সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু Logo হাম হলে শিশুকে যেসব খাবার খাওয়াবেন Logo ২২০০ পিঁপড়া পাচার চেষ্টায় চীনা নাগরিকের এক বছরের জেল Logo চট্টগ্রামে নিজেই হাসপাতালে এসে ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা নিলো কাক! Logo বাংলাদেশে প্রতি তিন শিশুর মধ্যে এক জন মারাত্মকভাবে জলবায়ু ঝুঁকির মুখে Logo এপ্রিল এখন পর্যন্ত সহনীয়, দেশে এবছরের গ্রীষ্ম কম ভোগাবে আশা আবহাওয়াবিদের   Logo আজ স্বাধীনতা পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo ‘ধান খাওয়ায়’ মেরে ফেলা হলো বাবুই পাখির ২৯ বাচ্চা, এক জনের কারাদণ্ড Logo পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া Logo জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হতে পারে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

‘ড্রিল বেবি ড্রিল’ বলা ট্রাম্পের জয়ে জলবায়ুর ভয়

  • নাসিমুল শুভ
  • আপডেট সময় ০৬:০৫:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৪
  • 161

‘ড্রিল বেবি ড্রিল’ বলা ট্রাম্পের জয়ে জলবায়ুর ভয়

পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র। জীবাশ্ম জ্বালানী ব্যবহারেও শীর্ষে মার্কিনীরা। শীর্ষ উন্নতদেশগুলোর জন্য পৃথিবী যখন ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে, দুর্যোগের ভয়াবহতা বাড়ছে। আর ঠিক এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হলেন এমন একজন যিনি ব্যবসায়ী চিন্তাধারার মানুষ হিসেবে পরিচিত এবং সবচেয়ে দুঃখজনক হলো তিনি জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চান না। বলা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ তম প্রেসিডেন্ট হতে চলা ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা। জলবায়ু পরিবর্তনকে ট্রাম্প অতিরঞ্জিত বিষয় ভাবেন।

এমনকি সদ্য নির্বাচনে জিতে বিজয় মঞ্চে দেওয়া ভাষণেও ট্রাম্প তার দেশের শিল্পের প্রয়োজনে তেল উৎপাদন ও ব্যবহার না থামানোর কথা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। বেশ দৃঢ়ভাবেই ট্রাম্প বলেছেন, “ড্রিল বেবি ড্রিল”। এর মাধ্যমে জীবাশ্ম জ্বালানি উত্তোলন এবং উৎপাদন বৃদ্ধির কথাই বলেছেন তিনি। এমনকি তিনি আর্কটিক অঞ্চলের মতো জায়গাগুলোতে তেল উত্তোলনের জন্য অনুমতি দিতে চান।

এরকম দর্শনগত জায়গা থেকেই দ্বিতীয়বার ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তন রোধে দেশটির বাইডেন আমলের প্রতিশ্রুতিগুলো থেকে সরে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর তা বাস্তব হলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার বৈশ্বিক উদ্যোগ-প্রতিশ্রুতিগুলোও প্রভাবিত হতে পারে।

ট্রাম্পকে নিয়ে জলবায়ু ভয়ের জন্মটা হয়েছে ২০১৬ সাল থেকে অর্থাৎ প্রথমবার তিনি যেবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন, তখন থেকেই।

২০১৬ সালের নভেম্বরে, মরক্কোর মারাকেশে হয়েছিল জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন। সম্মেলন শুরু হয়েছিল ট্রাম্পের জয়ের খবর দিয়ে। উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছিল সর্বত্র। কারণ, নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প বারবার জলবায়ু পরিবর্তন ও সেই সম্পর্কিত আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তাকে নাকচ করে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, জলবায়ু আন্দোলন এক ‘ব্যয়বহুল ধাপ্পাবাজি’। যুক্তিহীন, অহেতুক এবং সেটা ‘চীনের স্বার্থে চীনাদের তৈরি’। এসব মন্তব্য ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছিল তাঁর ঘোষণা। বলেছিলেন, প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে আসবে।

২০১৮ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, বিশ্বের জলবায়ু পরিস্থিতি নিয়ে বিজ্ঞানীরা যা বলেন এবং পরিসংখ্যানে যা উঠে আসে তার সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই।

আর কয়েকদিন পরেই আজারবাইজানের বাকুতে শুরু হবে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ ২৯। ট্রাম্পের জয়ে ২০১৬ সালে মরক্কোর জলবায়ু সম্মেলনের পুরনো ভীতি ফিরে এসেছে। ট্রাম্প তেল উৎপাদন বৃদ্ধি, চীনের ইলেকট্রনিক গাড়ি মোকাবিলায় নিজস্ব গাড়ি উৎপাদন বৃদ্ধি, আরও বেশি চাকরির সুযোগ দিতে গিয়ে জলবায়ুর কতটা ক্ষতি করবেন এই নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমনকি ধনী দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণের কারণে ভুগতে থাকা নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য জলবায়ু ক্ষয়-ক্ষতি মোকাবিলার তহবিলেও টান পড়তে পারে।

ট্রাম্পের জয়ের পরপরই গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনের শিরোনাম এরকম: “বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন- ট্রাম্পের জয় বৈশ্বিক জলবায়ু কর্মকাণ্ডকে পিছিয়ে দিয়েছে”

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটিকে বিজ্ঞানী এবং জলবায়ু বিশ্লেষক বিল হেয়ার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে একজন জলবায়ু পরিবর্তন অস্বীকারকারীর জয় অত্যন্ত বিপজ্জনক।’

ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফায় জলবায়ুর শঙ্কা নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যম ইটিভিভারত। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ট্রাম্পের এই জয় পৃথিবীর জলবায়ুর পরিবর্তনের জন্য বড় ধাক্কা। এমনটাই মনে করছেন পরিবেশবিদদের সিংহভাগ।’

সংবাদমাধ্যমটিকে দিল্লির সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট-এর ডিরেক্টর জেনারেল সুনীতা নারাইন বলেন, হোয়াইট হাউজের দৌড়ে ট্রাম্পের জয়ী হওয়াটা বিশ্বের জলবায়ু জন্য মোটেও সুখবর নয়। তিনি ক্ষমতায় এসে ইনফ্লেশন রিডাকশন অ্যাক্ট-এর (আইআরএ) মতো যুক্তরাষ্ট্রের অভ্য়ন্তরীণ নীতিগুলি প্রত্যাহার করে নিতে পারেন ৷

তিনি আরও বলেন, “জলবায়ু নিয়ে জো বাইডেন প্রশাসন দেশের অভ্যন্তরে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিল। সেটা  আন্তর্জাতিক স্তরের থেকেও বেশি কঠিন ছিল।  ট্রাম্প হয়তো এই ধরনের প্রচেষ্টাগুলিকে প্রত্যাহার করে নেবেন।  তার মধ্যে আইআরএ-ও থাকবে।’

আইআরএ-এর প্রয়োজনীতা ব্যাখ্যা করে সুনীতা বলেন, ‘ বিশ্বে আমেরিকা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন করে। সবচেয়ে বেশি পরিমাণে তেল ও গ্যাসের উৎপাদনকারী এবং রফতানিকারক দেশও যুক্তরাষ্ট্র।  প্রতিদিন ১৩  মিলিয়ন তেল ও গ্যাস উৎপন্ন হয়। ২০৩০ সালের মধ্যে এই নির্গমন ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং তা ২০০৫ সালের থেকেও কম করা- এই লক্ষ্যমাত্র পূরণে আইআরএ-র ভূমিকা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

ট্রাম্প কিন্তু এর উল্টো পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তাঁর প্রচারে ৷ জলবায়ু নিয়ে দুশ্চিন্তাকে নাকচ করে দিয়ে তিনি আরও বেশি পরিমাণে তেল ও গ্যাস উৎপাদনে জোর দিয়েছেন ৷ তিনি যদি আইআরএ প্রত্যাহার করে দেশে তেল উৎপাদন বৃদ্ধি করেন, তাহলে তা আন্তর্জাতিক স্তরে বিশ্বের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রচেষ্টাগুলির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু

‘ড্রিল বেবি ড্রিল’ বলা ট্রাম্পের জয়ে জলবায়ুর ভয়

আপডেট সময় ০৬:০৫:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৪

পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র। জীবাশ্ম জ্বালানী ব্যবহারেও শীর্ষে মার্কিনীরা। শীর্ষ উন্নতদেশগুলোর জন্য পৃথিবী যখন ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে, দুর্যোগের ভয়াবহতা বাড়ছে। আর ঠিক এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হলেন এমন একজন যিনি ব্যবসায়ী চিন্তাধারার মানুষ হিসেবে পরিচিত এবং সবচেয়ে দুঃখজনক হলো তিনি জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চান না। বলা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ তম প্রেসিডেন্ট হতে চলা ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা। জলবায়ু পরিবর্তনকে ট্রাম্প অতিরঞ্জিত বিষয় ভাবেন।

এমনকি সদ্য নির্বাচনে জিতে বিজয় মঞ্চে দেওয়া ভাষণেও ট্রাম্প তার দেশের শিল্পের প্রয়োজনে তেল উৎপাদন ও ব্যবহার না থামানোর কথা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। বেশ দৃঢ়ভাবেই ট্রাম্প বলেছেন, “ড্রিল বেবি ড্রিল”। এর মাধ্যমে জীবাশ্ম জ্বালানি উত্তোলন এবং উৎপাদন বৃদ্ধির কথাই বলেছেন তিনি। এমনকি তিনি আর্কটিক অঞ্চলের মতো জায়গাগুলোতে তেল উত্তোলনের জন্য অনুমতি দিতে চান।

এরকম দর্শনগত জায়গা থেকেই দ্বিতীয়বার ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তন রোধে দেশটির বাইডেন আমলের প্রতিশ্রুতিগুলো থেকে সরে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর তা বাস্তব হলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার বৈশ্বিক উদ্যোগ-প্রতিশ্রুতিগুলোও প্রভাবিত হতে পারে।

ট্রাম্পকে নিয়ে জলবায়ু ভয়ের জন্মটা হয়েছে ২০১৬ সাল থেকে অর্থাৎ প্রথমবার তিনি যেবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন, তখন থেকেই।

২০১৬ সালের নভেম্বরে, মরক্কোর মারাকেশে হয়েছিল জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন। সম্মেলন শুরু হয়েছিল ট্রাম্পের জয়ের খবর দিয়ে। উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছিল সর্বত্র। কারণ, নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প বারবার জলবায়ু পরিবর্তন ও সেই সম্পর্কিত আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তাকে নাকচ করে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, জলবায়ু আন্দোলন এক ‘ব্যয়বহুল ধাপ্পাবাজি’। যুক্তিহীন, অহেতুক এবং সেটা ‘চীনের স্বার্থে চীনাদের তৈরি’। এসব মন্তব্য ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছিল তাঁর ঘোষণা। বলেছিলেন, প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে আসবে।

২০১৮ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, বিশ্বের জলবায়ু পরিস্থিতি নিয়ে বিজ্ঞানীরা যা বলেন এবং পরিসংখ্যানে যা উঠে আসে তার সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই।

আর কয়েকদিন পরেই আজারবাইজানের বাকুতে শুরু হবে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ ২৯। ট্রাম্পের জয়ে ২০১৬ সালে মরক্কোর জলবায়ু সম্মেলনের পুরনো ভীতি ফিরে এসেছে। ট্রাম্প তেল উৎপাদন বৃদ্ধি, চীনের ইলেকট্রনিক গাড়ি মোকাবিলায় নিজস্ব গাড়ি উৎপাদন বৃদ্ধি, আরও বেশি চাকরির সুযোগ দিতে গিয়ে জলবায়ুর কতটা ক্ষতি করবেন এই নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমনকি ধনী দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণের কারণে ভুগতে থাকা নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য জলবায়ু ক্ষয়-ক্ষতি মোকাবিলার তহবিলেও টান পড়তে পারে।

ট্রাম্পের জয়ের পরপরই গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনের শিরোনাম এরকম: “বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন- ট্রাম্পের জয় বৈশ্বিক জলবায়ু কর্মকাণ্ডকে পিছিয়ে দিয়েছে”

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটিকে বিজ্ঞানী এবং জলবায়ু বিশ্লেষক বিল হেয়ার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে একজন জলবায়ু পরিবর্তন অস্বীকারকারীর জয় অত্যন্ত বিপজ্জনক।’

ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফায় জলবায়ুর শঙ্কা নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যম ইটিভিভারত। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ট্রাম্পের এই জয় পৃথিবীর জলবায়ুর পরিবর্তনের জন্য বড় ধাক্কা। এমনটাই মনে করছেন পরিবেশবিদদের সিংহভাগ।’

সংবাদমাধ্যমটিকে দিল্লির সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট-এর ডিরেক্টর জেনারেল সুনীতা নারাইন বলেন, হোয়াইট হাউজের দৌড়ে ট্রাম্পের জয়ী হওয়াটা বিশ্বের জলবায়ু জন্য মোটেও সুখবর নয়। তিনি ক্ষমতায় এসে ইনফ্লেশন রিডাকশন অ্যাক্ট-এর (আইআরএ) মতো যুক্তরাষ্ট্রের অভ্য়ন্তরীণ নীতিগুলি প্রত্যাহার করে নিতে পারেন ৷

তিনি আরও বলেন, “জলবায়ু নিয়ে জো বাইডেন প্রশাসন দেশের অভ্যন্তরে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিল। সেটা  আন্তর্জাতিক স্তরের থেকেও বেশি কঠিন ছিল।  ট্রাম্প হয়তো এই ধরনের প্রচেষ্টাগুলিকে প্রত্যাহার করে নেবেন।  তার মধ্যে আইআরএ-ও থাকবে।’

আইআরএ-এর প্রয়োজনীতা ব্যাখ্যা করে সুনীতা বলেন, ‘ বিশ্বে আমেরিকা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন করে। সবচেয়ে বেশি পরিমাণে তেল ও গ্যাসের উৎপাদনকারী এবং রফতানিকারক দেশও যুক্তরাষ্ট্র।  প্রতিদিন ১৩  মিলিয়ন তেল ও গ্যাস উৎপন্ন হয়। ২০৩০ সালের মধ্যে এই নির্গমন ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং তা ২০০৫ সালের থেকেও কম করা- এই লক্ষ্যমাত্র পূরণে আইআরএ-র ভূমিকা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

ট্রাম্প কিন্তু এর উল্টো পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তাঁর প্রচারে ৷ জলবায়ু নিয়ে দুশ্চিন্তাকে নাকচ করে দিয়ে তিনি আরও বেশি পরিমাণে তেল ও গ্যাস উৎপাদনে জোর দিয়েছেন ৷ তিনি যদি আইআরএ প্রত্যাহার করে দেশে তেল উৎপাদন বৃদ্ধি করেন, তাহলে তা আন্তর্জাতিক স্তরে বিশ্বের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রচেষ্টাগুলির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের।