সংবাদ শিরোনাম ::

জলবায়ু পরিবর্তনের অদ্ভুত রূপ দেখাচ্ছে পঞ্চগড়ের আবহাওয়া, গরমেও কুয়াশা!

জলবায়ু পরিবর্তনের অদ্ভুত রূপ দেখাচ্ছে পঞ্চগড়ের আবহাওয়া, গরমেও কুয়াশা! ছবি: channel24

এবার রাজধানী ঢাকায় বর্ষা ঋতুতে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত দেখা যাচ্ছে। তবে বৃষ্টির পরও ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। ওদিকে দেশের সর্ব উত্তরের জেলায় জলবায়ু পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রভাব চোখে পড়ছে। তীব্র গরমেও জেলায় দেখা যাচ্ছে ভূতুড়ে কুয়াশা, যানবাহন চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে, বৃষ্টির দেখা নেই।

 

পঞ্চগড়ে এমন অদ্ভুত আবহাওয়া নিয়ে সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে চ্যানেল টোয়েন্টিফোর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে:

 

“বর্ষার মাঝামাঝি সময়, আষাঢ় মাস পেরিয়ে শ্রাবণেও পঞ্চগড়ে দেখা নেই কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির। বরং অদ্ভুত আবহাওয়ার খেলায় সকাল ও রাতের বেলায় ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে পুরো জেলা। ভ্যাপসা গরমের মাঝে এমন কুয়াশা বিরল ঘটনা হিসেবে দেখছেন স্থানীয় প্রবীণরা।

 

বুধবার (২৩ জুলাই) সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করে। দিনের বেলায় তাপমাত্রা উঠানামা করছে ৩৪ থেকে ৩৭ ডিগ্রির মধ্যে। এতে ভোর থেকেই যানবাহন চলেছে হেডলাইট জ্বালিয়ে।

ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে পুরো জেলা, যানবাহন চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে

সরেজমিনে পঞ্চগড় শহর ও আশপাশের এলাকায় দেখা গেছে, ঘন কুয়াশায় ঘাস, ফসলি জমি ও গাছপালায় জমেছে শিশিরবিন্দু। এমন চিত্র শীত মৌসুমের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। সকাল আটটার পর কুয়াশা কেটে গরম রোদের দেখা মেলে, বাড়তে থাকে তাপমাত্রাও।

 

পঞ্চগড়ের মসজিদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, ‘সকালে বের হয়েই অবাক হয়ে যাই। চারপাশে কুয়াশা, গাড়িগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে। অথচ ভ্যাপসা গরমও আছে। জীবনে এমন বর্ষাকাল দেখিনি।’

 

এই ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক ও পরিবেশকর্মীরা। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মাহাবুবুল আলম বলেন, ‘প্রকৃতির এই বৈরিতা মানুষের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্ট, সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। এই সময়ে অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।’

এদিকে বর্ষাকালে বৃষ্টির অনুপস্থিতি কৃষির ওপরও ফেলেছে বিরূপ প্রভাব। এখনও ৩৫ শতাংশ জমিতে রোপা আমন ধান রোপণ করতে পারেননি কৃষকরা।

 

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সিনিয়র কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান বলেন, ‘রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় কুয়াশা দেখা দিচ্ছে। জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে মাটি ও গাছপালার ওপর কুয়াশা হিসেবে জমছে।’

 

পরিবেশবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই চিত্র আগামী দিনে আরও প্রকট হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে কৃষি, স্বাস্থ্য ও আবাসিক জীবনে। স্থানীয় প্রবীণদের ভাষায়, ‘গত অর্ধ শতাব্দীতে আষাঢ়-শ্রাবণে এমন কুয়াশা আর দেখিনি।’

 

মূলসংবাদ: চ্যানেল টোয়েন্টিফোর

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্রথম দিনে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৪৪৫৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী

জলবায়ু পরিবর্তনের অদ্ভুত রূপ দেখাচ্ছে পঞ্চগড়ের আবহাওয়া, গরমেও কুয়াশা!

আপডেট সময় ১২:২০:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫

এবার রাজধানী ঢাকায় বর্ষা ঋতুতে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত দেখা যাচ্ছে। তবে বৃষ্টির পরও ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। ওদিকে দেশের সর্ব উত্তরের জেলায় জলবায়ু পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রভাব চোখে পড়ছে। তীব্র গরমেও জেলায় দেখা যাচ্ছে ভূতুড়ে কুয়াশা, যানবাহন চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে, বৃষ্টির দেখা নেই।

 

পঞ্চগড়ে এমন অদ্ভুত আবহাওয়া নিয়ে সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে চ্যানেল টোয়েন্টিফোর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে:

 

“বর্ষার মাঝামাঝি সময়, আষাঢ় মাস পেরিয়ে শ্রাবণেও পঞ্চগড়ে দেখা নেই কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির। বরং অদ্ভুত আবহাওয়ার খেলায় সকাল ও রাতের বেলায় ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে পুরো জেলা। ভ্যাপসা গরমের মাঝে এমন কুয়াশা বিরল ঘটনা হিসেবে দেখছেন স্থানীয় প্রবীণরা।

 

বুধবার (২৩ জুলাই) সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করে। দিনের বেলায় তাপমাত্রা উঠানামা করছে ৩৪ থেকে ৩৭ ডিগ্রির মধ্যে। এতে ভোর থেকেই যানবাহন চলেছে হেডলাইট জ্বালিয়ে।

ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে পুরো জেলা, যানবাহন চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে

সরেজমিনে পঞ্চগড় শহর ও আশপাশের এলাকায় দেখা গেছে, ঘন কুয়াশায় ঘাস, ফসলি জমি ও গাছপালায় জমেছে শিশিরবিন্দু। এমন চিত্র শীত মৌসুমের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। সকাল আটটার পর কুয়াশা কেটে গরম রোদের দেখা মেলে, বাড়তে থাকে তাপমাত্রাও।

 

পঞ্চগড়ের মসজিদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, ‘সকালে বের হয়েই অবাক হয়ে যাই। চারপাশে কুয়াশা, গাড়িগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে। অথচ ভ্যাপসা গরমও আছে। জীবনে এমন বর্ষাকাল দেখিনি।’

 

এই ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক ও পরিবেশকর্মীরা। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মাহাবুবুল আলম বলেন, ‘প্রকৃতির এই বৈরিতা মানুষের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্ট, সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। এই সময়ে অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।’

এদিকে বর্ষাকালে বৃষ্টির অনুপস্থিতি কৃষির ওপরও ফেলেছে বিরূপ প্রভাব। এখনও ৩৫ শতাংশ জমিতে রোপা আমন ধান রোপণ করতে পারেননি কৃষকরা।

 

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সিনিয়র কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান বলেন, ‘রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় কুয়াশা দেখা দিচ্ছে। জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে মাটি ও গাছপালার ওপর কুয়াশা হিসেবে জমছে।’

 

পরিবেশবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই চিত্র আগামী দিনে আরও প্রকট হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে কৃষি, স্বাস্থ্য ও আবাসিক জীবনে। স্থানীয় প্রবীণদের ভাষায়, ‘গত অর্ধ শতাব্দীতে আষাঢ়-শ্রাবণে এমন কুয়াশা আর দেখিনি।’

 

মূলসংবাদ: চ্যানেল টোয়েন্টিফোর