সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঢাকা থেকে জরুরি সহায়তা যাচ্ছে ইরানে Logo পরিবেশ ধ্বংসের বাস্তবচিত্র: ইটভাটার ধোঁয়ায় প্রায় দুইশো বিঘা জমির ধান নষ্ট Logo প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া ১১ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত Logo তাপপ্রবাহ চলবে আরও ২-৩ দিন, এরপরেই স্বস্তির বৃষ্টির আভাস Logo রাজশাহীতে মাঝারি তাপপ্রবাহ, দেশজুড়ে ২৭ জেলায় প্রায় একই অবস্থা Logo প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন ড. সাইমুম পারভেজ Logo সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড রাজশাহীতে, ২৪ জেলায় তাপপ্রবাহ Logo ধরিত্রী দিবসে বরিশালে প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব এবং জেআইএসসি’র সবুজ আয়োজন Logo শিক্ষার্থীদের মাঝে পাটের তৈরি ব্যাগ ও স্কুল ড্রেস বিতরণ করবে সরকার Logo সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

পরিবেশ ধ্বংসের বাস্তবচিত্র: ইটভাটার ধোঁয়ায় প্রায় দুইশো বিঘা জমির ধান নষ্ট

ইটভাটার ধোঁয়ায় প্রায় দুইশো বিঘা জমির ধান নষ্ট। ছবি-জাগো নিউজ

সীমাহীন লোভে পরিবেশ ধ্বংসের পরিণতি দেশজুড়ে দেখা দিচ্ছে। সংবাদমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে পরিবেশ ধ্বংসের কারণে নানা ক্ষতির প্রতিবেদন। এরকমই একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাগোনিউজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে:   গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা এলাকায় একটি ইটভাটার চিমনি থেকে বের হওয়া ধোঁয়ায় প্রায় দুইশো বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। একই কারণে ভাটাসংলগ্ন এলাকায় গাছ থেকে ছোট ছোট আম ঝরে যাচ্ছে।

এলাকাবাসী সূত্র জানায়, গত বছরও আরবিসি ব্রিকস নামের ওই একই ভাটার ধোঁয়ার কারণে ধোপাডাঙ্গা এলাকার জমির ধানসহ গাছপালা নষ্ট হয়ে যায়। পরে ভাটার পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত দেয়নি। নতুন করে গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) একই ভাটার গ্যাস নির্গত হয়ে প্রায় দুইশো বিঘা জমির ধানসহ গাছপালা নষ্ট হয়ে গেছে।

বুধবার বিকেলে দেখা যায়, ওই ইটভাটার দুই দিকেই আবাদি জমি। পূর্ব এবং পশ্চিম দিকে মানুষের বসতবাড়ি। ধোঁয়ার কারণে ভাটার উত্তর পাশে প্রায় দুইশো বিঘা জমির ধানগাছের পাতা লালচে হয়ে মরে যাচ্ছে। ধানের নতুন ছড়া সাদা হয়ে যাচ্ছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলাম বলেন, একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে পরিদর্শন করা হয়েছে। এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত জমিসহ কৃষকদের তালিকা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রচণ্ড গরমের সময় হঠাৎ বাতাস বইলে ইটভাটার ধোঁয়ায় ফসলের এ ধরনের ক্ষতি হয়। ইটভাটার কাছের জমির ক্ষতি বেশি হয়। কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে ইটভাটার মালিকের সঙ্গে কথা হয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, ওই ভাটার পাশে ধানখেতগুলোতে আর কিছু দিনের মধ্যে ধান পাকা শুরু হবে। সোমবার ভোরে এলাকাবাসী হঠাৎ গরম অনুভব করেন। অনেকে ঘর থেকে বের হয়ে গরমের সঙ্গে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ পান। তারা বুঝতে পারেন আরবিসি ইটভাটা থেকে ধোঁয়া ছেড়ে দেওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এলাকাবাসী দেখেন খেতের ধানগাছের পাতা লালচে আকার ধারণ করেছে। এসব গাছ আস্তে আস্তে মরে যাচ্ছে।

উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের বজড়া হলদিয়া গ্রামের কৃষক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ওই ভাটার ধোঁয়ায় তার এক বিঘা জমির ধান পুড়ে গেছে। প্রতিবেশী শমসের আলীর ৬৬ শতাংশ, সাবু মিয়া ২৬ শতাংশ এবং শফিকুলের ১৯ শতাংশ জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে।

ধোপাডাঙ্গার ছাগল কাটি বিলের জোসনা বেওয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘হামি বিধবা, প্রতিবন্ধীসহ দুইজন ছোল হামার। সারা বছর জমির ধানের ওপর হামি সব করি। ভাটার ঘুমা আসে, হামার সব ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এখন হামি কী খায়ে বাঁচমো।’

আরেক নারী শরিফা বেগম বলেন, ‘হামার স্বামী কৃষি কাজ করে। এই ভাটার ধোঁয়ার কারণে হামার দুই বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। হামার পাকা আবাদে ইটভাটা মই দিয়ে নষ্ট করার মতো করছে।’

এ বিষয়ে আরবিসি ইটভাটার মালিক আলতাফ হোসেনের বক্তব্য নিতে গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি সটকে পড়েন। পরে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিবার ফোন দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়।

গাইবান্ধা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক উত্তম কুমার বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। কৃষি অফিসারকে সঙ্গে নিয়ে ওই এলাকা পরিদর্শন করে ইটভাটার মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঢাকা থেকে জরুরি সহায়তা যাচ্ছে ইরানে

পরিবেশ ধ্বংসের বাস্তবচিত্র: ইটভাটার ধোঁয়ায় প্রায় দুইশো বিঘা জমির ধান নষ্ট

আপডেট সময় ০২:০৩:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

সীমাহীন লোভে পরিবেশ ধ্বংসের পরিণতি দেশজুড়ে দেখা দিচ্ছে। সংবাদমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে পরিবেশ ধ্বংসের কারণে নানা ক্ষতির প্রতিবেদন। এরকমই একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাগোনিউজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে:   গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা এলাকায় একটি ইটভাটার চিমনি থেকে বের হওয়া ধোঁয়ায় প্রায় দুইশো বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। একই কারণে ভাটাসংলগ্ন এলাকায় গাছ থেকে ছোট ছোট আম ঝরে যাচ্ছে।

এলাকাবাসী সূত্র জানায়, গত বছরও আরবিসি ব্রিকস নামের ওই একই ভাটার ধোঁয়ার কারণে ধোপাডাঙ্গা এলাকার জমির ধানসহ গাছপালা নষ্ট হয়ে যায়। পরে ভাটার পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত দেয়নি। নতুন করে গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) একই ভাটার গ্যাস নির্গত হয়ে প্রায় দুইশো বিঘা জমির ধানসহ গাছপালা নষ্ট হয়ে গেছে।

বুধবার বিকেলে দেখা যায়, ওই ইটভাটার দুই দিকেই আবাদি জমি। পূর্ব এবং পশ্চিম দিকে মানুষের বসতবাড়ি। ধোঁয়ার কারণে ভাটার উত্তর পাশে প্রায় দুইশো বিঘা জমির ধানগাছের পাতা লালচে হয়ে মরে যাচ্ছে। ধানের নতুন ছড়া সাদা হয়ে যাচ্ছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলাম বলেন, একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে পরিদর্শন করা হয়েছে। এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত জমিসহ কৃষকদের তালিকা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রচণ্ড গরমের সময় হঠাৎ বাতাস বইলে ইটভাটার ধোঁয়ায় ফসলের এ ধরনের ক্ষতি হয়। ইটভাটার কাছের জমির ক্ষতি বেশি হয়। কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে ইটভাটার মালিকের সঙ্গে কথা হয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, ওই ভাটার পাশে ধানখেতগুলোতে আর কিছু দিনের মধ্যে ধান পাকা শুরু হবে। সোমবার ভোরে এলাকাবাসী হঠাৎ গরম অনুভব করেন। অনেকে ঘর থেকে বের হয়ে গরমের সঙ্গে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ পান। তারা বুঝতে পারেন আরবিসি ইটভাটা থেকে ধোঁয়া ছেড়ে দেওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এলাকাবাসী দেখেন খেতের ধানগাছের পাতা লালচে আকার ধারণ করেছে। এসব গাছ আস্তে আস্তে মরে যাচ্ছে।

উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের বজড়া হলদিয়া গ্রামের কৃষক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ওই ভাটার ধোঁয়ায় তার এক বিঘা জমির ধান পুড়ে গেছে। প্রতিবেশী শমসের আলীর ৬৬ শতাংশ, সাবু মিয়া ২৬ শতাংশ এবং শফিকুলের ১৯ শতাংশ জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে।

ধোপাডাঙ্গার ছাগল কাটি বিলের জোসনা বেওয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘হামি বিধবা, প্রতিবন্ধীসহ দুইজন ছোল হামার। সারা বছর জমির ধানের ওপর হামি সব করি। ভাটার ঘুমা আসে, হামার সব ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এখন হামি কী খায়ে বাঁচমো।’

আরেক নারী শরিফা বেগম বলেন, ‘হামার স্বামী কৃষি কাজ করে। এই ভাটার ধোঁয়ার কারণে হামার দুই বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। হামার পাকা আবাদে ইটভাটা মই দিয়ে নষ্ট করার মতো করছে।’

এ বিষয়ে আরবিসি ইটভাটার মালিক আলতাফ হোসেনের বক্তব্য নিতে গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি সটকে পড়েন। পরে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিবার ফোন দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়।

গাইবান্ধা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক উত্তম কুমার বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। কৃষি অফিসারকে সঙ্গে নিয়ে ওই এলাকা পরিদর্শন করে ইটভাটার মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।