সংবাদ শিরোনাম ::

দিওয়ালি উৎসবে ভারতের যে ‘ভয়’

দিওয়ালি উৎসবে ভারতের যে 'ভয়'

আগামীকাল ভারতের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দিওয়ালি বা দীপাবলি। দিওয়ালী মানেই দিনে পটকা রাতে আতশবাজি, ব্যাপক হইচই। দরজা-জানালা আটকে কোনোমতে নাহয় পটকা-আতশবাজির শব্দ কিছুটা কমানো গেল কিন্তু এগুলো পোড়ানোর মাত্রাতিরিক্ত ধোঁয়া এড়ানো প্রায় অসম্ভব।

স্বাস্থ্যকর্মীদের বরাতে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীপাবলিতে আজকাল প্রদীপ বা মোমবাতি ছাড়াও ব্যবহৃত হয় বিপুল পরিমাণে বারুদ এবং নানা ধরনের রাসায়নিক মশলা। নানা ধরনের বাজি থেকে ঘটে চলে বিভিন্নরকম দূষণ। মানুষের বসতি অঞ্চলে শরীরের খুব কাছে বাজি পোড়ানো হয় বলে স্বাস্থ্যের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে সরাসরি, এবং ব্যাপকভাবে।

প্রথমেই শব্দবাজির কথা ধরা যাক, যার বিরুদ্ধে গত কয়েক বছরে বেশ কিছু সামাজিক আন্দোলন হয়েছে এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। শব্দবাজি বায়ুদূষণ ছাড়াও যে বিশেষ ধরণের দূষণ ছড়ায়, তা হলো শব্দদূষণ। হঠাৎ প্রাণ কাঁপানো শব্দ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শব্দ না করা বাজিরাও একান্ত নিরীহ নয়। সবরকম বাজি থেকেই বেরোয় বিষাক্ত ধোঁয়া। তার দ্বারা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয় মূলত চোখ ও ফুসফুস। রাসায়নিকের প্রভাবে ক্ষতি হতে পারে অন্যান্য অঙ্গেরও। বাজির ধোঁয়ায় কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাইওক্সাইড জাতীয় বিষাক্ত গ্যাস থাকে। বিভিন্ন বাজির মধ্যে কার্বন ও সালফার যৌগ ছাড়াও গুঁড়ো লোহা, ম্যাঙ্গানিজ, সোডিয়াম অক্সালেট, আর্সেনিক ও অ্যালুমিনিয়াম যৌগ, বেরিয়াম নাইট্রেট, পটাসিয়াম পারক্লোরেট ইত্যাদি বিভিন্ন রাসায়নিক থাকে। এগুলির বিক্রিয়ায় রঙ, বিচিত্র স্ফুলিঙ্গ ইত্যাদি যেমন সৃষ্টি হয়, তেমনই তৈরি হয় স্বাস্থ্যনাশা ধোঁয়াও। সেসব ধোঁয়া ফুসফুসে প্রবেশ করলে বিশেষত হাঁপানি বা ব্রংকাইটিস রোগীদের প্রবল শ্বাসকষ্ট হতে পারে। হৃদরোগের সম্ভাবনাও থাকে।

অনেকক্ষণ এই ধোঁয়ার মধ্যে থাকলে কোষে অক্সিজেনের ঘাটতিজনিত সমস্যা হবে, মাথা ধরবে। অনেকটা ধোঁয়া ফুসফুসে গেলে কিছু ক্ষেত্রে পরবর্তী দুই-তিন দিনের মধ্যে অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিস্ট্রেস সিন্ড্রোম নামক প্রাণঘাতী ফুসফুসের রোগ হতে পারে, যার দরুন রোগীর কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র (ভেন্টিলেটর) প্রয়োজন হতে পারে।

দিওয়ালিতে বিপদ বাড়ে রাজধানী দিল্লিতে। এই ঋতুতে এমনিতেও দিল্লির বাতাসে স্মগ বা ধোঁয়া মিশ্রিত কুয়াশা ভর করে। আর দিওয়ালিতে পোড়া পটকা-আতশবাজির ধোঁয়া গ্রাস করে ধুঁকতে থাকা দিল্লিকে। ফলে সংবেদনশীল গোষ্ঠীতো বটেই সাধারণ সুস্থ মানুষকেও শ্বাস নিতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

তাই এবারও বিগত কয়েক বছরের মতো দিল্লিতে পটকা-আতশবাজি বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। দিওয়ালির দূষণ রোধে এবার অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহেই বিশেষ নির্দেশনা দেয় দিল্লি।

ভারতের ‘সংবাদপ্রতিদিন’ এর এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ‘শীত পড়ার আগেই দূষণের মাত্রা ব্যাপকভাবে বাড়তে শুরু করেছে রাজধানী দিল্লিতে। বায়ু দূষণ রুখতে এবার বড় পদক্ষেপ নিল দিল্লির সরকার। ১৪ অক্টোবর বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, দীপাবলিতো বটেই আগামী ১ জানুয়ারি পর্যন্ত কোনও বাজি পুড়বে না দিল্লিতে। সব ধরনের বাজির উপর জারি থাকবে এই নির্দেশিকা।’

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

মাঝারি রূপ নিচ্ছে তাপপ্রবাহ,তাপমাত্রা হতে পারে ৩৬ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস

দিওয়ালি উৎসবে ভারতের যে ‘ভয়’

আপডেট সময় ১২:৪৭:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৪

আগামীকাল ভারতের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দিওয়ালি বা দীপাবলি। দিওয়ালী মানেই দিনে পটকা রাতে আতশবাজি, ব্যাপক হইচই। দরজা-জানালা আটকে কোনোমতে নাহয় পটকা-আতশবাজির শব্দ কিছুটা কমানো গেল কিন্তু এগুলো পোড়ানোর মাত্রাতিরিক্ত ধোঁয়া এড়ানো প্রায় অসম্ভব।

স্বাস্থ্যকর্মীদের বরাতে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীপাবলিতে আজকাল প্রদীপ বা মোমবাতি ছাড়াও ব্যবহৃত হয় বিপুল পরিমাণে বারুদ এবং নানা ধরনের রাসায়নিক মশলা। নানা ধরনের বাজি থেকে ঘটে চলে বিভিন্নরকম দূষণ। মানুষের বসতি অঞ্চলে শরীরের খুব কাছে বাজি পোড়ানো হয় বলে স্বাস্থ্যের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে সরাসরি, এবং ব্যাপকভাবে।

প্রথমেই শব্দবাজির কথা ধরা যাক, যার বিরুদ্ধে গত কয়েক বছরে বেশ কিছু সামাজিক আন্দোলন হয়েছে এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। শব্দবাজি বায়ুদূষণ ছাড়াও যে বিশেষ ধরণের দূষণ ছড়ায়, তা হলো শব্দদূষণ। হঠাৎ প্রাণ কাঁপানো শব্দ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শব্দ না করা বাজিরাও একান্ত নিরীহ নয়। সবরকম বাজি থেকেই বেরোয় বিষাক্ত ধোঁয়া। তার দ্বারা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয় মূলত চোখ ও ফুসফুস। রাসায়নিকের প্রভাবে ক্ষতি হতে পারে অন্যান্য অঙ্গেরও। বাজির ধোঁয়ায় কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাইওক্সাইড জাতীয় বিষাক্ত গ্যাস থাকে। বিভিন্ন বাজির মধ্যে কার্বন ও সালফার যৌগ ছাড়াও গুঁড়ো লোহা, ম্যাঙ্গানিজ, সোডিয়াম অক্সালেট, আর্সেনিক ও অ্যালুমিনিয়াম যৌগ, বেরিয়াম নাইট্রেট, পটাসিয়াম পারক্লোরেট ইত্যাদি বিভিন্ন রাসায়নিক থাকে। এগুলির বিক্রিয়ায় রঙ, বিচিত্র স্ফুলিঙ্গ ইত্যাদি যেমন সৃষ্টি হয়, তেমনই তৈরি হয় স্বাস্থ্যনাশা ধোঁয়াও। সেসব ধোঁয়া ফুসফুসে প্রবেশ করলে বিশেষত হাঁপানি বা ব্রংকাইটিস রোগীদের প্রবল শ্বাসকষ্ট হতে পারে। হৃদরোগের সম্ভাবনাও থাকে।

অনেকক্ষণ এই ধোঁয়ার মধ্যে থাকলে কোষে অক্সিজেনের ঘাটতিজনিত সমস্যা হবে, মাথা ধরবে। অনেকটা ধোঁয়া ফুসফুসে গেলে কিছু ক্ষেত্রে পরবর্তী দুই-তিন দিনের মধ্যে অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিস্ট্রেস সিন্ড্রোম নামক প্রাণঘাতী ফুসফুসের রোগ হতে পারে, যার দরুন রোগীর কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র (ভেন্টিলেটর) প্রয়োজন হতে পারে।

দিওয়ালিতে বিপদ বাড়ে রাজধানী দিল্লিতে। এই ঋতুতে এমনিতেও দিল্লির বাতাসে স্মগ বা ধোঁয়া মিশ্রিত কুয়াশা ভর করে। আর দিওয়ালিতে পোড়া পটকা-আতশবাজির ধোঁয়া গ্রাস করে ধুঁকতে থাকা দিল্লিকে। ফলে সংবেদনশীল গোষ্ঠীতো বটেই সাধারণ সুস্থ মানুষকেও শ্বাস নিতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

তাই এবারও বিগত কয়েক বছরের মতো দিল্লিতে পটকা-আতশবাজি বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। দিওয়ালির দূষণ রোধে এবার অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহেই বিশেষ নির্দেশনা দেয় দিল্লি।

ভারতের ‘সংবাদপ্রতিদিন’ এর এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ‘শীত পড়ার আগেই দূষণের মাত্রা ব্যাপকভাবে বাড়তে শুরু করেছে রাজধানী দিল্লিতে। বায়ু দূষণ রুখতে এবার বড় পদক্ষেপ নিল দিল্লির সরকার। ১৪ অক্টোবর বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, দীপাবলিতো বটেই আগামী ১ জানুয়ারি পর্যন্ত কোনও বাজি পুড়বে না দিল্লিতে। সব ধরনের বাজির উপর জারি থাকবে এই নির্দেশিকা।’