আজ সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব গণ্ডার দিবস । ২০১০ সালে ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ড লাইফ ফান্ড সাউথ আফ্রিকা ২২ সেপ্টেম্বরকে বিশ্ব গণ্ডার দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে প্রতিবছর এই দিনটি বিশ্ব গণ্ডার দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
বিশ্বব্যাপী গণ্ডার শিকার রোধ ও গণ্ডারের বাসভূমি সংরক্ষণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশে এই দিবস পালন করা হয়।
বিভিন্ন দেশের সরকার, এনজিও, চিড়িয়াখানা ও সাধারণ মানুষ মিলে এই দিনটি পালন করে।
সব বন্য প্রাণীর মধ্যে গণ্ডার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী। বিশ্বজুড়ে এখন পাঁচ ধরনের গণ্ডার দেখা যায়। এর মধ্যে আফ্রিকায় পাওয়া যায় সাদা ও কালো গণ্ডার, একশৃঙ্গ, জাভা ও সুমাত্রা প্রজাতির গণ্ডার পাওয়া যায় এশিয়ায়।

এসব বিপন্ন প্রজাতির গণ্ডার বাঁচানোর জন্য এই দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের শেষ গণ্ডার ‘বেগম’
গণ্ডার (Rhinoceros বা Rhino) একপ্রকার স্তন্যপায়ী তৃণভোজী প্রাণী। এটি রাইনোসেরোটিডি পরিবারের অন্তর্গত। পৃথিবীতে বুনো পরিবেশে পাঁচ প্রজাতির গণ্ডার বাস করত। যার দুটি ছিল আফ্রিকায় ও তিনটি ছিল এশিয়ায়। এশিয়ার তিনটি গণ্ডার প্রজাতির সবগুলোই একসময় আজকের বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বিচরণ করতো। কালের বিবর্তনে বসতি হারিয়ে, শিকারির শিকার হয়ে সব গণ্ডার হারিয়ে গেছে।
নইলে হয়তো বিশ্ব বাঘ দিবসের মতো বিশ্ব গণ্ডার দিবস বাংলাদেশেও ঘটা করে পালন করা হতো।
অতীত নথিপত্র, জেলাভিত্তিক গেজেটিয়ার, ব্রিটিশ শাসনামলে ইংরেজ কর্তৃক বিভিন্ন প্রকাশনা থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের উত্তরে তিস্তা অঞ্চল থেকে দক্ষিণ-পূর্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে সুন্দরবন পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল তিন প্রজাতির গণ্ডারের বসতি।
বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত এই তিন প্রজাতির গণ্ডার হলো: একশিঙ্গি বড় গণ্ডার, যেটি নেপাল সিকিম থেকে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত চরে বেড়াতো। জাভা গণ্ডার বা সুন্দা গণ্ডার সুন্দরবন, যশোর থেকে বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহসহ বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত দেখা যেত। সুন্দরবন ও যশোর থেকে শিকার করা এমন ১১টি একশিঙ্গি ছোট গণ্ডার কলকাতা, বার্লিন ও লন্ডন জাদুঘরে তৎকালীন সময় নিয়ে যাওয়া হয়।
আরেকটি প্রজাতি সুমাত্রান গণ্ডার বা দুইশিঙ্গি গণ্ডারের আবাস কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পর্যন্ত ছিল।
হারিয়ে যেতে যেতে একেবারেই বিলুপ্ত হওয়ার আগে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে সর্বশেষ গণ্ডারটির বিস্তারিত রেকর্ড রয়েছে ১৮৬৮ সালের। এই রেকর্ডে থাকা গণ্ডারটি ছিল একটি সুমাত্রান গণ্ডার। বন্দি করা এই গণ্ডারটির নাম দেয়া হয়েছিল ‘বেগম’।

১৮৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে সাঙ্গু নদীর কাছাকাছি চোরাবালিতে আটকা পড়ে গণ্ডারটি। চোরাবালিতে আটকে দুর্বল হয়ে পড়েছিল এটি। স্থানীয় লোকজন সেখানেই এটিকে আটকে রেখে ইংরেজ প্রশাসনকে জানান। তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের ক্যাপ্টেন হুড ও মি. উইকস আটটি হাতি নিয়ে ১৬ ঘণ্টা কঠোর চেষ্টার পর গণ্ডারটি বন্দী করে। বিরল এই প্রাণীকে ধরে অর্থের লোভে পড়েন তারা। লন্ডন চিড়িয়াখানা তাদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় দর-কষাকষির পর ১৮৭২ সালে বেগমকে পাঁচ হাজার পাউন্ডে কিনে নেয়। বেগম বন্দী হয় লন্ডনের খাঁচায়। বেগমের বিদায়ের সঙ্গে কার্যত রেকর্ডবুক থেকেও বিদায় নেয় বাংলায় সুমাত্রান গণ্ডার।

তবে সুন্দরবনের ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৮০০ সালের শেষ দিকে বা ১৯০০ সালের প্রথম দিকে সুন্দরবনের নলিয়ান থেকে একটি জাভান গণ্ডার শিকার করেন কালাচাঁদ নামের এক শিকারি। খুলনার রায়সাহেব নলিনীকান্ত রায়চৌধুরী শেষ ১৮৮৫ সালে সুন্দরবনে গণ্ডারের পায়ের চিহ্ন দেখেছিলেন। তারপর সুন্দরবনে বা বাংলাদেশের কোথাও গণ্ডারের উপস্থিতির উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 




















