গুপ্তহত্যার চেষ্টা, ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে ছিটকে যাওয়া, নামীদামী তারকাদের সমর্থন আর ভুল তথ্যের ছড়াছড়ি—যুক্তরাষ্ট্রের এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে এমন উত্তেজনা চলছে। ক্ষ্যাপাটে ডোনাল্ড ট্রাম্প কি আবার হোয়াইট হাউসে ফিরবেন নাকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইতিহাসে নাম উঠবে কমলা হ্যারিসের?
এসব প্রশ্নের অবসান ঘটতে যাচ্ছে ৫ নভেম্বর, বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর থেকে। রিপাবলিকান ট্রাম্প আর ডেমোক্র্যাট কমলার মধ্যে থেকে একজনকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেছে নিতে এদিন আনুষ্ঠানিক নির্বাচন।
জরিপগুলো হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দিয়েছে আগেই। ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে গর্ভপাত প্রশ্ন, বিদেশনীতি এবং জেন-জি ভোটার।
তবে সব মিলিয়ে হোয়াইট হাউসে যাওয়ার দৌড়ে পাল্লা দিয়ে লড়ছেন কমলা ও ট্রাম্প। মঙ্গলবার নির্বাচনের দিন হলেও যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আগাম ভোট গ্রহণ আগেই শুরু হয়েছে এবং শনিবার রাত ৯ টা নাগাদ প্রায় ৮ কোটি ভোট (সশরীরে কেন্দ্রে এবং ডাকযোগে) জমাও পড়েছে।
কমলা এবং ট্রাম্প উভয়েই নিজের বিজয় নিশ্চিতের জন্য সভা-সমাবেশ করছেন। একেবারে শেষ মুহূর্তেও ব্যাপক প্রচারণায় ব্যস্ত দু’জনেই।
নির্বাচনের আগে শেষ মুহূর্তের প্রচারে উভয় দল দোদুল্যমান হিসেবে পরিচিত স্টেটগুলোতে বেশি জোর দিচ্ছেন। এবারের নির্বাচনে পেনসিলভেনিয়া, জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলিনা, মিশিগান, উইসকনসিন, অ্যারিজোনা ও নেভাদা- এ সাতটি স্টেট দোদুল্যমান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শনিবার পর্যন্ত মুসলিম আমেরিকান ভোটারের বড় একটি অংশের সমর্থন কমলা নিজের পক্ষে আনতে সক্ষম হননি। আগের প্রায় সবকটি নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা মুসলিম আমেরিকার সিংহভাগ ভোট পেয়েছেন। বাইডেন-কমলার গাজা ও লেবানন নীতিতে বিরাগভাজন হয়েছেন মুসলিম আমেরিকানরা। ফলে জাতীয়ভাবে জরিপে এগিয়ে থাকা কমলার পক্ষে দোদুল্যমান ৭ স্টেটের ইলেকটোরাল ভোট বাগিয়ে নেয়া কঠিন হতে পারে বলে নির্বাচন পর্যবেক্ষকেরা মনে করেন। তবে উচ্চ শিক্ষিত এবং স্বনির্ভর বয়স্ক শ্বেতাঙ্গ নারীর বড় একটি অংশ শেষ মুহূর্তে কমলার প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন।
হোয়াইট হাউসে যেতে হলে একজন প্রার্থীকে অন্তত ২৭০টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পেতে হবে। ৫ নভেম্বর নির্বাচন হলেও প্রেসিডেন্ট এর চূড়ান্ত ফলাফলের পরে শপথ গ্রহণের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামী বছরের জানুয়ারির ২০ তারিখ পর্যন্ত।
ধারা অনুযায়ী, ৬ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর সময়ের মধ্যে স্টেটগুলো তাদের ফলাফল প্রকাশ করবে এবং চূড়ান্ত করবে। ১৭ ডিসেম্বর ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটাররা তাদের অফিসিয়াল ভোট দেওয়ার জন্য মিলিত হবেন এবং কার্যক্রম শুরু করবেন।
এরপর আগামী ২০ জানুয়ারি সোমবার নতুন প্রেসিডেন্ট এর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর এবং নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ডেস্ক রিপোর্ট 




















