এমনিতেই ঢাকার আকাশে খুব মনোযোগ দিয়ে তাকালে ঘোলাটে মনে হবে। আর শীত এলেতো কথাই নেই। গত রাতেও যারা ঢাকার আকাশ দেখেছেন তারা ধূলোমাখা কুয়াশাময় আকাশ দেখে থাকবেন। আজকে সকাল ৯ টায় বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহর তালিকায় শীর্ষে ছিল ঢাকা, এই প্রতিবেদন লেখার সময় তা কিছুটা নেমে শীর্ষ তালিকার ৩ নম্বরে রয়েছে। বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার এর ওয়েবসাইট এই তথ্য দিচ্ছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে আজ ঢাকার বাতাস খুবই অস্বাস্থ্যকর। বয়স্ক-শিশুরাতো বটেই, সংবেদনশীল যেকোনো মানুষের জন্য এই বাতাসে স্বাস্থ্য সমস্যার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে যারা বেশিক্ষণ খোলা জায়গায় এরকম বাতাসে থাকছেন তাদের শ্বাসকষ্ট, সর্দি-হাঁচির মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে বাইরে কম সময় থাকতে এবং ঘরেও জানালা বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে আইকিউএয়ার। সম্ভব হলে চালু রাখতে হবে এয়ার পিউরিফায়ার। বাইরে বের হলে অবশ্যই পরতে হবে মাস্ক।

আইকিউএয়ার সূচকে এই মুহূর্তে ঢাকার স্কোর ২২২, যা খুবই অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত। ঢাকার বায়ু দূষণের মূল উপাদান পিএম ২.৫ কণা বা বস্তুকণা। আজকে ঢাকার বাতাসে এই কণার হার বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার বেঁধে দেয়া হারের চেয়ে ২৯.৪ গুণ বেশি।
আইকিউএয়ারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে স্কোর শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত স্কোর মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়। আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। অন্যদিকে, স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে।
এছাড়া ৩০১ থেকে ৪০০ এর মধ্যে থাকা একিউআই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। সাধারণত একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের পাঁচটি ধরনকে ভিত্তি করে। যেমন: বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)।
ডেস্ক রিপোর্ট 




















