সংবাদ শিরোনাম ::

দেশে ৮ মাসে বজ্রপাতে ২৯৭ প্রাণহানি

দেশে ৮ মাসে বজ্রপাতে ২৯৭ প্রাণহানি

২০২৪ সাল অর্থাৎ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আট মাসে বজ্রপাতে সারাদেশে ২৯৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে। আহত হয়েছে ৭৩ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ব্রাহ্মণবাড়িয়া, জয়পুরহাট ও হবিগঞ্জ জেলায়। এসব জেলায় ১৩ জন করে মারা গেছেন। এছাড়া ফেনীতে ১২ জন, কক্সবাজারে ১০ জন এবং গাইবান্ধায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বজ্রপাতে।

এক সংবাদ সম্মেলনে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম (এসএসটিএফ) এ তথ্য প্রকাশ করে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে বজ্রপাতে প্রাণহানির কোনো ঘটনা নেই। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাকি আট মাসে বজ্রপাতে ২৯৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জন শিশু, ৫৫ জন নারী। ৫৫ নারীর মধ্যে ৬ জন কিশোরী। এছাড়া মোট মৃত্যুর মধ্যে ২৪২ জনই রয়েছে পুরুষ। তাদের মধ্যে কিশোরের সংখ্যা ১৭ জন।

চলতি বছরের ৮ মাসে (ফেব্রুয়ারি-সেপ্টেম্বর) শুধু কৃষিকাজের সময় বজ্রপাতে ১৫২ জন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু গরু আনতে গিয়ে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন মাসের বজ্রপাতে হতাহতের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, বজ্রপাতে ফেব্রুয়ারিতে একজন নিহত হয়েছেন। মার্চে ৯ জন। এর মধ্যে ৮ জন পরুষ ও একজন নারী। এ মাসে আহত হয়েছেন ছয়জন। সবাই পুরুষ।

এপ্রিলে ৩১ জন। এর মধ্যে ২০ জন পুরুষ, ১১ জন নারী। একজন শিশু এবং দুইজন কিশোরী। এ মাসে আহত হয়েছেন একজন পুরুষ। মে মাসে নিহত হয়েছেন ৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৭৯ জন, নারী ১৭ জন। তাদের মধ্যে শিশু দুইজন এবং কিশোর দুই ও কিশোরী একজন। এ মাসে ২৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ২৩ জন, নারী ৫ জন।

জুন মাসে নিহত ৭৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬১ জন, নারী ১৬ জন। এর মধ্যে শিশু ৫ জন, কিশোর সাতজন। আহত হয়েছেন ১৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১২ জন, নারী দুইজন। জুলাই মাসে ১৯ জন। এর মধ্যে নারী একজন এবং ১৮ জন পুরুষ। আহত হয়েছেন ১০ জন। এর মধ্যে একজন নারী এবং ৯ জন পুরুষ।

এছাড়া অগাস্টে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন নারী ও ১৪ জন পুরুষ। তাদের মধ্যে একজন করে শিশু, কিশোর ও কিশোরী রয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন দুইজন, দুজনেই পুরুষ।

অন্যদিকে, সেপ্টেম্বরে নিহত হয়েছেন ৪৭ জন। তাদের মধ্যে ৪১ জন পুরুষ ও ছয় নারী। দুইজন শিশু, চারজন কিশোর ও দুইজন কিশোরী রয়েছে। আহত হয়েছেন ১২ জন। এর মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও দুইজন নারী।

বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে কয়েকটি সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। এগুলো হলো-  পাঠ্যপুস্তকে বজ্রপাত সচেতনতার অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা। ৩০ মিনিট আগেই বজ্রপাতের পূর্বাভাস সহজ ও দ্রুত জানানো। কৃষক ও জনসাধারণের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়াতে সভা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।মাঠে মাঠে শেল্টার সেন্টার স্থাপন।আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

মাঝারি রূপ নিচ্ছে তাপপ্রবাহ,তাপমাত্রা হতে পারে ৩৬ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস

দেশে ৮ মাসে বজ্রপাতে ২৯৭ প্রাণহানি

আপডেট সময় ০৭:০৫:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ অক্টোবর ২০২৪

২০২৪ সাল অর্থাৎ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আট মাসে বজ্রপাতে সারাদেশে ২৯৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে। আহত হয়েছে ৭৩ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ব্রাহ্মণবাড়িয়া, জয়পুরহাট ও হবিগঞ্জ জেলায়। এসব জেলায় ১৩ জন করে মারা গেছেন। এছাড়া ফেনীতে ১২ জন, কক্সবাজারে ১০ জন এবং গাইবান্ধায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বজ্রপাতে।

এক সংবাদ সম্মেলনে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম (এসএসটিএফ) এ তথ্য প্রকাশ করে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে বজ্রপাতে প্রাণহানির কোনো ঘটনা নেই। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাকি আট মাসে বজ্রপাতে ২৯৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জন শিশু, ৫৫ জন নারী। ৫৫ নারীর মধ্যে ৬ জন কিশোরী। এছাড়া মোট মৃত্যুর মধ্যে ২৪২ জনই রয়েছে পুরুষ। তাদের মধ্যে কিশোরের সংখ্যা ১৭ জন।

চলতি বছরের ৮ মাসে (ফেব্রুয়ারি-সেপ্টেম্বর) শুধু কৃষিকাজের সময় বজ্রপাতে ১৫২ জন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু গরু আনতে গিয়ে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন মাসের বজ্রপাতে হতাহতের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, বজ্রপাতে ফেব্রুয়ারিতে একজন নিহত হয়েছেন। মার্চে ৯ জন। এর মধ্যে ৮ জন পরুষ ও একজন নারী। এ মাসে আহত হয়েছেন ছয়জন। সবাই পুরুষ।

এপ্রিলে ৩১ জন। এর মধ্যে ২০ জন পুরুষ, ১১ জন নারী। একজন শিশু এবং দুইজন কিশোরী। এ মাসে আহত হয়েছেন একজন পুরুষ। মে মাসে নিহত হয়েছেন ৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৭৯ জন, নারী ১৭ জন। তাদের মধ্যে শিশু দুইজন এবং কিশোর দুই ও কিশোরী একজন। এ মাসে ২৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ২৩ জন, নারী ৫ জন।

জুন মাসে নিহত ৭৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬১ জন, নারী ১৬ জন। এর মধ্যে শিশু ৫ জন, কিশোর সাতজন। আহত হয়েছেন ১৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১২ জন, নারী দুইজন। জুলাই মাসে ১৯ জন। এর মধ্যে নারী একজন এবং ১৮ জন পুরুষ। আহত হয়েছেন ১০ জন। এর মধ্যে একজন নারী এবং ৯ জন পুরুষ।

এছাড়া অগাস্টে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন নারী ও ১৪ জন পুরুষ। তাদের মধ্যে একজন করে শিশু, কিশোর ও কিশোরী রয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন দুইজন, দুজনেই পুরুষ।

অন্যদিকে, সেপ্টেম্বরে নিহত হয়েছেন ৪৭ জন। তাদের মধ্যে ৪১ জন পুরুষ ও ছয় নারী। দুইজন শিশু, চারজন কিশোর ও দুইজন কিশোরী রয়েছে। আহত হয়েছেন ১২ জন। এর মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও দুইজন নারী।

বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে কয়েকটি সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। এগুলো হলো-  পাঠ্যপুস্তকে বজ্রপাত সচেতনতার অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা। ৩০ মিনিট আগেই বজ্রপাতের পূর্বাভাস সহজ ও দ্রুত জানানো। কৃষক ও জনসাধারণের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়াতে সভা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।মাঠে মাঠে শেল্টার সেন্টার স্থাপন।আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।