বাংলাদেশের দক্ষিণের একটি জনপদ, সাতক্ষীরা। এখানে প্রকৃতি সবুজের বেষ্টনি দিয়ে আগলে রাখে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও অন্যান্য প্রতিকুলতার হাত থেকে। তবুও ক্রমশ বাড়তে থাকা জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে পারে না এখানকার অসহায় জনগোষ্ঠী।
দিন দিন পানির স্তর নেমে মাটি ফেটে চৌচির হচ্ছে। মাটি ও পানিতে বাড়ছে লবণাক্ততা। পুকুর ও অন্যান্য জলাধারের পানিতে লবণাক্ততা বাড়ায় সুপেয় পানির সংকটে থাকতে হয় এখানকার স্থানীয় মানুষকে। অনেকেই তাই নির্ভর করেন ট্যাঙ্কে জমিয়ে রাখা বৃষ্টির পানির উপর।

লবণপোড়া মাটিতে ফসল ফলানোর চেষ্টা করছেন কেউ কেউ, তবে তা অপর্যাপ্ত। কৃষিতে সুবিধা করে উঠতে না পারায় জীবিকার তাগিদে কপোতাক্ষ কিংবা শিবসা নদীর অল্প জলে নৌকা বেয়ে যাও চলতো কিছু খেয়া মাঝির সংসার, কিন্তু নাব্যতাহীন নদী পারাপারে সমস্যা সৃষ্টি হলে সরকার ব্রিজ করে দেয়ায় পুরোপুরি পেশা হারায় তারা।
মাটির জিনিসপত্র তৈরি করে জীবিকার রসদ জোগাচ্ছিলো যেসব কুমোর পরিবার, প্লাস্টিক পণ্যের দৌরাত্ম তাদের কাছ থেকেও কেড়ে নিয়েছে তিন পুরুষ ধরে চালিয়ে আসা আদি পেশা। উপায় না দেখে, মাটি কাটা, ঘেরের শ্যাওলা-পানা তোলা, হাঁস-মুরগী পোষা কিংবা গরু ছাগল লালন পালন করে কোনমতে জীবিকার সংস্থান করার নিরন্তর চেষ্টা করছে কেউ কেউ। অনেকের জীবনে রোজ সকাল জাগে নিদারুণ সংগ্রামী মুহূর্তকে সাক্ষী করে।

এদের মধ্যে দক্ষতার অভাবে যারা বিকল্প পেশার সংস্থান করতে না পেরে অসহায় অবস্থায় জীবন কাটান, তাদেরই একজন গফুর গাজী। সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত বড়দল গ্রামের হাটে ভ্যানে করে পণ্য আনা নেয়ার কাজ করলেও মুক্তি মিলছিলো না দারিদ্রের ঘেরাটোপ থেকে।
পরবর্তীতে পুকুর লিজ নিয়ে মাছচাষের চিন্তা থেকে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন পরিচালিত প্রকৃতি ও জীবন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের এনভায়রনমেন্ট ফ্রেন্ডলি অল্টারনেটিভ ইনকাম- ইএফএআই বা ‘পরিবেশবান্ধব বিকল্প আয়’ প্রকল্পে যুক্ত হন। এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য স্বল্পআয় বা আয়বিহীন মানুষকে বিকল্প এবং কোনো প্রধান আয়ের উৎসের পরিবেশবান্ধব রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়নে সচেষ্ট করা এবং তাদেও দারিদ্রতা হ্রাসের সাথে সাথে দেশের মোট উৎপাদনে সক্রিয় ভুমিকা রাখায় সহযোগীতা করা।

‘পরিবেশবান্ধব বিকল্প আয়’ থেকে অর্থ সহায়তা নিয়ে গফুর গাজী একটি পুকুর লিজ নেয়ার মাধ্যমে মাছ চাষের উদ্যোগ নেন। পুকুরটি সামান্য খনন এবং পানি পরিশোধন করে মাছ পালনের উপযোগী করেন। পরবর্তীতে বর্ষার পানিতে বেশ কিছু মাছের পোনা ছাড়েন এবং প্রয়োজনীয় খাবার ও পুকুরটির যত্ন করতে থাকেন।

বর্তমানে তিনি পুকুরের পাড়ে স্বল্প পরিসরে সবজি চাষ ও বিক্রয় করে একদিকে যেমন লাভবান হয়েছেন, তেমনি পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মিটাতে পারছেন।
গফুর গাজী এখন স্বপ্ন দেখেন সুখী একটি আগামীর।
নিজস্ব সংবাদ : 




















