সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বাবা এবং সিরিয়ার সাবেক শাসক হাফিজ আল আসাদের কবরে আগুন দিয়েছে বিদ্রোহীরা। এই ঘটনার খবর ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে বিশ্বগণমাধ্যমে। বুধবার (১১ ডিসেম্বর) ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, হাফিজের কবর পুড়ছে, সামরিক পোশাক পরা বিদ্রোহী যোদ্ধা ও তরুণরা সেখানে দাঁড়িয়ে আছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েকটি ছবিতে দেখা যায় কবরের একাংশে আগুন জ্বলছে। এতে একটি কফিনেও আগুন জ্বলতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে কফিনটি ওই কবর থেকে তোলা হয়েছে।
হাফিজের সমাধিস্থলটি একটি পাহাড়ের ওপরে সুবিশাল উঁচু কাঠামোয় তৈরি। এটি অনেক খিলানের সমাহারে তৈরি একটি জটিল স্থাপত্য। এর বাইরের অংশ পাথরে খোদাই করে অলংকৃত করা হয়। এতে আসাদ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের সমাধি রয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, আগুন দেয়ার কারণে সমাধিস্থলের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাফিজের সমাধিতে আগুন দেয়া হয়েছে এবং সেটি ধ্বংস করা হয়েছে।
কেমন শাসক ছিলেন হাফিজ আল আসাদ?
১৯৪৮ সাল থেকে সিরিয়ায় প্রায় এক ডজনেরও বেশি বার অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে হয়েছে, যার কোনটি সফল ছিল বা কোনটি ছিলনা। সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে কোন কোন অভ্যুত্থানের নায়কগণ রাষ্ট্রক্ষমতা আয়ত্ত করতে পারলেও সিরিয়াকে রাজনৈতিক ভাবে স্থিতিশীল করার প্রক্রিয়ায় কেউই সাফল্য পাননি। বরং অধিকাংশ সফল অভ্যুত্থানকারীই পরবর্তী কোন না কোন অভ্যুত্থানে বিতাড়িত হয়েছেন। কিন্তু হাফিজ আল-আসাদের নেতৃত্বে বাথ পার্টির সংশোধনী বিপ্লবের পর ১৯৭১ সাল থেকে সিরিয়ার রাজনৈতিক পটপরিবর্তন শুরু হয়। দীর্ঘকালের অস্থির প্রশাসনে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হয়, যার ফলে সাধারণের সিরীয়দের মাঝে হাফিজ আল-আসাদের নির্ভরযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়, কেননা তৎকালীন পরিস্থিতিতে একটি শক্তিশালী সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের কাজ শুরু করা প্রকৃতপক্ষেই হাফিজ আল-আসাদ সহ সরকারে তার অনুসারীদের একটি অনস্বীকার্য সাফল্য ছিল।

তবে হাফিজ আল আসাদের বাথ পার্টি সামরিক কঠোরতায় দেশ শাসন এবং দমন নীতির কারণে সমালোচিত। শিয়া-সুন্নীসহ নানা সম্প্রদায়ে বিভক্ত সিরিয়ায় হাফিজ আল আসাদের শাসনে কেউ ছিল সন্তুষ্ট আবার কেউ ছিল ক্ষুব্ধ। এমনকি হাফিজ আল আসাদের ছোট ভাই রিফাত আল-আসাদ ১৯৮৪ সালে সশস্ত্র বাহিনীর একটি অংশকে কাজে লাগিয়ে অভ্যুত্থান করে ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা করেন। যদিও তা সফল হয়নি।
২০০০ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাফিজ আল আসাদ মারা যান। এরপর তাকে তাঁর পূর্বপুরুষের গ্রাম কারদাহায় সমাহিত করা হয়। কারদাহা আলাউইত সম্প্রদায় অধ্যুষিত। আসাদরা এ সম্প্রদায়ের সদস্য। ২০০০ সালে হাফিজ আল আসাদের ছেলে বাশার আল আসাদ সিরিয়ার ক্ষমতায় আসেন। বাশার ক্ষমতায় ছিলেন দুই যুগ।

এরপর গত রোববার বাশার আল আসাদের পতন ঘটে। বিদ্রোহীদের অব্যাহত আক্রমণে মুখে দামেস্ক থেকে উড়োজাহাজে চেপে রাশিয়ায় আশ্রয় নেন প্রেসিডেন্ট বাশার। বিদ্রোহীদের দামেস্ক দখলের মধ্য দিয়ে অবসান ঘটলো বাশার আল আসাদের দুই যুগের শাসনামলের। এরপর একের পর এক এলাকা দখল নিতে শুরু করে বিদ্রোহীরা। ক্ষমতা হারানোর পর দেশ ছেড়ে তিনি আশ্রয় নেন রাশিয়ায়।
ডেস্ক রিপোর্ট 




















