সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু Logo হাম হলে শিশুকে যেসব খাবার খাওয়াবেন Logo ২২০০ পিঁপড়া পাচার চেষ্টায় চীনা নাগরিকের এক বছরের জেল Logo চট্টগ্রামে নিজেই হাসপাতালে এসে ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা নিলো কাক! Logo বাংলাদেশে প্রতি তিন শিশুর মধ্যে এক জন মারাত্মকভাবে জলবায়ু ঝুঁকির মুখে Logo এপ্রিল এখন পর্যন্ত সহনীয়, দেশে এবছরের গ্রীষ্ম কম ভোগাবে আশা আবহাওয়াবিদের   Logo আজ স্বাধীনতা পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo ‘ধান খাওয়ায়’ মেরে ফেলা হলো বাবুই পাখির ২৯ বাচ্চা, এক জনের কারাদণ্ড Logo পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া Logo জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হতে পারে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

বান্দরবানে মায়াহীনভাবে চলছে মায়া হরিণ শিকার

বান্দরবানে মায়াহীনভাবে চলছে মায়া হরিণ শিকার

মাত্রাতিরিক্ত শিকার, বনভূমি উজাড়ের কারণে ইতোমধ্যে বান্দরবানের পাহাড়ের প্রাণসম্পদ নানা প্রজাতির হরিণ বিলুপ্ত হয়েছে। এখন মানুষের অতিলোভের কারণে বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে বিপন্ন মায়া হরিণও। গুলি করে, ফাঁদ পেতে ধরে জবাই করে চলছে মায়া হরিণ নিধন। বারবার অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশ, এমনকি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস—সবকিছুর পরও বান্দরবানের পাহাড়ি বনাঞ্চলে হরিণ শিকার বন্ধ হয়নি।

সদর রেঞ্জের সুয়ালক ইউনিয়নের কাইচতলী তুলাতুলি বাজার সংলগ্ন চালিগাটা পাহাড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রকাশ্যে হরিণ শিকার করে আসছে। শিকার করা হরিণ জবাই করে মাংস ভাগ-বাটোয়ারা ও বিক্রির ঘটনা স্থানীয়দের কাছে এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা। এতে করে দ্রুত হুমকির মুখে পড়ছে বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য।

সর্বশেষ গত ২৫ মার্চ দুইটি হরিণ জবাই করে খেয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, মা হরিণ পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছে না—যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত বহন করছে।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো—এতসব ঘটনার পরও বন বিভাগ কার্যত নিষ্ক্রিয়। সংবাদ প্রকাশের পর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তহিদুল ইসলাম তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও এখনো পর্যন্ত জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা, গ্রেপ্তার বা দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—এই নীরবতা কি শুধুই অবহেলা, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো অদৃশ্য শক্তি?

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ ও প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় এ শিকার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার নীরবতা ও উদাসীনতাই শিকারিদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সংবাদ হলো, অভিযোগ হলো, আশ্বাসও দেওয়া হলো—কিন্তু কাজের বেলায় কিছুই নেই। তাহলে কি বন বিভাগ শুধু দেখেই যাবে?”

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে চরম অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সন্তোষজনক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

সচেতন মহলের মতে, এখনই যদি কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে খুব শিগগিরই বান্দরবানের বনাঞ্চল থেকে হরিণসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু

বান্দরবানে মায়াহীনভাবে চলছে মায়া হরিণ শিকার

আপডেট সময় ০৩:৫২:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

মাত্রাতিরিক্ত শিকার, বনভূমি উজাড়ের কারণে ইতোমধ্যে বান্দরবানের পাহাড়ের প্রাণসম্পদ নানা প্রজাতির হরিণ বিলুপ্ত হয়েছে। এখন মানুষের অতিলোভের কারণে বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে বিপন্ন মায়া হরিণও। গুলি করে, ফাঁদ পেতে ধরে জবাই করে চলছে মায়া হরিণ নিধন। বারবার অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশ, এমনকি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস—সবকিছুর পরও বান্দরবানের পাহাড়ি বনাঞ্চলে হরিণ শিকার বন্ধ হয়নি।

সদর রেঞ্জের সুয়ালক ইউনিয়নের কাইচতলী তুলাতুলি বাজার সংলগ্ন চালিগাটা পাহাড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রকাশ্যে হরিণ শিকার করে আসছে। শিকার করা হরিণ জবাই করে মাংস ভাগ-বাটোয়ারা ও বিক্রির ঘটনা স্থানীয়দের কাছে এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা। এতে করে দ্রুত হুমকির মুখে পড়ছে বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য।

সর্বশেষ গত ২৫ মার্চ দুইটি হরিণ জবাই করে খেয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, মা হরিণ পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছে না—যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত বহন করছে।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো—এতসব ঘটনার পরও বন বিভাগ কার্যত নিষ্ক্রিয়। সংবাদ প্রকাশের পর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তহিদুল ইসলাম তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও এখনো পর্যন্ত জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা, গ্রেপ্তার বা দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—এই নীরবতা কি শুধুই অবহেলা, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো অদৃশ্য শক্তি?

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ ও প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় এ শিকার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার নীরবতা ও উদাসীনতাই শিকারিদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সংবাদ হলো, অভিযোগ হলো, আশ্বাসও দেওয়া হলো—কিন্তু কাজের বেলায় কিছুই নেই। তাহলে কি বন বিভাগ শুধু দেখেই যাবে?”

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে চরম অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সন্তোষজনক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

সচেতন মহলের মতে, এখনই যদি কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে খুব শিগগিরই বান্দরবানের বনাঞ্চল থেকে হরিণসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।