সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু Logo হাম হলে শিশুকে যেসব খাবার খাওয়াবেন Logo ২২০০ পিঁপড়া পাচার চেষ্টায় চীনা নাগরিকের এক বছরের জেল Logo চট্টগ্রামে নিজেই হাসপাতালে এসে ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা নিলো কাক! Logo বাংলাদেশে প্রতি তিন শিশুর মধ্যে এক জন মারাত্মকভাবে জলবায়ু ঝুঁকির মুখে Logo এপ্রিল এখন পর্যন্ত সহনীয়, দেশে এবছরের গ্রীষ্ম কম ভোগাবে আশা আবহাওয়াবিদের   Logo আজ স্বাধীনতা পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo ‘ধান খাওয়ায়’ মেরে ফেলা হলো বাবুই পাখির ২৯ বাচ্চা, এক জনের কারাদণ্ড Logo পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া Logo জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হতে পারে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

পরিবেশের ক্ষতি করে, এমন প্রকল্প হাওরে হবে না: রিজওয়ানা হাসান

পরিবেশের ক্ষতি করে, এমন প্রকল্প হাওরে হবে না: রিজওয়ানা হাসান

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, হাওরের পরিবেশ ও প্রকৃতি কীভাবে ঠিক থাকবে, তা নিয়ে একটি পরিকল্পনা হচ্ছে। পরিবেশের ক্ষতি করে, এমন কোনো প্রকল্প হাওরে হবে না।

গতকাল মঙ্গলবার সুনামগঞ্জে হাওর এলাকায় বোরো ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প (কাবিটা প্রকল্প) বাস্তবায়নসংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণসংক্রান্ত জেলা কমিটির সভাপতি মো. ইলিয়াস মিয়া।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘এখন বাঁধের কাজ শুরু করে দেওয়ার সময়। তাই পুরো সিস্টেম বদলাতে গেলে কাজই হবে না। আমাদের কাজ করতে হবে। কৃষকের ফসল নিরাপদ করতে আপাতত গণশুনানি করে পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গঠন করতে হবে। ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করতে হবে।’

কাজের অগ্রগতি জানতে সময়ে সময়ে অনলাইনে ‘জুম মিটিং’ হবে জানিয়ে এই উপদেষ্টা বলেন, যখন যে এলাকায় জুম মিটিং হবে, সেখানে কৃষক প্রতিনিধি, পিআইসি, মনিটরিং কমিটির সদস্যরা থাকবেন। বাঁধের পাশে কাজের সাইনবোর্ড জায়গায় লাগাতে হবে। বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি মানুষকে জানাতে হবে।

অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে কীভাবে বাঁধের কাজ শেষ করা যায়, সেটা জেলা প্রশাসককে দেখার জন্য বলেন তিনি। জমির মালিক নন যে কৃষক বা যাঁরা বর্গা চাষি, তাঁরা কেন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন না—এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কৃষিকাজে সম্পৃক্ত, এমন মানুষ কমিটিতে নিলে সমস্যা কোথায়?

হাওরে স্থায়ী অবকাঠামো না করার অনুরোধ জানান রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, নেত্রকোনায় সড়কের জন্য একটা হাওর মরে যাচ্ছে। পারমানেন্ট স্ট্রাকচার করার পর যদি দেখেন বা বোঝেন চলনবিল, মিঠামইনের মতো ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তখন সংশোধন করার উপায় কম থাকে।

টাঙ্গুয়ার হাওর এলাকাকে রামসার সাইট উল্লেখ করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বলেন, এটাকে বাঁচিয়ে রেখে কাজ করতে হবে। হাওরে স্থানে স্থানে রাস্তা করায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসান, সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সমর কুমার পাল, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শেরেনূর আলী, সুনামগঞ্জ পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি এ কে এম আবু নাসার, সুনামগঞ্জ পৌর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. শেরগুল আহমেদ, সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি পঙ্কজ দে, সুনামগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) নাজনীন বেগম, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করীম, শিক্ষক কানিজ সুলতানা, সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান পীর ও দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী প্রমুখ।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু

পরিবেশের ক্ষতি করে, এমন প্রকল্প হাওরে হবে না: রিজওয়ানা হাসান

আপডেট সময় ০২:০৩:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৪

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, হাওরের পরিবেশ ও প্রকৃতি কীভাবে ঠিক থাকবে, তা নিয়ে একটি পরিকল্পনা হচ্ছে। পরিবেশের ক্ষতি করে, এমন কোনো প্রকল্প হাওরে হবে না।

গতকাল মঙ্গলবার সুনামগঞ্জে হাওর এলাকায় বোরো ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প (কাবিটা প্রকল্প) বাস্তবায়নসংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণসংক্রান্ত জেলা কমিটির সভাপতি মো. ইলিয়াস মিয়া।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘এখন বাঁধের কাজ শুরু করে দেওয়ার সময়। তাই পুরো সিস্টেম বদলাতে গেলে কাজই হবে না। আমাদের কাজ করতে হবে। কৃষকের ফসল নিরাপদ করতে আপাতত গণশুনানি করে পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গঠন করতে হবে। ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করতে হবে।’

কাজের অগ্রগতি জানতে সময়ে সময়ে অনলাইনে ‘জুম মিটিং’ হবে জানিয়ে এই উপদেষ্টা বলেন, যখন যে এলাকায় জুম মিটিং হবে, সেখানে কৃষক প্রতিনিধি, পিআইসি, মনিটরিং কমিটির সদস্যরা থাকবেন। বাঁধের পাশে কাজের সাইনবোর্ড জায়গায় লাগাতে হবে। বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি মানুষকে জানাতে হবে।

অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে কীভাবে বাঁধের কাজ শেষ করা যায়, সেটা জেলা প্রশাসককে দেখার জন্য বলেন তিনি। জমির মালিক নন যে কৃষক বা যাঁরা বর্গা চাষি, তাঁরা কেন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন না—এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কৃষিকাজে সম্পৃক্ত, এমন মানুষ কমিটিতে নিলে সমস্যা কোথায়?

হাওরে স্থায়ী অবকাঠামো না করার অনুরোধ জানান রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, নেত্রকোনায় সড়কের জন্য একটা হাওর মরে যাচ্ছে। পারমানেন্ট স্ট্রাকচার করার পর যদি দেখেন বা বোঝেন চলনবিল, মিঠামইনের মতো ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তখন সংশোধন করার উপায় কম থাকে।

টাঙ্গুয়ার হাওর এলাকাকে রামসার সাইট উল্লেখ করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বলেন, এটাকে বাঁচিয়ে রেখে কাজ করতে হবে। হাওরে স্থানে স্থানে রাস্তা করায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসান, সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সমর কুমার পাল, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শেরেনূর আলী, সুনামগঞ্জ পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি এ কে এম আবু নাসার, সুনামগঞ্জ পৌর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. শেরগুল আহমেদ, সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি পঙ্কজ দে, সুনামগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) নাজনীন বেগম, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করীম, শিক্ষক কানিজ সুলতানা, সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান পীর ও দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী প্রমুখ।