পৃথিবীর অষ্টম জীববৈচিত্র্যময় দেশটিতেই কেবল এই বন্যপ্রাণীগুলো দেখা যায়

পৃথিবীর অষ্টম জীববৈচিত্র্যময় দেশটিতেই কেবল এই বন্যপ্রাণীগুলো দেখা যায়

ভৌগলিক বৈচিত্রতায় সমৃদ্ধ ভারতে রয়েছে নানা রকম প্রতিবেশের বিরল কিছু প্রাণী। বিরল এসব বন্যপ্রাণী নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দেশটির বাংলাভাষার সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’। এতে বলা হয়েছে:  ভারত মানেই শুধু সংস্কৃতি বা ইতিহাস নয়, প্রকৃতির দিক থেকেও এই দেশ অত্যন্ত সমৃদ্ধ। পৃথিবীর অষ্টম সর্বাধিক জীববৈচিত্র্যময় দেশ হিসেবে ভারতের নাম উঠে আসে। এখানে এমন অনেক প্রাণী আছে, যাদের পৃথিবীর অন্য কোথাও দেখা যায় না। কিন্তু, দুঃখের বিষয়, এই বিরল প্রাণীদের অনেকেই আজ বিলুপ্তির পথে।

সাঙ্গাই হরিণ

মণিপুরের লোকটাক হ্রদের দক্ষিণ অংশে অবস্থিত কেইবুল লামজাও ন্যাশনাল পার্কে (Keibul Lamjao National Park) পাওয়া যায় সাঙ্গাই হরিণ। এটিকে ‘নাচতে থাকা হরিণও বলা হয়। কারণ, এদের চলাফেরা অনেকটা নাচের মতো। এক সময় প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেলেও এখন সংরক্ষণের ফলে কিছুটা সংখ্যায় বেড়েছে।

 

নীলগিরি তাহর

নীলগিরি তাহর কেবল ভারতের দেখা যায়। এটি মূলত দক্ষিণ ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতমালার কেরল এবং তামিলনাড়ু অংশে বাস করে। এদের ছোট খসখসে লোম এবং প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাঁকানো শিং অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

 

ওয়ান্ডেরু বা লায়ন টেইল্ড ম্যাকাক

লায়ন-টেল ম্যাকাক এর প্রধান আঞ্চলিক নাম হলো ওয়ান্ডেরু। কেরালায় এটি ‘সিংহবালাণ কুরুঙ্গু’ নামে পরিচিত, যার অর্থ সিংহ-লেজযুক্ত বানর। এটি ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতমালার একটি স্থানীয় প্রজাতি। এদের মুখের চারপাশে রূপালী-সাদা কেশর এবং লেজের ডগায় সিংহের মতো লোমের ঝুঁটি থাকে।

খুবই লাজুক এই প্রাণী মানুষকে এড়িয়ে চলে। কিন্তু, চা ও কফির বাগান তৈরির জন্য বন ধ্বংস হওয়ায় এদের সংখ্যা দ্রুত কমছে।

 

হাঙ্গুল বা কাশ্মীরি হরিণ

কাশ্মিরী হরিণ। কাশ্মীর উপত্যকা ও হিমাচল প্রদেশের কিছু এলাকায় দেখা যায় এই বিরল হরিণ। ‘হাঙ্গুল’ নামেও পরিচিত এই প্রাণীটি। এক সময় অনেক বেশি থাকলেও এখন শিকার ও বাসস্থান কমে যাওয়ার কারণে এরা টিকে থাকার লড়াই করছে।

 

নীলগিরি শোলাকিলি

নীলগিরি ব্লু রবিন (বৈজ্ঞানিক নাম: Sholicola major) দক্ষিণ ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতমালার স্থানীয় একটি পাখি, যা স্থানীয়ভাবে মূলত নীলগিরি শোলাকিলি নামে পরিচিত । এছাড়াও, একে নীলগিরি শর্টউইং, হোয়াইট-বেলিড শর্টউইং বা রুফাস-বেলিড শর্টউইং নামেও ডাকা হয়।

এই ছোট পাখিটি দক্ষিণ ভারতের শোলা জঙ্গলে বাস করে। এর মিষ্টি ডাক আর বিশেষ রঙের জন্য পরিচিত। কিন্তু বন ধ্বংসের কারণে এই প্রজাতিও বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

পৃথিবীর অষ্টম জীববৈচিত্র্যময় দেশটিতেই কেবল এই বন্যপ্রাণীগুলো দেখা যায়

আপডেট সময় ০১:০৬:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ভৌগলিক বৈচিত্রতায় সমৃদ্ধ ভারতে রয়েছে নানা রকম প্রতিবেশের বিরল কিছু প্রাণী। বিরল এসব বন্যপ্রাণী নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দেশটির বাংলাভাষার সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’। এতে বলা হয়েছে:  ভারত মানেই শুধু সংস্কৃতি বা ইতিহাস নয়, প্রকৃতির দিক থেকেও এই দেশ অত্যন্ত সমৃদ্ধ। পৃথিবীর অষ্টম সর্বাধিক জীববৈচিত্র্যময় দেশ হিসেবে ভারতের নাম উঠে আসে। এখানে এমন অনেক প্রাণী আছে, যাদের পৃথিবীর অন্য কোথাও দেখা যায় না। কিন্তু, দুঃখের বিষয়, এই বিরল প্রাণীদের অনেকেই আজ বিলুপ্তির পথে।

সাঙ্গাই হরিণ

মণিপুরের লোকটাক হ্রদের দক্ষিণ অংশে অবস্থিত কেইবুল লামজাও ন্যাশনাল পার্কে (Keibul Lamjao National Park) পাওয়া যায় সাঙ্গাই হরিণ। এটিকে ‘নাচতে থাকা হরিণও বলা হয়। কারণ, এদের চলাফেরা অনেকটা নাচের মতো। এক সময় প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেলেও এখন সংরক্ষণের ফলে কিছুটা সংখ্যায় বেড়েছে।

 

নীলগিরি তাহর

নীলগিরি তাহর কেবল ভারতের দেখা যায়। এটি মূলত দক্ষিণ ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতমালার কেরল এবং তামিলনাড়ু অংশে বাস করে। এদের ছোট খসখসে লোম এবং প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাঁকানো শিং অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

 

ওয়ান্ডেরু বা লায়ন টেইল্ড ম্যাকাক

লায়ন-টেল ম্যাকাক এর প্রধান আঞ্চলিক নাম হলো ওয়ান্ডেরু। কেরালায় এটি ‘সিংহবালাণ কুরুঙ্গু’ নামে পরিচিত, যার অর্থ সিংহ-লেজযুক্ত বানর। এটি ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতমালার একটি স্থানীয় প্রজাতি। এদের মুখের চারপাশে রূপালী-সাদা কেশর এবং লেজের ডগায় সিংহের মতো লোমের ঝুঁটি থাকে।

খুবই লাজুক এই প্রাণী মানুষকে এড়িয়ে চলে। কিন্তু, চা ও কফির বাগান তৈরির জন্য বন ধ্বংস হওয়ায় এদের সংখ্যা দ্রুত কমছে।

 

হাঙ্গুল বা কাশ্মীরি হরিণ

কাশ্মিরী হরিণ। কাশ্মীর উপত্যকা ও হিমাচল প্রদেশের কিছু এলাকায় দেখা যায় এই বিরল হরিণ। ‘হাঙ্গুল’ নামেও পরিচিত এই প্রাণীটি। এক সময় অনেক বেশি থাকলেও এখন শিকার ও বাসস্থান কমে যাওয়ার কারণে এরা টিকে থাকার লড়াই করছে।

 

নীলগিরি শোলাকিলি

নীলগিরি ব্লু রবিন (বৈজ্ঞানিক নাম: Sholicola major) দক্ষিণ ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতমালার স্থানীয় একটি পাখি, যা স্থানীয়ভাবে মূলত নীলগিরি শোলাকিলি নামে পরিচিত । এছাড়াও, একে নীলগিরি শর্টউইং, হোয়াইট-বেলিড শর্টউইং বা রুফাস-বেলিড শর্টউইং নামেও ডাকা হয়।

এই ছোট পাখিটি দক্ষিণ ভারতের শোলা জঙ্গলে বাস করে। এর মিষ্টি ডাক আর বিশেষ রঙের জন্য পরিচিত। কিন্তু বন ধ্বংসের কারণে এই প্রজাতিও বিপন্ন হয়ে পড়েছে।