সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু Logo হাম হলে শিশুকে যেসব খাবার খাওয়াবেন Logo ২২০০ পিঁপড়া পাচার চেষ্টায় চীনা নাগরিকের এক বছরের জেল Logo চট্টগ্রামে নিজেই হাসপাতালে এসে ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা নিলো কাক! Logo বাংলাদেশে প্রতি তিন শিশুর মধ্যে এক জন মারাত্মকভাবে জলবায়ু ঝুঁকির মুখে Logo এপ্রিল এখন পর্যন্ত সহনীয়, দেশে এবছরের গ্রীষ্ম কম ভোগাবে আশা আবহাওয়াবিদের   Logo আজ স্বাধীনতা পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo ‘ধান খাওয়ায়’ মেরে ফেলা হলো বাবুই পাখির ২৯ বাচ্চা, এক জনের কারাদণ্ড Logo পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া Logo জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হতে পারে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

তাপপ্রবাহ শুধু অস্বস্তি নয়, এক নীরব ঘাতক

তাপপ্রবাহ শুধু অস্বস্তি নয়, এক নীরব ঘাতক

জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সাথে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বেড়ে চলেছে, একইসাথে তাপপ্রবাহ আরও বেশি তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হয়ে উঠছে। এধরণের তাপপ্রবাহকে অনেক চিকিৎসকরা বলছেন “নীরব ঘাতক”।

এখন প্রশ্ন হলো, গরম নিয়ে আমাদের কতটা চিন্তিত হওয়া উচিত? এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিজেদের নিরাপদ রাখা যায় কিভাবে?

 

প্রতি বছর গরমে কত মানুষ মারা যায়?

প্রতিবছর প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ তীব্র গরমের কারণে মারা যায়। যুদ্ধ কিংবা সন্ত্রাসবাদের চেয়েও এই সংখ্যা বেশি। যদিও সংখ্যাটা গাড়ি দুর্ঘটনা বা বায়ু দূষণের কারণে মৃতের চেয়ে কম।

মৃত্যুর কারণ হিসেবে “তাপ” খুব কমই সরাসরি উল্লেখ করা হয়। কারণ, তাপপ্রবাহ সাধারণত পরোক্ষভাবে একটি মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়।

যেমন – হৃদরোগ, ফুসফুসের রোগ, কিডনির অসুখ ইত্যাদি সমস্যা গরমের সময় মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

তাপপ্রবাহ কিভাবে আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে?

অত্যধিক গরম শরীরের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। যদি দিনের বেলায় খুব বেশি গরম থাকে, এবং রাতে শরীরের পর্যাপ্ত আরামের সুযোগ না থাকে, তখন হৃদযন্ত্র ও কিডনি শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য অতিরিক্ত কাজ করে ।

এছাড়া তীব্র তাপের ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, বায়ু দূষণ, দাবানল, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ইত্যাদি সমস্যাও দেখা দেয়। এতে সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়।

 

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কারা?

নিম্ন আয়ের মানুষ অধিক ঝুঁকিতে আছে, অর্থাৎ যেসব মানুষ অধিক সময় বাইরে কাজ করে। নির্মাণ শ্রমিক, দিনমজুর, কৃষক – এধরণের মানুষ সবচেয়ে বেশি হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিতে থাকেন।

তবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুহার দেখা যায় বয়স্কদের মধ্যে, বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে।

 

আর্দ্রতার কারণে গরম বেশি অনুভূত হয় কেন?

ঘাম শরীরের প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা হওয়ার উপায়। কিন্তু বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে ঘাম ত্বকে আটকে থাকে এবং বাষ্পীভবন বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে শরীর সহজে ঠান্ডা হতে পারে না।

এর ফলে যে গরম আমরা অনুভব করি, তা প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়ে কয়েক ডিগ্রি বেশি হয়।

তাপপ্রবাহ এত বাড়ছে কেন?

একশো বছরের বেশি সময় ধরে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হয়ে আসছে। এ থেকে সৃষ্ট দূষণ আমাদের বায়ুমণ্ডলকে এমনভাবে ঘন করে তুলেছে, যা সূর্যের তাপ আটকে রাখছে এবং পুরো পৃথিবীকে উত্তপ্ত করছে।

শিল্পযুগের আগে থেকে গড় তাপমাত্রা বেড়েছে প্রায় ১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্থলভাগে এর প্রভাব আরও বেশি।

 

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কি ঠান্ডায় মৃত্যুহার কমবে?

এখনও পর্যন্ত গরমের তুলনায় ঠান্ডা আবহাওয়ায় মৃত্যুবরণকারী মানুষের সংখ্যা বেশি। এমনকি আফ্রিকার সাহারা অঞ্চলে কিংবা দক্ষিণ এশিয়াতেও।

তবে ভবিষ্যতে ঠান্ডা কমে যাওয়ায় যতো মানুষ বেশি বাঁচবে, তার তুলনায় গরমের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা অধিক হারে বাড়বে। এমনটাই ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।

৮৫৪টি ইউরোপীয় শহরে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের যে কোনো রূপেই মোট মৃত্যুহার বাড়বে।

 

তাপপ্রবাহের সাথে খাপ খাওয়ানো যায় কিভাবে?

তাপপ্রবাহ কমাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো কমিয়ে আনা। এর পাশাপাশি বন ও জলাভূমি রক্ষা করা, যেগুলো বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে।

শহরগুলোতে কংক্রিট ও যানবাহনের ব্যবহার কমিয়ে বেশি বেশি পার্ক ও জলাশয় করার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

তাপপ্রবাহে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার উপায় কী?

গরমের সময় বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলুন। দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে বাইরে না গিয়ে ছায়ায় থাকার চেষ্টা করুন।

ঘর ঠান্ডা রাখতে দিনের বেলায় জানালা বন্ধ রাখুন, আর রাতের বেলায় যখন বাইরের তাপমাত্রা কমে যায়, তখন জানালা খুলুন। জানালায় ভারি পর্দা ব্যবহার করুন যাতে সরাসরি রোদ ঢুকতে না পারে।

চিকিৎসকরা বলেন বারবার পানি পান করতে। ঢিলেঢালা পোশাক পরুন এবং আপনার চারপাশের দুর্বল ও অসুস্থ মানুষদের খোঁজ নিন।

চলমান জলবায়ু সংকটে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি থেকে বাঁচতে হলে আমাদের ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করাও অপরিহার্য।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু

তাপপ্রবাহ শুধু অস্বস্তি নয়, এক নীরব ঘাতক

আপডেট সময় ০৪:৩২:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫

জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সাথে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বেড়ে চলেছে, একইসাথে তাপপ্রবাহ আরও বেশি তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হয়ে উঠছে। এধরণের তাপপ্রবাহকে অনেক চিকিৎসকরা বলছেন “নীরব ঘাতক”।

এখন প্রশ্ন হলো, গরম নিয়ে আমাদের কতটা চিন্তিত হওয়া উচিত? এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিজেদের নিরাপদ রাখা যায় কিভাবে?

 

প্রতি বছর গরমে কত মানুষ মারা যায়?

প্রতিবছর প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ তীব্র গরমের কারণে মারা যায়। যুদ্ধ কিংবা সন্ত্রাসবাদের চেয়েও এই সংখ্যা বেশি। যদিও সংখ্যাটা গাড়ি দুর্ঘটনা বা বায়ু দূষণের কারণে মৃতের চেয়ে কম।

মৃত্যুর কারণ হিসেবে “তাপ” খুব কমই সরাসরি উল্লেখ করা হয়। কারণ, তাপপ্রবাহ সাধারণত পরোক্ষভাবে একটি মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়।

যেমন – হৃদরোগ, ফুসফুসের রোগ, কিডনির অসুখ ইত্যাদি সমস্যা গরমের সময় মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

তাপপ্রবাহ কিভাবে আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে?

অত্যধিক গরম শরীরের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। যদি দিনের বেলায় খুব বেশি গরম থাকে, এবং রাতে শরীরের পর্যাপ্ত আরামের সুযোগ না থাকে, তখন হৃদযন্ত্র ও কিডনি শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য অতিরিক্ত কাজ করে ।

এছাড়া তীব্র তাপের ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, বায়ু দূষণ, দাবানল, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ইত্যাদি সমস্যাও দেখা দেয়। এতে সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়।

 

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কারা?

নিম্ন আয়ের মানুষ অধিক ঝুঁকিতে আছে, অর্থাৎ যেসব মানুষ অধিক সময় বাইরে কাজ করে। নির্মাণ শ্রমিক, দিনমজুর, কৃষক – এধরণের মানুষ সবচেয়ে বেশি হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিতে থাকেন।

তবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুহার দেখা যায় বয়স্কদের মধ্যে, বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে।

 

আর্দ্রতার কারণে গরম বেশি অনুভূত হয় কেন?

ঘাম শরীরের প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা হওয়ার উপায়। কিন্তু বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে ঘাম ত্বকে আটকে থাকে এবং বাষ্পীভবন বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে শরীর সহজে ঠান্ডা হতে পারে না।

এর ফলে যে গরম আমরা অনুভব করি, তা প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়ে কয়েক ডিগ্রি বেশি হয়।

তাপপ্রবাহ এত বাড়ছে কেন?

একশো বছরের বেশি সময় ধরে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হয়ে আসছে। এ থেকে সৃষ্ট দূষণ আমাদের বায়ুমণ্ডলকে এমনভাবে ঘন করে তুলেছে, যা সূর্যের তাপ আটকে রাখছে এবং পুরো পৃথিবীকে উত্তপ্ত করছে।

শিল্পযুগের আগে থেকে গড় তাপমাত্রা বেড়েছে প্রায় ১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্থলভাগে এর প্রভাব আরও বেশি।

 

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কি ঠান্ডায় মৃত্যুহার কমবে?

এখনও পর্যন্ত গরমের তুলনায় ঠান্ডা আবহাওয়ায় মৃত্যুবরণকারী মানুষের সংখ্যা বেশি। এমনকি আফ্রিকার সাহারা অঞ্চলে কিংবা দক্ষিণ এশিয়াতেও।

তবে ভবিষ্যতে ঠান্ডা কমে যাওয়ায় যতো মানুষ বেশি বাঁচবে, তার তুলনায় গরমের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা অধিক হারে বাড়বে। এমনটাই ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।

৮৫৪টি ইউরোপীয় শহরে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের যে কোনো রূপেই মোট মৃত্যুহার বাড়বে।

 

তাপপ্রবাহের সাথে খাপ খাওয়ানো যায় কিভাবে?

তাপপ্রবাহ কমাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো কমিয়ে আনা। এর পাশাপাশি বন ও জলাভূমি রক্ষা করা, যেগুলো বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে।

শহরগুলোতে কংক্রিট ও যানবাহনের ব্যবহার কমিয়ে বেশি বেশি পার্ক ও জলাশয় করার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

তাপপ্রবাহে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার উপায় কী?

গরমের সময় বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলুন। দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে বাইরে না গিয়ে ছায়ায় থাকার চেষ্টা করুন।

ঘর ঠান্ডা রাখতে দিনের বেলায় জানালা বন্ধ রাখুন, আর রাতের বেলায় যখন বাইরের তাপমাত্রা কমে যায়, তখন জানালা খুলুন। জানালায় ভারি পর্দা ব্যবহার করুন যাতে সরাসরি রোদ ঢুকতে না পারে।

চিকিৎসকরা বলেন বারবার পানি পান করতে। ঢিলেঢালা পোশাক পরুন এবং আপনার চারপাশের দুর্বল ও অসুস্থ মানুষদের খোঁজ নিন।

চলমান জলবায়ু সংকটে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি থেকে বাঁচতে হলে আমাদের ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করাও অপরিহার্য।