশের টেলিভিশনে রান্নার অনুষ্ঠানের পথিকৃৎ কেকা ফেরদৌসী ছিলেন পুরোটা সময়।

উৎসব মানেই চ্যানেল আইয়ের বিশেষ আয়োজন। এসব আয়োজনে তেজগাঁওয়ে চ্যানেল আইয়ের কার্যালয়ে হাজির হন নানা ক্ষেত্রে নিজের আলো ছড়ানো গুণী মানুষেরা। বিজয় দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠানেও নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ এসেছিলেন চ্যানেল আইয়ের উঠানে। আয়োজনটি সরাসরি সম্প্রচারিত হয়েছে চ্যানেল আইতে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জহির উদ্দিন মাহমুদ মামুনসহ ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড ও চ্যানেল আই পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্যরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন চ্যানেল আইয়ের পরিচিত মুখ হয়ে ওঠা দীপ্তি চৌধুরী এবং সাফি আহমেদ।
নাসিমুল শুভ 




















