প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব ঢাকা জেলা শাখার আয়োজনে প্রথমবারের মতো পরিবেশ সংরক্ষণে সর্বোচ্চ বেসামরিক রাষ্ট্রীয় সম্মাননা “স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬” প্রাপ্ত প্রতিবন্ধু মুকিত মজুমদার বাবুকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিবন্ধু মুকিত মজুমদার বাবুর প্রকৃতি সংরক্ষণে কর্মময় জীবনের উপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব ঢাকা জেলা শাখার সদস্যরা মুকিত মজুমদার বাবুকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। মুকিত মজুমদার বাবুকে ফুল দিয়ে বরণ করেন প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব ঢাকা জেলা শাখার উপদেষ্টা আলহামরা নাসরীন হোসেন লুইজু।

পাশাপাশি অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধারাও তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

মুকিত মজুমদার বাবুকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব ঢাকা জেলা শাখার সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আসলাম হোসাইন।

সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট প্রদান প্রদান করেন করেন প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব ঢাকা জেলা শাখার উপদেষ্টা মোঃ আব্দুল হাই খান ও ড. মুন্সী শাহ জাহান।

মুকিত মজুমদার বাবুকে সম্মাননাপত্র প্রদান করেন প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব ঢাকা জেলা শাখার উপদেষ্টা মো. আতিউর রহমান ও লায়ন মোঃ আবুল বাশার

প্রথমবারের মতো পরিবেশ সংরক্ষণে সর্বোচ্চ বেসামরিক রাষ্ট্রীয় সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬ প্রদান করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, এই পদক সরকারের সদিচ্ছা প্রমান করে। এই পদক আমার জন্য, দেশের জন্য, সবার জন্য সরকারের একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। ৭১ সনে যখন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, তখন যারা আত্মাহুতি দিয়েছে যাদের রক্তের বিনিময়ে এই বাংলাদেশটাকে পেয়েছি। যে বাংলাদেশে এখন আমরা দাঁড়িয়ে কথা বলছি এই মাটির উপরে। এই মাটিতে একাত্তরের শহীদদের রক্ত লেগে রয়েছে। আমরা যদি সেই ঋণ শোধ করতে চাই তাহলে কিন্তু বাংলাদেশটাকে ভালো রাখতে হবে। কারণ তারা কিন্তু তাদের জীবন দিয়ে এই বাংলাদেশ দিয়ে গেছে আমাদের। আর আমরা যারা বেঁচে আছি তারা কিন্তু এই বাংলাদেশটাকে যদি ভালো না রাখি তাহলে তাদের রক্তের সাথে বেইমানি করা হবে।

সরকারের বৃক্ষরোপনের কর্মসূচিতে দেশী গাছের গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সরকার প্রতি বছর ৫ কোটি করে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই পাঁচ কোটি গাছ লাগাতে গিয়ে এ বছর যেন আমরা বিদেশি গাছের পাল্লায় না পড়ি। সেটা যদি হয় খুব দুঃখজনক হবে তাহলে। এই কর্মসূচি তাহলে যে কারণে করা সেটা কিন্তু ব্যর্থ হয়ে যাবে । আমরা দেশী প্রজাতির গাছ যদি না লাগাই তাহলে, আমাদের দেশে যে প্রাণীগুলো আছে, পাখিগুলো আছে তারা কিন্তু বিদেশী গাছ থেকে ফল পাবে না ফুলও পাবে না এবং ওই গাছে তারা বাসাও বাঁধবে না। সুতরাং এই বিদেশে গাছের চারা যেন আমরা কোনভাবেই না লাগাই। আমরা এখানে যারা আছি আমরা যেন এ কাজটি না করি এবং আমরা যেন প্রতিবাদ করি যদি কেউ লাগাতে চায়।
মুকিত মজুমদার বাবু বলেন সবসময় আমি একটি কথা বলি, আমাদের প্রত্যেকেরই কিন্তু ক্ষমতা আছে তার সাথে মমতা মিশিয়ে যখনি আমরা এগিয়ে আসব, তখনই কিন্তু এই পরিবেশ প্রকৃতি ভালো থাকবে আমরা ভালো থাকবো। আমাদের দেশটা ভালো থাকবে এবং আমরা যখন চলে যাবো আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভালো থাকবে।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,জাতীয় পরিবেশ পদক বিজয়ী জনাব মনজিল মোরসেদ, একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট নজরুল সংগীতশিল্পী ফেরদৌস আরা, নজরুল ইনস্টিটিউটের সাবেক নির্বাহী পরিচালক জনাব ইকরাম আহমেদ লেনিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও বন্যপ্রাণী গবেষক ড. মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা মুকিত মজুমদারের কর্মজীবন, সমাজসেবামূলক কার্যক্রম এবং পরিবেশ নিয়ে তার ভাবনা তুলে ধরেন। তারা বলেন, বর্তমান সময়ে পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য তার মতো মানুষদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পুরো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় সঞ্চালনা করেন ইফাতারা ইরা।

অনুষ্ঠানের সম্মাননাপত্র পাঠ করেন প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব ঢাকা জেলা শাখার নারীবিষয়ক সম্পাদক নাহিদ পারভীন নিপা।
পিওজে মিউজিক ক্লাবের আয়োজনে অনুষ্ঠানে কণ্ঠশিল্পী তারভীর তরী ও কেয়া সুহি’র একটি মিউজিক ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব ঢাকা জেলা শাখার সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আসলাম হোসাইন।
জোবায়ের আহমেদ 



















