ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের জবাবে ইসরায়েল-মার্কিনী হুঙ্কার

তবে কি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধটা শুরু হয়ে গেল?

তবে কি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধটা শুরু হয়ে গেল?

১ অক্টোবর (মঙ্গলবার) রাতে ইসরায়েলে আঘাত হানে ইরানের ১৮১ টি বেশি ক্ষেপণাস্ত্র। ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর ৯০ শতাংশ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে দাবি করে ইরান বলেছে ইসরায়েল যদি আর উস্কানি না দেয় তাহলে এরকম হামলা তারা আর চালাবে না। যদিও ইসরায়েল ও মিত্র যুক্তরাষ্ট্র হুঙ্কার দিয়ে বলেছে তারা এই হামলার কড়া প্রতিক্রিয়া জানাবে। অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যে এখন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের সম্ভাবনা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

ইসরায়েলের ওপর ইরানের এই হামলা ছিল তেল আবিবে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বড় আক্রমণ।হামাসের সাবেক প্রধান ইসমাইল হানিয়া, হিজবুল্লাহর সাবেক প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ এবং নিজেদের এক কমান্ডারকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে এত বড় হামলা চালায় ইরান। হামলার পর ইসরায়েলজুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে প্রতিহত করার সময় তুমুল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে অনেক এলাকা। ইসরায়েলি মন্ত্রিপরিষদ থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকরা বিশেষ বাঙ্কারে আশ্রয় নেয়।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, নতুন করে ইসরায়েল কোনো উসকানি না দিলে ইরান আর হামলা করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি বলেছেন, আমাদের কর্মসূচি আপাতত শেষ। তবে ইসরায়েল যদি আবারও প্রতিশোধ নিয়ে যায়, তাহলে আমরা উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া জানাবো, যা হবে আরও শক্তিশালী।

“যদি কোনো প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবে ইসরায়েলের সব অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাবে ইরান।” ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর যুগ্ম প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরি এই ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে হামলার প্রতিক্রিয়ায় চিরচেনা আগ্রাসী মেজাজ দেখিয়েছে ইসরায়েল, তাতে তাল মিলিয়ে একই সুরে হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

তেল আবিবে নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠক করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৈঠক শেষে ইরানের হামলার প্রতিশোধ নেয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। বলেছেন, ‘ইরান বড় ভুল করেছে। এই জন্য তাদের চড়া মূল্য চোকাতে হবে।’ ইসরায়েলের সামরিক ও রাজনৈতিক মহল থেকেও একই কথা শোনা যাচ্ছে। তারা বলছেন, নেতানিয়াহু নির্দেশনা দিলেই পাল্টা হামলা হবে।

বিবিসি বলছে, ইসরায়েল এখন ইরানে বিমান হামলা চালাতে পারে। সম্ভবত তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য ব্যবহৃত সাইটগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা হতে পারে। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি মিশন এবং দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী এই পরিকল্পনা করে আসছে।ইরানের তেল উৎপাদন কেন্দ্রগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করতে পারে ইসরায়েল।

যদি সত্যিই ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বেঁধে যায়, তাহলে ইসরায়েলের পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার রাতের হামলার পর বুধবার সকালে এক বিবৃতিতে লয়েড অস্টিন বলেন, “আমরা ইরানের এই ভয়াবহ আগ্রাসী হামলার নিন্দা জানাচ্ছি এবং ইরান এবং তার সমর্থনপুষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে ইসরায়েলে আর কোনো হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”

“সেই সঙ্গে স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে, মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের সেনাঘাঁটি, ইসরায়েল এবং ওই অঞ্চলে আমাদের মিত্র ও অংশীদারদের লক্ষ্য করে যদি পরবর্তীতে কোনো ধরনের হামলা চালানো হয়, তাহলে আমরা ইসরায়েল ও আমাদের মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের পাশে থাকব এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী সেই হামলার সমুচিত জবাব দেবে।”

এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ বুধবার এক জরুরী বৈঠক ডেকেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের জবাবে ইসরায়েল-মার্কিনী হুঙ্কার

তবে কি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধটা শুরু হয়ে গেল?

আপডেট সময় ০৪:০৭:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ অক্টোবর ২০২৪

১ অক্টোবর (মঙ্গলবার) রাতে ইসরায়েলে আঘাত হানে ইরানের ১৮১ টি বেশি ক্ষেপণাস্ত্র। ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর ৯০ শতাংশ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে দাবি করে ইরান বলেছে ইসরায়েল যদি আর উস্কানি না দেয় তাহলে এরকম হামলা তারা আর চালাবে না। যদিও ইসরায়েল ও মিত্র যুক্তরাষ্ট্র হুঙ্কার দিয়ে বলেছে তারা এই হামলার কড়া প্রতিক্রিয়া জানাবে। অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যে এখন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের সম্ভাবনা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

ইসরায়েলের ওপর ইরানের এই হামলা ছিল তেল আবিবে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বড় আক্রমণ।হামাসের সাবেক প্রধান ইসমাইল হানিয়া, হিজবুল্লাহর সাবেক প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ এবং নিজেদের এক কমান্ডারকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে এত বড় হামলা চালায় ইরান। হামলার পর ইসরায়েলজুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে প্রতিহত করার সময় তুমুল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে অনেক এলাকা। ইসরায়েলি মন্ত্রিপরিষদ থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকরা বিশেষ বাঙ্কারে আশ্রয় নেয়।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, নতুন করে ইসরায়েল কোনো উসকানি না দিলে ইরান আর হামলা করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি বলেছেন, আমাদের কর্মসূচি আপাতত শেষ। তবে ইসরায়েল যদি আবারও প্রতিশোধ নিয়ে যায়, তাহলে আমরা উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া জানাবো, যা হবে আরও শক্তিশালী।

“যদি কোনো প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবে ইসরায়েলের সব অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাবে ইরান।” ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর যুগ্ম প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরি এই ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে হামলার প্রতিক্রিয়ায় চিরচেনা আগ্রাসী মেজাজ দেখিয়েছে ইসরায়েল, তাতে তাল মিলিয়ে একই সুরে হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

তেল আবিবে নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠক করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৈঠক শেষে ইরানের হামলার প্রতিশোধ নেয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। বলেছেন, ‘ইরান বড় ভুল করেছে। এই জন্য তাদের চড়া মূল্য চোকাতে হবে।’ ইসরায়েলের সামরিক ও রাজনৈতিক মহল থেকেও একই কথা শোনা যাচ্ছে। তারা বলছেন, নেতানিয়াহু নির্দেশনা দিলেই পাল্টা হামলা হবে।

বিবিসি বলছে, ইসরায়েল এখন ইরানে বিমান হামলা চালাতে পারে। সম্ভবত তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য ব্যবহৃত সাইটগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা হতে পারে। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি মিশন এবং দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী এই পরিকল্পনা করে আসছে।ইরানের তেল উৎপাদন কেন্দ্রগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করতে পারে ইসরায়েল।

যদি সত্যিই ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বেঁধে যায়, তাহলে ইসরায়েলের পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার রাতের হামলার পর বুধবার সকালে এক বিবৃতিতে লয়েড অস্টিন বলেন, “আমরা ইরানের এই ভয়াবহ আগ্রাসী হামলার নিন্দা জানাচ্ছি এবং ইরান এবং তার সমর্থনপুষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে ইসরায়েলে আর কোনো হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”

“সেই সঙ্গে স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে, মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের সেনাঘাঁটি, ইসরায়েল এবং ওই অঞ্চলে আমাদের মিত্র ও অংশীদারদের লক্ষ্য করে যদি পরবর্তীতে কোনো ধরনের হামলা চালানো হয়, তাহলে আমরা ইসরায়েল ও আমাদের মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের পাশে থাকব এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী সেই হামলার সমুচিত জবাব দেবে।”

এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ বুধবার এক জরুরী বৈঠক ডেকেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।