আসছে দীপাবলিতেও এবার বাজি পুড়বে না দিল্লিতে! ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে আতশবাজির উপর ‘সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা’ জারি করেছে সরকার। এবারও দিল্লিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে বায়ু দূষণের মাত্রা। এই পরিস্থিতিতে সোমবার দিল্লির দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটির তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে, ‘‘২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত সব ধরনের বাজি উৎপাদন, জমিয়ে রাখা, বিক্রি (অনলাইনেও) এবং পোড়ানো নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি সরকার।’’ অর্থাৎ, দীপাবলির সময়েই বাজি পোড়াতে পারবেন না দিল্লিবাসী।

নয়াদিল্লি প্রতি শরৎকালে তীব্র ধোঁয়াশায় আচ্ছন্ন থাকে। পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের কৃষকদের খড় পোড়ানোর জন্য এমনটা হলেও দীপাবলিকে ঘিরে বিপুল সংখ্যক আতশবাজি পোড়ানোর ফলে বায়ু দূষণ ব্যাপক আকার ধারণ করে। বিজ্ঞপ্তিটি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট করেছেন দিল্লির পরিবেশ মন্ত্রী গোপাল রায়। তিনি জানিয়েছেন, শীতকালে দিল্লিতে দূষণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। সে কারণে বাজি পোড়ানো, উৎপাদন, বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই বিষয়ে দিল্লিবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন মন্ত্রী। পরে দিল্লির দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটি (DPCC) নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার জন্য বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করেছে। এই নিষেধাজ্ঞা সব ধরণের আতশবাজির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, এমনকি অনলাইন বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও। নির্দেশ অনুযায়ী, দিল্লি পুলিশকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিদিনের কার্যক্রমের প্রতিবেদন দিল্লি দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটিতে (DPCC) জমা দিতে হবে। যদি কেউ এই আদেশ লঙ্ঘন করে, সেক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

২০২০ সালের একটি ল্যানসেট রিপোর্টে বলা হয়েছে যে ২০১৯ সালে দিল্লিতে বায়ু দূষণের কারণে সৃষ্ট নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ লোক প্রাণ হারায়। দিল্লি দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটির এক বিবৃতিতে জানায়, শহরটিতে সব ধরনের আতশবাজি তৈরি, সংরক্ষণ, বিক্রি ও ফাটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ‘উচ্চ বায়ু দূষণ রোধে জনস্বার্থে’ এ আদেশ দেওয়া হয়েছে।
১ নভেম্বর হিন্দু ধর্মীয় উৎসব দীপাবলি’র দুই সপ্তাহ আগে আদেশটি দেওয়া হলো। অনেকে আতশবাজিকে হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসব দীপাবলি উদযাপনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে মনে করেন। দর্শনীয় ও রঙিন উৎসবটি অন্ধকারের উপর আলোর বিজয়ের প্রতীক। হিন্দু দেবী লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে এই আয়োজন করা হয়। পুলিশও প্রায় ৩ কোটি মানুষের এই শহরে বিধিনিষেধগুলো বরাবরই শিথিল চোখে দেখে থাকে।
ডেস্ক রিপোর্ট 




















