আজ আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস। বাঘের প্রাকৃতিক আবাস রক্ষা এবং এই প্রাণী সংরক্ষণের জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতি বছরের ২৯ জুলাই দিবসটি পালন করা হয়।
এ বছর দিবসটির মূল আকর্ষণ ছিল বাঘশুমারির ফলাফল প্রকাশ। কিন্তু তা হচ্ছে না। বন কর্মকর্তারা জানান, আন্দোলন ও কারফিউর কারণে সব কাজ সম্পন্ন করা যায়নি। সেজন্য আগামী মাসে ফল ঘোষণা করা হবে।
রয়েল বেঙ্গল টাইগার। সুন্দরবনের অন্যতম আকর্ষণ। সুন্দরবনের ভারসাম্য ধরে রাখতে সবার উপরে তাদের ভূমিকা। সুন্দরবন ভ্রমণে এখন অনেক পর্যটকের ক্যামেরায় ধরা পড়ছে বাঘের ছবি। চোরা শিকারি, বনদস্যুদের দাপট, অভয়ারণ্যে অবাধ যাতায়াত, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা কারণে গত কয়েক দশকে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা কমছিল। কমছিল বাঘের শিকার প্রাণীর সংখ্যাও।
সবশেষ ২০১৮ সালে বাঘ জরিপে সুন্দরবনে ১১৪টি বাঘের সংখ্যা পাওয়া যায়। এরপর অভয়ারণ্য বাড়ানো এবং সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করাসহ নানা উদ্যোগ নেয় বন বিভাগ। যার সুফলও মিলতে শুরু করেছে। এরইমধ্যে বাঘের প্রজনন, নিরাপত্তা ও সংখ্যা বৃদ্ধিতে সুন্দরবনে বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। এ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০২২ সালে তৃতীয়বারের মতো সুন্দরবনের বাঘ গণনা শুরু হয় যা চলে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট রেঞ্জের ৬৩৯টি গ্রিডে ক্যামেরা বসিয়ে সংগ্রহ করা হয় ছবি। এসব ছবির তথ্য-উপাত্ত নিয়ে নিয়ে এখন চলছে বিশ্লেষণ।
বন বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ে প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর সাড়ে ১০ লাখেরও বেশি ছবি পাওয়া যায়। এরমধ্য থেকে বাঘের প্রায় সাড়ে সাত হাজার ছবি পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে বন বিভাগ। একই বাঘের ছবি পাওয়া গেছে বহুবার। এজন্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রতিটি বাঘের ‘ইউনিক আইডি’ করা হয়েছে। এসব ছবি বিশেষজ্ঞদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে। তারা সেগুলো বিশ্লেষণ করছেন।
বন বিভাগ জানায়, এর আগে ২০১৮ সালে ক্যামেরা ট্র্যাপিং পদ্ধতিতে করা শুমারি অনুযায়ী সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১১৪। এবার এই সংখ্যা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট 




















