বাড়ির বাগান বা ফুলদানি সাজাতে আমরা সবাই ভালোবাসি। তবে সুন্দর ফুলগুলি কখনো কখনো আমাদের জন্য বিপদের কারণও হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যাদের অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের জন্য কিছু ফুল অত্যন্ত ক্ষতিকর। বাড়িতে গাছ রাখলে একদিকে যেমন স্বাস্থ্যের জন্য ভালো , অন্যদিকে কিছু গাছ আছে যেগুলো অ্যালার্জি প্রবণ ব্যক্তিদের জন্য অনিরাপদ। তাই, কোন গাছ রাখা যাবে এবং কোন গাছ রাখা যাবে না, সেটা জানা খুবই জরুরি।
অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী গাছ
ডালিয়া
ডালিয়া ফুলের তোড়া খুবই জনপ্রিয়। বিয়ে, অনুষ্ঠান, ঘর সাজানোর জন্য ডালিয়া ব্যবহার করা হয়। কয়েক প্রকার হাইব্রিড প্রজাতির ডালিয়া ছাড়া বাকিসব ডালিয়ার পরাগ থেকে অ্যালার্জি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বাড়িতে যদি কেউ অ্যালার্জি রোগী থাকে তাহলে ডালিয়া গাছ না লাগানোই ভালো।
গাঁদা
পুজোতে গাঁদা ফুল ব্যবহার করা হয়। গাঁদা ফুলের পাতা কাটা ছেঁড়া নিরাময় করতেও দারুণ কাজে দেয়। কিন্তু গাঁদার পরাগ থেকে হাঁচি, চুলকানি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয়। ফিভার বা অ্যালার্জিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য গাঁদা গাছ বা ফুল খুবই অস্বস্তিকর।
জিপসি ফুল
এই ছোট, সাদা ফুলগুলি দেখতে খুব নিরীহ। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফুলগুলি অ্যালার্জির জন্য সবচেয়ে খারাপ। ছোট, সুন্দর ফুলটি শিশুদের শ্বাস প্রশ্বাসের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। হাঁপানি রোগীদের পক্ষেও এটি খুব খারাপ।
চন্দ্রমল্লিকা
রঙিন ও উজ্জ্বল ফুল চন্দ্রমল্লিকা। বাগান, ঘর কিংবা ফুলদানির সৌন্দর্য নিমেষে বাড়িয়ে দিতে পারে এই ফুল। যদিও আজকাল প্রায় সারা বছরই এই ফুলের চাষ হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞদের কথা অনুযায়ী, এই ফুল বা গাছ থেকে কিন্তু অ্যালার্জি হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।
ফার্ন
ফার্ন গাছের স্পোর অ্যালার্জি প্রবণ ব্যক্তিদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। ফার্ন একটি জনপ্রিয় হাউস প্ল্যান্ট। ঘরের সাজসজ্জায় এর ভূমিকাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। অথচ এই গাছের কারণেই অ্যালার্জি হতে পারে। বিশেষ করে ফার্নের রেণু শ্বাস নেওয়ার সময় নাকে ঢুকলে হাঁচি, ত্বক ও চোখে চুলকানি হতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বাড়তে পারে। দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্টও।
রাবার গাছ
অনেকেরই প্রাকৃতিক রাবার থেকে অ্যালার্জি রয়েছে। রাবার গাছের পাতা ছিঁড়লে যে দুধের মতো পদার্থ বের হয়, তা অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে।
অ্যাভোকাডো গাছ
যদিও অ্যাভোকাডো একটি জনপ্রিয় ফল এবং এর পুষ্টিগুণের জন্য বেশ প্রশংসিত কিন্তু অ্যাভোকাডো গাছের ফল, পাতা এবং ছাল সবই অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে। যাদের গাছের পরাগে এলার্জি থাকে, তারা অ্যাভোকাডো খাওয়ার পর মুখ ও গলায় উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
সর্তকতা
- যদি কোনো নির্দিষ্ট ফুলের পরাগ থেকে অ্যালার্জি হয় তাহলে সেই ফুলকে বাড়িতে না রাখাই ভালো।
- বাড়ির ভিতরে ফুলদানি রাখার পরিমাণ কমিয়ে দিতে হবে।
- বাড়ি পরিষ্কার করার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া: যদি অ্যালার্জি খুব বেশি হয়, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শারমিন সীমা 




















