দুর্গাপূজায় ইলিশ ভোজন নিয়ে সনাতনী ধর্ম কী বলে?

দুর্গাপূজায় ইলিশ ভোজন নিয়ে সনাতনী ধর্ম কি বলে?

বাংলাদেশসহ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু বাঙালিদের বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। ইলিশ না খেলে, ইলিশ না এলে দুর্গাপূজাই যেন মাটি। প্রতিবার বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশ না এলে যেন পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপূজা উৎসবমুখর হয় না। এজন্য ইলিশের জন্য তারা মুখিয়ে থাকেন। এবার আর পূজার সময় পদ্মার ইলিশ পাঠানো হবে না ভারতে। এমন ঘোষণাই ছিল সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের। তিনি বলেছিলেন দেশের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে তারপর ইলিশ মাছ বিদেশে রপ্তানি করা হবে। “দেশের মানুষ যাতে ইলিশ মাছ পায় এবং দাম কমে, সেই উদ্যোগ নেওয়া হবে। দেশের মানুষ ইলিশ পাবে না, আর রপ্তানি হবে সেটা হতে পারে না।”

প্রতিবছর রাজনীতির সৌজন্য উপহার হিসেবে পাঠানো হত শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ক্ষমতার হাতবদলে এবার এই রীতিতে ছেদ পড়েছিল। গত শনিবার আচমকাই সিদ্ধান্ত বদলে ফেলে বাংলাদেশ। দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ভারতে ৩ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এনিয়ে বাংলাদেশে ফেসবুকসহ নানান স্যোশাল মিডিয়ায় বেশ সরগোল পড়ে যায়। কিন্তু আদৌ কী দুর্গাপূজার সঙ্গে ইলিশ মাছের সম্পর্ক আছে?

দুর্গাপূজায় ইলিশ ভোজন নিয়ে সনাতনী ধর্ম কি বলে? prokritibarta

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্গাপুজোর যে ধর্মীয় আচার, সেখানে কোথাও ইলিশ মাছ বা পদ্মার ইলিশের প্রসঙ্গ নেই। এটি মূলত প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা একটি লোকাচার, যা এখন বাঙালিদের হুজুগ প্রথায় পরিণত হয়েছে। দুর্গাপুজোর সময়ে শরৎকালে ইলিশ মাছ খাওয়ার ‘হুজুগ’ শুরু হলেও গাঙ্গেয় বঙ্গদেশে ইলিশ মাছের কথা প্রাচীন সাহিত্যকর্ম বা পুরাণে একাধিকবার উল্লেখিত হয়েছে বলে জানা যায়।

পশ্চিমবঙ্গের ইলিশ গবেষক দিগেন বর্মন ‘ইলিশ পুরাণ’ বইয়ে লিখেছেন, “ইল্লিশো মধুর / স্নিগ্ধো রোচনো/ বহ্নিবর্জনঃ/ পিত্তিকৃৎ কফকৃৎ/ কিঞ্চিল্লঘু ধর্মোহ নিলাজহঃ, অর্থাৎ ইলিশ মাছ মধুর, স্নিগ্ধ, রোচক ও বলবর্দ্ধক, পিত্তকারী, কিঞ্চিৎ কফকারী, লঘু পুষ্টিকর ও বাতনাশক। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে ইলিশ মাছের গুণাগুণ নিয়ে এভাবেই লেখা আছে। এ থেকে প্রমাণিত হয় ইলিশ মাছের প্রতি আমাদের আসক্তি অতি প্রাচীন। ‘আর একটি উদ্ভট শ্লোক লেখার লোভ সামলাতে পারছি না। ইলিশো খলিশশ্চৈব্ ভেটকিমর্দগুর এবচ/ রোহিতো মৎসরাজেন্দ্রঃ পশ্চমৎস্যা নিরামিষাঃ।। সব থেকে ভাল যে পাঁচটি মাছ তার মাথায় রয়েছে ইলিশ। নিরামিষ ভোজীরাও নির্দ্বিধায় নিরামিষ হিসাবে ইলিশ মাছ খেতে পারে অবশ্য তাদের যদি তেমন খাবার ইচ্ছা থাকে,’। ‘পদ্মপুরাণে রান্নার নানারকম বিবরণ আছে; তারকা তার নন্দাই লখিন্দরের জন্য যে রান্না করেছিলেন তাতে মাছ আর শাক দিয়ে রান্নার কথায়; রোহিতের মুণ্ড দিয়া রান্ধে মুলাশাক/ সরিষার শাক রান্ধে ইলিশার শিরে।’

দুর্গাপূজায় ইলিশ ভোজন নিয়ে সনাতনী ধর্ম কি বলে? prokritibarta

লেখা থেকে এটা স্পষ্ট হয় যে, বাঙালির রান্নায় ইলিশ মাছের উপস্থিতি বহু যুগ ধরেই রয়েছে। যদিও দুর্গাপূজার সঙ্গে ইলিশ মাছের কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায় না বলে জানিয়েছেন পুরাণ গবেষক শরদিন্দু উদ্দীপন। প্রাক-আর্যকাল থেকেই বাংলার নানা অঞ্চলের লোক-উৎসবে ইলিশ মাছ খাওয়ার প্রচলন ছিল। ইলিশ মাছের সঙ্গে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের একটা নিবিড় যোগ আছে। তার ফলে এই সময়ে নিম্ন বঙ্গে যতগুলো খাদ্যোৎসব হয়ে আসছে প্রাচীন কাল থেকে তার সবগুলিতেই ইলিশের উপস্থিতি পাওয়া যায়। সেই উৎসবগুলিকে এখনও এই অঞ্চলের লোক-জীবনকে ঘিরে রেখেছে।

‘কুড়মিদের করম উৎসব বা সাঁওতালদের কারাম উৎসবে যে নবপত্রিকার আরাধনা করা হয়, শাকাম্ভরী দুর্গাপূজাতেও সেই নবপত্রিকার পুজো আমরা দেখে থাকি। প্রাচীন লোক-উৎসবগুলির সঙ্গে এখনকার দুর্গাপূজার যোগটা এখানে। আবার গাসি পুজো, কুলোয় পুজো বা দক্ষিণবঙ্গের আরেকটি বিখ্যাত রান্না পুজোতেও ইলিশ বাধ্যতামূলক। রান্না পূজাতে হাজার ব্যঞ্জন রান্না করা হলেও ইলিশ মাছ থাকবেই,’ বলছিলেন গবেষক শরদিন্দু উদ্দীপন। তিনি বলেন, দুর্গাপূজায় ইলিশ মাছ ভোগ দেওয়ার যে প্রথা এখন দেখা যায়, তার কোনো পৌরাণিক ব্যাখ্যা নেই। এই প্রথা শুরু হয় অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে, কলকাতায় যখন রাজা নব কৃষ্ণ দেব দুর্গাপূজা শুরু করলেন, তারপর থেকে। গোড়ার দিকের ওইসব দুর্গাপূজায় মূলত: বৈভব প্রদর্শনের অঙ্গ হিসাবেই ইলিশের প্রচলন শুরু হয়। তার আগে পর্যন্ত অবিভক্ত বঙ্গে ইলিশ মাছ ছিল লোক-উৎসবের অংশ।

দুর্গাপূজায় ইলিশ ভোজন নিয়ে সনাতনী ধর্ম কি বলে? prokritibarta

বাঙালি হোটেল রেস্তোরাঁয় তো বটেই, অনেক পশ্চিমা কায়দার হোটেলেও দুর্গাপূজার স্পেশাল মেনুতে ইলিশের পদ থাকে। আবার পূর্ববঙ্গীয়দের বাড়িতে লক্ষ্মীপূজার দিনে জোড়া ইলিশ খাওয়ার চল রয়েছে। সে দিনই ইলিশ খাওয়া বন্ধ হয়ে যায় প্রজননের সময় শুরু হয় বলে, আবার জানুয়ারির শেষ বা ফেব্রুয়ারিতে সরস্বতী পূজার দিনে ইলিশ খাওয়া শুরু হয়। দুর্গাপূজার আচার-রীতির সঙ্গে ইলিশ মাছের কোনো যোগ না পাওয়া গেলেও নিম্ন-বঙ্গ অঞ্চলে যে বর্ষাকালের লোক-উৎসবগুলিতে ইলিশের প্রচলন ছিল, তা একাধিক গবেষক জানাচ্ছেন। তারা আবার এটাও বলছেন পশ্চিমবঙ্গীয় এবং পূর্ববঙ্গীয় মানুষদের মধ্যে ইলিশ খাওয়ার সময়কালে ফারাক রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গীয়রা দুর্গাপূজার আগেই ইলিশ খাওয়া বন্ধ করে দেন, অন্যদিকে পূর্ববঙ্গীয়দের একাংশ দুর্গাপুজোর পরে লক্ষ্মীপুজোয় ইলিশ খেয়ে তার পরে ইতি টানেন। খাদ্য-গবেষক-লেখক ও ফুড ভ্লগার সুরবেক বিশ্বাস বলছিলেন অবিভক্ত বাংলার দুই অঞ্চলের মানুষের ইলিশ খাওয়ার সময়কালের এই ফারাক। তিনি আরও বলেন, ‘দুর্গাপূজায় পাঁঠা বলি হত, আবার যেসব বাড়িতে প্রাণিহত্যা করা হয় না, সেখানে চালকুমড়ো বলি দেওয়া হয়। কিন্তু দেবীকে ইলিশ ভোগ দেওয়া হচ্ছে, এটা সচরাচর শোনা যেত না। ইলিশ একটা উৎসবকে চিহ্নিত করে, এটা পূজার নয়। এটা এখন একটা হুজুগ। শরৎকাল, আশ্বিন মাস তো ইলিশ খাওয়ার সময়ও নয়।’

জনপ্রিয় সংবাদ

তামিমকে নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দেখতে চান সাকিব আল হাসান

দুর্গাপূজায় ইলিশ ভোজন নিয়ে সনাতনী ধর্ম কী বলে?

আপডেট সময় ০৬:৫৩:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪

বাংলাদেশসহ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু বাঙালিদের বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। ইলিশ না খেলে, ইলিশ না এলে দুর্গাপূজাই যেন মাটি। প্রতিবার বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশ না এলে যেন পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপূজা উৎসবমুখর হয় না। এজন্য ইলিশের জন্য তারা মুখিয়ে থাকেন। এবার আর পূজার সময় পদ্মার ইলিশ পাঠানো হবে না ভারতে। এমন ঘোষণাই ছিল সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের। তিনি বলেছিলেন দেশের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে তারপর ইলিশ মাছ বিদেশে রপ্তানি করা হবে। “দেশের মানুষ যাতে ইলিশ মাছ পায় এবং দাম কমে, সেই উদ্যোগ নেওয়া হবে। দেশের মানুষ ইলিশ পাবে না, আর রপ্তানি হবে সেটা হতে পারে না।”

প্রতিবছর রাজনীতির সৌজন্য উপহার হিসেবে পাঠানো হত শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ক্ষমতার হাতবদলে এবার এই রীতিতে ছেদ পড়েছিল। গত শনিবার আচমকাই সিদ্ধান্ত বদলে ফেলে বাংলাদেশ। দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ভারতে ৩ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এনিয়ে বাংলাদেশে ফেসবুকসহ নানান স্যোশাল মিডিয়ায় বেশ সরগোল পড়ে যায়। কিন্তু আদৌ কী দুর্গাপূজার সঙ্গে ইলিশ মাছের সম্পর্ক আছে?

দুর্গাপূজায় ইলিশ ভোজন নিয়ে সনাতনী ধর্ম কি বলে? prokritibarta

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্গাপুজোর যে ধর্মীয় আচার, সেখানে কোথাও ইলিশ মাছ বা পদ্মার ইলিশের প্রসঙ্গ নেই। এটি মূলত প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা একটি লোকাচার, যা এখন বাঙালিদের হুজুগ প্রথায় পরিণত হয়েছে। দুর্গাপুজোর সময়ে শরৎকালে ইলিশ মাছ খাওয়ার ‘হুজুগ’ শুরু হলেও গাঙ্গেয় বঙ্গদেশে ইলিশ মাছের কথা প্রাচীন সাহিত্যকর্ম বা পুরাণে একাধিকবার উল্লেখিত হয়েছে বলে জানা যায়।

পশ্চিমবঙ্গের ইলিশ গবেষক দিগেন বর্মন ‘ইলিশ পুরাণ’ বইয়ে লিখেছেন, “ইল্লিশো মধুর / স্নিগ্ধো রোচনো/ বহ্নিবর্জনঃ/ পিত্তিকৃৎ কফকৃৎ/ কিঞ্চিল্লঘু ধর্মোহ নিলাজহঃ, অর্থাৎ ইলিশ মাছ মধুর, স্নিগ্ধ, রোচক ও বলবর্দ্ধক, পিত্তকারী, কিঞ্চিৎ কফকারী, লঘু পুষ্টিকর ও বাতনাশক। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে ইলিশ মাছের গুণাগুণ নিয়ে এভাবেই লেখা আছে। এ থেকে প্রমাণিত হয় ইলিশ মাছের প্রতি আমাদের আসক্তি অতি প্রাচীন। ‘আর একটি উদ্ভট শ্লোক লেখার লোভ সামলাতে পারছি না। ইলিশো খলিশশ্চৈব্ ভেটকিমর্দগুর এবচ/ রোহিতো মৎসরাজেন্দ্রঃ পশ্চমৎস্যা নিরামিষাঃ।। সব থেকে ভাল যে পাঁচটি মাছ তার মাথায় রয়েছে ইলিশ। নিরামিষ ভোজীরাও নির্দ্বিধায় নিরামিষ হিসাবে ইলিশ মাছ খেতে পারে অবশ্য তাদের যদি তেমন খাবার ইচ্ছা থাকে,’। ‘পদ্মপুরাণে রান্নার নানারকম বিবরণ আছে; তারকা তার নন্দাই লখিন্দরের জন্য যে রান্না করেছিলেন তাতে মাছ আর শাক দিয়ে রান্নার কথায়; রোহিতের মুণ্ড দিয়া রান্ধে মুলাশাক/ সরিষার শাক রান্ধে ইলিশার শিরে।’

দুর্গাপূজায় ইলিশ ভোজন নিয়ে সনাতনী ধর্ম কি বলে? prokritibarta

লেখা থেকে এটা স্পষ্ট হয় যে, বাঙালির রান্নায় ইলিশ মাছের উপস্থিতি বহু যুগ ধরেই রয়েছে। যদিও দুর্গাপূজার সঙ্গে ইলিশ মাছের কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায় না বলে জানিয়েছেন পুরাণ গবেষক শরদিন্দু উদ্দীপন। প্রাক-আর্যকাল থেকেই বাংলার নানা অঞ্চলের লোক-উৎসবে ইলিশ মাছ খাওয়ার প্রচলন ছিল। ইলিশ মাছের সঙ্গে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের একটা নিবিড় যোগ আছে। তার ফলে এই সময়ে নিম্ন বঙ্গে যতগুলো খাদ্যোৎসব হয়ে আসছে প্রাচীন কাল থেকে তার সবগুলিতেই ইলিশের উপস্থিতি পাওয়া যায়। সেই উৎসবগুলিকে এখনও এই অঞ্চলের লোক-জীবনকে ঘিরে রেখেছে।

‘কুড়মিদের করম উৎসব বা সাঁওতালদের কারাম উৎসবে যে নবপত্রিকার আরাধনা করা হয়, শাকাম্ভরী দুর্গাপূজাতেও সেই নবপত্রিকার পুজো আমরা দেখে থাকি। প্রাচীন লোক-উৎসবগুলির সঙ্গে এখনকার দুর্গাপূজার যোগটা এখানে। আবার গাসি পুজো, কুলোয় পুজো বা দক্ষিণবঙ্গের আরেকটি বিখ্যাত রান্না পুজোতেও ইলিশ বাধ্যতামূলক। রান্না পূজাতে হাজার ব্যঞ্জন রান্না করা হলেও ইলিশ মাছ থাকবেই,’ বলছিলেন গবেষক শরদিন্দু উদ্দীপন। তিনি বলেন, দুর্গাপূজায় ইলিশ মাছ ভোগ দেওয়ার যে প্রথা এখন দেখা যায়, তার কোনো পৌরাণিক ব্যাখ্যা নেই। এই প্রথা শুরু হয় অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে, কলকাতায় যখন রাজা নব কৃষ্ণ দেব দুর্গাপূজা শুরু করলেন, তারপর থেকে। গোড়ার দিকের ওইসব দুর্গাপূজায় মূলত: বৈভব প্রদর্শনের অঙ্গ হিসাবেই ইলিশের প্রচলন শুরু হয়। তার আগে পর্যন্ত অবিভক্ত বঙ্গে ইলিশ মাছ ছিল লোক-উৎসবের অংশ।

দুর্গাপূজায় ইলিশ ভোজন নিয়ে সনাতনী ধর্ম কি বলে? prokritibarta

বাঙালি হোটেল রেস্তোরাঁয় তো বটেই, অনেক পশ্চিমা কায়দার হোটেলেও দুর্গাপূজার স্পেশাল মেনুতে ইলিশের পদ থাকে। আবার পূর্ববঙ্গীয়দের বাড়িতে লক্ষ্মীপূজার দিনে জোড়া ইলিশ খাওয়ার চল রয়েছে। সে দিনই ইলিশ খাওয়া বন্ধ হয়ে যায় প্রজননের সময় শুরু হয় বলে, আবার জানুয়ারির শেষ বা ফেব্রুয়ারিতে সরস্বতী পূজার দিনে ইলিশ খাওয়া শুরু হয়। দুর্গাপূজার আচার-রীতির সঙ্গে ইলিশ মাছের কোনো যোগ না পাওয়া গেলেও নিম্ন-বঙ্গ অঞ্চলে যে বর্ষাকালের লোক-উৎসবগুলিতে ইলিশের প্রচলন ছিল, তা একাধিক গবেষক জানাচ্ছেন। তারা আবার এটাও বলছেন পশ্চিমবঙ্গীয় এবং পূর্ববঙ্গীয় মানুষদের মধ্যে ইলিশ খাওয়ার সময়কালে ফারাক রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গীয়রা দুর্গাপূজার আগেই ইলিশ খাওয়া বন্ধ করে দেন, অন্যদিকে পূর্ববঙ্গীয়দের একাংশ দুর্গাপুজোর পরে লক্ষ্মীপুজোয় ইলিশ খেয়ে তার পরে ইতি টানেন। খাদ্য-গবেষক-লেখক ও ফুড ভ্লগার সুরবেক বিশ্বাস বলছিলেন অবিভক্ত বাংলার দুই অঞ্চলের মানুষের ইলিশ খাওয়ার সময়কালের এই ফারাক। তিনি আরও বলেন, ‘দুর্গাপূজায় পাঁঠা বলি হত, আবার যেসব বাড়িতে প্রাণিহত্যা করা হয় না, সেখানে চালকুমড়ো বলি দেওয়া হয়। কিন্তু দেবীকে ইলিশ ভোগ দেওয়া হচ্ছে, এটা সচরাচর শোনা যেত না। ইলিশ একটা উৎসবকে চিহ্নিত করে, এটা পূজার নয়। এটা এখন একটা হুজুগ। শরৎকাল, আশ্বিন মাস তো ইলিশ খাওয়ার সময়ও নয়।’