পাকিস্তানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (১৯ ডিসেম্বর) দেশটির পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এবার পাকিস্তানের চারটি সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যার মধ্যে দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকাধীন প্রতিরক্ষা সংস্থাও আছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার স্থানীয় সময় বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, গণবিধ্বংসী অস্ত্র বিস্তার ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে পাকিস্তানের জাতীয় উন্নয়ন কমপ্লেক্স এবং তিনটি ফার্মের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায়, যুক্তরাষ্ট্রে এসব সংস্থার কোনও সম্পত্তি থাকলে তা জব্দ করা হবে এবং মার্কিনিরা তাদের সঙ্গে কোনও ব্যবসা করতে পারবে না।
এর আগে ২০২১ সালের নভেম্বর থেকে চীনা এবং পাকিস্তানি কোম্পানিগুলোর ৬ দফা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বলছে, পাকিস্তানের জাতীয় উন্নয়ন কমপ্লেক্স (এনডিসি) দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সরঞ্জাম সংগ্রহের চেষ্টা করেছে এবং এনডিসি পাকিস্তানের শাহীন সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্রসহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের জন্য দায়ী।
এনডিসির পাশাপাশি করাচির অ্যাফিলিয়েটস ইন্টারন্যাশনাল, আখতার অ্যান্ড সন্স প্রাইভেট লিমিটেড এবং রকসাইড এন্টারপ্রাইজের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ প্রতিষ্ঠানগুলো এনডিসি’র সঙ্গে মিলে পরমাণু অস্ত্রের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে বলে অভিযোগ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্রদপ্তর।
গবেষণা সংস্থা বুলেটিন অব দ্য অ্যাটোমিক সায়েন্টিস্টস জানায়, শাহীন সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম।
পাকিস্তান বিশ্বের সপ্তম দেশ হিসেবে ১৯৯৮ সালে প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষায় সফল হয়। পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রভান্ডারে প্রায় ১৭০টি ওয়ারহেড রয়েছে।
কিন্তু পাকিস্তান পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে আন্তর্জাতিক চুক্তি (এনপিটি) স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এ চুক্তি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত্তিমূলস্বরূপ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসলামাবাদ। দেশটি এই সিদ্ধান্তকে পক্ষপাতমূলক বলে অভিহিত করেছে।
ডেস্ক রিপোর্ট 




















