ভারতের চেয়ে প্রায় এক তৃতীয়াংশ বড় ভূমি আর্দ্র অবস্থা থেকে শুষ্ক ভূমিতে পরিণত হয়েছে। পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের স্থলভাগের ৪০ ভাগই হারিয়েছে ফসল ফলানোর সক্ষমতা, এমন শঙ্কা জাগানো তথ্য উঠে এসেছে এক গবেষণায়। যা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যান্টার্কটিকা বাদে পৃথিবীর সমস্ত ভূমির ৪০% শুষ্কভূমি এখন। বিশ্বের তিন-চতুর্থাংশ জমি গত ৩০ বছরে শুষ্ক অবস্থার সম্মুখীন হয়েছে, আর এই অবস্থা স্থায়ী হতে পারে। ইউএন সায়েন্স পলিসি ইন্টারফেসের সমীক্ষায় উঠে এসেছে এই তথ্য।
গবেষণা প্রতিবেদনে জানা গেছে, ১৯৯০ থেকে ২০১৫ এর মধ্যে ক্রমবর্ধমান শুষ্কতার কারণে আফ্রিকা তার জিডিপির প্রায় ১২% হারিয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ দিকে যাওয়ার পূর্বাভাসও উঠে এসেছে গবেষণায়, যেখানে শঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে: আগামী অর্ধ দশকে আফ্রিকা তার জিডিপির প্রায় ১৬% এবং এশিয়া ৭% এর কাছাকাছি হারাবে এই শুষ্কতায়।

২০২৪ সাল সবচেয়ে উষ্ণ বছর হতে চলেছে। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে খরা বিশ্বের ৭৫ শতাংশ জনসংখ্যাকে প্রভাবিত করতে পারে।
এই যখন পরিস্থিতি তখন সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইউনাইটেড নেশন্স কনভেনশন টু কমব্যাট ডেজার্টিফিকেশন (ইউএনসিসিডি)- এর কপ ১৬ সম্মেলন। এই সম্মেলনে পৃথিবীতে বাড়তে থাকা মরুকরণ নিয়ে চলছে নানামাত্রিক আলোচনা।
ইউএনসিসিডি-এর নির্বাহী সেক্রেটারি ইব্রাহিম থিয়াও বলেছেন, ‘স্বাভাবিকভাবে খরা আসে, কিন্তু কম বৃষ্টিপাতে সেই খরা ত্বরান্বিত হচ্ছে, অপেক্ষাকৃত দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। ফলে খরা একরকম স্থায়ী রূপ নিচ্ছে, হতাশাজনক রূপান্তর ঘটাচ্ছে।’
বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ খরাপ্রবণ শুষ্ক ভূমিগুলোতে বাস করে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ভূমির ‘অবনতি‘র কারণে খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র্য এবং ব্যাপক উদ্বাস্তু সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌদি আরবে কপ-১৬ সম্মেলনে ২০৩০ সালের মধ্যে মরুকরণের শিকার ১.৫ বিলিয়ন হেক্টর ভূমি পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানানো হবে।
জাতিসংঘ মাটি পুনরুদ্ধার এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। পশ্চিম আফ্রিকায় ‘হাফ-মুন’ তৈরির মাধ্যমে পানি ধারণক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে, যা স্থানীয়ভাবে সহজে তৈরি করা সম্ভব।
অন্যদিকে, আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে ‘গ্রেট গ্রিন ওয়াল’ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গাছপালা রোপণ করা হচ্ছে। তবে, অর্থের অভাবে প্রকল্পটি ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমন্বিত বৈশ্বিক প্রচেষ্টা ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। জলবায়ু পরিবর্তন এবং ভূমির অবনতির এই চ্যালেঞ্জ মানবতার ভবিষ্যৎকে বিপন্ন করে তুলেছে।
ডেস্ক রিপোর্ট 




















