প্রজাপতি সংকটে ‘বাটারফ্লাই ইমার্জেন্সি’ ঘোষণা

প্রজাপতি সংকটে ‘বাটারফ্লাই ইমার্জেন্সি’ ঘোষণা

বর্ণিল প্রজাপতিরা দেখতে যেমন সুন্দর তেমনই পরাগায়ন, ফল-শস্য উৎপাদন, বাস্তুসংস্থান ভারসাম্যের এক অপরিহার্য অংশ। প্রকৃতিতে প্রজাপতির সংখ্যা কমে আসা তাই অশনিসংকেত। কিন্তু এরকমটাই দেখা যাচ্ছে যুক্তরাজ্যে। গত ১৪ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে প্রজাপতি গণনা করে আসছে বন্যপ্রাণি বিষয়ক দাতব্য সংস্থা বাটারফ্লাই কনজারভেশন। চলতি ২০২৪ সালেও এই গণনা করেছে তারা। তবে এই বছর তাদের হিসাবে সবচেয়ে কম প্রজাপতি পাওয়া গেছে। প্রজাপতির অস্তিত্ব প্রশ্নে এটা অবশ্যই জরুরী অবস্থা, তাই প্রজাপতি  রক্ষায় সারাদেশে ‘বাটারফ্লাই ইমার্জেন্সি’ ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাটারফ্লাই কনজারভেশন ১৪ বছর ধরে প্রজাপতিশুমারি করছে। প্রজাপতি গণনার পদ্ধতিটা মজার। ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্ট মাসে যুক্তরাজ্যজুড়ে হাজারো অংশগ্রহণকারী প্রজাপতি গণনা করেন। এপদ্ধিতে ১৫ মিনিটে অংশগ্রহণকারীরা কতটি প্রজাপতি দেখেছেন সেই ভিত্তিতে প্রজাপতির সংখ্যা সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা দাঁড় করানো হয়। এবছর ওই নির্ধারিত ১৫ মিনিটে মাত্র ৭ টি প্রজাপতির দেখা পান অংশগ্রহণকারীরা। যা এযাবৎ হওয়া এরকম গণনার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন। গত বছরও এই নির্ধারিত সময়ে দেখা যাওয়া প্রজাপতির সংখ্যা ছিল গড়ে ১২ টি।

সংস্থাটির বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. রিচার্ড ফক্স, জানান, প্রজাপতির সংখ্যা গত ৫০ বছর ধরে কমছে। এখন তারা সবচেয়ে খারাপ সময়ের মধ্যে আছে। তিনি বলেন, প্রজাপতি প্রকৃতির অবস্থা বোঝানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। যখন এরা বিপদে থাকে তখন আমরা বুঝতে পারি যে সার্বিক পরিবেশও বিপদের মুখে পড়েছে।’

প্রজাপতি কমার সম্ভাব্য আরেক কারণ: যুক্তরাজ্যে প্রজাপতি কমে যাওয়ার পেছনে আলোচনায় এসেছে একটি কীটনাশকের নাম। ২০১৮ সালে নিওনিকোটিনয়েড কীটনাশক যুক্তরাজ্যে ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু সুগার বিট (চিনি উৎপাদনের মূলাজাতীয় কাঁচামাল) উৎপাদনের স্বার্থে ক্ষতিকর ভাইরাস মোকাবিলার জন্য জরুরি ভিত্তিতে চারবার ওই কীটনাশক ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে প্রজাপতি, মৌমাছির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এ বছর একটু দেরীতে গ্রীষ্ম আসা এবং আদ্র আবহাওয়ার কারণে প্রজাপতি সংখ্যা আরও কম। তবে দীর্ঘমেয়াদে প্রজাপতির সংখ্যা হ্রাসের এই প্রবণতা বেশ উদ্বেগজনক। প্রজাপতি ও মৌমাছি রক্ষায় তাদের ক্ষতি করতে পারে এমন কীটনাশক নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে বাটারফ্লাই কনজারভেশন।

ব্রিটিশ পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, তাদের সরকার প্রকৃতি রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

বজ্রপাতে একদিনে দেশজুড়ে ১২ প্রাণহানি  

প্রজাপতি সংকটে ‘বাটারফ্লাই ইমার্জেন্সি’ ঘোষণা

আপডেট সময় ০৫:৩৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪

বর্ণিল প্রজাপতিরা দেখতে যেমন সুন্দর তেমনই পরাগায়ন, ফল-শস্য উৎপাদন, বাস্তুসংস্থান ভারসাম্যের এক অপরিহার্য অংশ। প্রকৃতিতে প্রজাপতির সংখ্যা কমে আসা তাই অশনিসংকেত। কিন্তু এরকমটাই দেখা যাচ্ছে যুক্তরাজ্যে। গত ১৪ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে প্রজাপতি গণনা করে আসছে বন্যপ্রাণি বিষয়ক দাতব্য সংস্থা বাটারফ্লাই কনজারভেশন। চলতি ২০২৪ সালেও এই গণনা করেছে তারা। তবে এই বছর তাদের হিসাবে সবচেয়ে কম প্রজাপতি পাওয়া গেছে। প্রজাপতির অস্তিত্ব প্রশ্নে এটা অবশ্যই জরুরী অবস্থা, তাই প্রজাপতি  রক্ষায় সারাদেশে ‘বাটারফ্লাই ইমার্জেন্সি’ ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাটারফ্লাই কনজারভেশন ১৪ বছর ধরে প্রজাপতিশুমারি করছে। প্রজাপতি গণনার পদ্ধতিটা মজার। ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্ট মাসে যুক্তরাজ্যজুড়ে হাজারো অংশগ্রহণকারী প্রজাপতি গণনা করেন। এপদ্ধিতে ১৫ মিনিটে অংশগ্রহণকারীরা কতটি প্রজাপতি দেখেছেন সেই ভিত্তিতে প্রজাপতির সংখ্যা সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা দাঁড় করানো হয়। এবছর ওই নির্ধারিত ১৫ মিনিটে মাত্র ৭ টি প্রজাপতির দেখা পান অংশগ্রহণকারীরা। যা এযাবৎ হওয়া এরকম গণনার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন। গত বছরও এই নির্ধারিত সময়ে দেখা যাওয়া প্রজাপতির সংখ্যা ছিল গড়ে ১২ টি।

সংস্থাটির বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. রিচার্ড ফক্স, জানান, প্রজাপতির সংখ্যা গত ৫০ বছর ধরে কমছে। এখন তারা সবচেয়ে খারাপ সময়ের মধ্যে আছে। তিনি বলেন, প্রজাপতি প্রকৃতির অবস্থা বোঝানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। যখন এরা বিপদে থাকে তখন আমরা বুঝতে পারি যে সার্বিক পরিবেশও বিপদের মুখে পড়েছে।’

প্রজাপতি কমার সম্ভাব্য আরেক কারণ: যুক্তরাজ্যে প্রজাপতি কমে যাওয়ার পেছনে আলোচনায় এসেছে একটি কীটনাশকের নাম। ২০১৮ সালে নিওনিকোটিনয়েড কীটনাশক যুক্তরাজ্যে ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু সুগার বিট (চিনি উৎপাদনের মূলাজাতীয় কাঁচামাল) উৎপাদনের স্বার্থে ক্ষতিকর ভাইরাস মোকাবিলার জন্য জরুরি ভিত্তিতে চারবার ওই কীটনাশক ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে প্রজাপতি, মৌমাছির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এ বছর একটু দেরীতে গ্রীষ্ম আসা এবং আদ্র আবহাওয়ার কারণে প্রজাপতি সংখ্যা আরও কম। তবে দীর্ঘমেয়াদে প্রজাপতির সংখ্যা হ্রাসের এই প্রবণতা বেশ উদ্বেগজনক। প্রজাপতি ও মৌমাছি রক্ষায় তাদের ক্ষতি করতে পারে এমন কীটনাশক নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে বাটারফ্লাই কনজারভেশন।

ব্রিটিশ পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, তাদের সরকার প্রকৃতি রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।