সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু Logo হাম হলে শিশুকে যেসব খাবার খাওয়াবেন Logo ২২০০ পিঁপড়া পাচার চেষ্টায় চীনা নাগরিকের এক বছরের জেল Logo চট্টগ্রামে নিজেই হাসপাতালে এসে ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা নিলো কাক! Logo বাংলাদেশে প্রতি তিন শিশুর মধ্যে এক জন মারাত্মকভাবে জলবায়ু ঝুঁকির মুখে Logo এপ্রিল এখন পর্যন্ত সহনীয়, দেশে এবছরের গ্রীষ্ম কম ভোগাবে আশা আবহাওয়াবিদের   Logo আজ স্বাধীনতা পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo ‘ধান খাওয়ায়’ মেরে ফেলা হলো বাবুই পাখির ২৯ বাচ্চা, এক জনের কারাদণ্ড Logo পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া Logo জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হতে পারে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

বৃক্ষরোপণ: কোন গাছে পরিবেশের কী উপকার হয়, জেনে নিন

বৃক্ষরোপণ: কোন গাছে পরিবেশের কী উপকার হয়, জেনে নিন। ছবি-এআই

বৃক্ষরোপণের জন্য উপযুক্ত সময় হলো বর্ষাকাল। সাধারণত জুন, জুলাই এবং আগস্ট মাস বৃক্ষরোপণের জন্য সেরা সময়। এই সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়, যা গাছের চারা রোপণের জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। বৃষ্টির পানি গাছের শিকড়কে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করে এবং গাছ সহজে মাটিতে স্থাপিত হতে পারে।

 

বর্ষাকালে বৃক্ষরোপণের কিছু সুবিধা: বৃষ্টির কারণে মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকে, যা গাছের শিকড়কে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করে। বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কম থাকে, যা গাছের জন্য উপকারী।বর্ষাকালে গাছপালা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বর্ষার সময়ে গাছের চারা রোপণ করলে, তাদের পরিচর্যা করাও সহজ হয়।

তবে গাছ সম্পর্কে না জেনে বৃক্ষরোপণ অভিযান যে হিতে বিপরীত হয় তার ফল দেখা গেছে ইউক্যালিপটাস এবং অ্যাকাসিয়া বা আকাশমণি গাছের বেলায়। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে আগ্রাসী প্রজাতি ইউক্যালিপটাস গাছের কারণে রীতিমতো আতঙ্কিত হয়েছেন বৃক্ষপ্রেমি ও বোদ্ধারা।

 

সাধারণত ব্যক্তি পর্যায়ে ভবিষ্যত লাভের আশায় ফলদ এবং কাষ্ঠল গাছের চারা রোপণ করা হয়। কিন্তু দেশে সাম্প্রতিক সময়ে যে তাপমাত্রার উর্ধগতি তাতে দেশজুড়ে বৃক্ষরোপণ এখন নিজেদের অস্তিত্ব এবং আগামী প্রজন্মের জন্য জরুরী হয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে পরিবেশবাদী সংগঠন, সবাই একবাক্যে বৃক্ষরোপণকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই জেনে নেয়া ভাল যে কোন গাছ আসলেই পরিবেশের কী কাজে আসে।

 

পরিবেশবান্ধব গাছের মধ্যে উল্লেখযোগ্য গাছগুলো হলো: বট ও অশ্বত্থ, নিম, আম, জাম, শিমুল, জারুল, শাল, গগন শিরিষ, অর্জুন ইত্যাদি। এবার বিস্তারিতভাবে জেনে নেয়া যাক এসব গাছ পরিবেশের কী কাজে আসে:

 

নিম গাছ

নিমগাছ শুধু ছায়া দেয় না, এটি প্রাকৃতিকভাবেই বাতাস ঠাণ্ডা রাখে। তাপ প্রশমনের ক্ষমতার জন্য উপমা হিসেবে অনেকে বলেন, একটি নিম গাছ ১০টি এসির সমান।

এক-একটি নিমগাছ এর আয়ুষ্কালে এমন পরিমাণ পরিবেশগত সেবা দেয়, যার মূল্য প্রায় ২৪,০০০ থেকে ৩০,০০০ মার্কিন ডলার। একটি পরিপক্ব নিমগাছ প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ বছর বাঁচে এবং তার ছায়ার নিচের তাপমাত্রা আশেপাশের তাপমাত্রার চেয়ে গড়ে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম থাকে। এ ছাড়া নিম গাছ উচ্চ মাত্রার দূষণও সহ্য করতে পারে।

কার্বন ডাই অক্সাইড, সালফার অক্সাইড ও নাইট্রোজেনের মতো দূষণকারী পদার্থ শোষণ করার ক্ষমতাও রয়েছে। পরিবেশকে শীতল ও বিশুদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে নিম গাছের তুলনা নেই। আপনার বাড়ির পাশে খালি জায়গা থাকলে নিমগাছ রোপণ করতে পারেন। এতে পরিবেশের পাশাপাশি আপনারও উপকারও হবে।

 

বট ও অশ্বত্থ

বট ও অশ্বত্থ গাছ পরিবেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই গাছগুলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বিভিন্নভাবে কাজ করে।

বট ও অশ্বত্থ গাছ প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন সরবরাহ করে যা জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য। এই গাছগুলো বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে এবং ক্ষতিকারক পদার্থ দূর করে বায়ু দূষণ কমাতে সাহায্য করে।

এসব গাছের শিকড় মাটি আঁকড়ে ধরে রাখে, ফলে মাটি ক্ষয় হওয়া থেকে রক্ষা পায়। গাছপালা কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে যা গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমায় এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সহায়তা করে।

বট ও অশ্বত্থ গাছ বিভিন্ন পাখি ও প্রাণীর আবাসস্থল সরবরাহ করে এবং তাদের খাদ্য সরবরাহ করে। এই গাছগুলো প্রখর রোদ থেকে ছায়া সরবরাহ করে যা মানুষের পাশাপাশি অন্যান্য জীবজন্তুর জন্য উপকারী।

 

আম, জাম গাছ

আম ও জাম গাছ বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন সরবরাহ করে, যা আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য অপরিহার্য। এছাড়াও, এই গাছগুলো মাটির ক্ষয় রোধ করে, পরিবেশকে শীতল রাখে এবং বিভিন্ন প্রাণী ও পাখির আবাসস্থল হিসেবে কাজ করে।

গাছপালা কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন নিঃসরণের মাধ্যমে বায়ু পরিষ্কার রাখে। আম ও জাম গাছও এই কাজটি করে পরিবেশের দূষণ কমাতে সাহায্য করে।

আম ও জাম গাছের শিকড় মাটিকে আরও স্থিতিশীল করে তোলে, বিশেষ করে বন্যা প্রবণ এলাকায়। গাছপালা তাদের পাতার মাধ্যমে বাষ্পীভবন ঘটায়, যা মেঘ সৃষ্টি এবং বৃষ্টিপাতের জন্য অপরিহার্য। আম ও জাম গাছ এই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে পরিবেশের জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে অবদান রাখে।

আম ও জাম গাছের ফল ও পাতা বিভিন্ন পাখি, পোকামাকড় এবং অন্যান্য প্রাণী খাদ্য ও আশ্রয় সরবরাহ করে। এটি জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ

 

শিমুল গাছ

এটি পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর আবাসস্থল সরবরাহ করে, বাতাসকে বিশুদ্ধ করে এবং মাটির ক্ষয়রোধে সাহায্য করে। শিমুল গাছে বিভিন্ন ধরণের পাখি, পোকামাকড় এবং অন্যান্য প্রাণী আশ্রয় নেয়। বিশেষ করে, প্রায় ৫০ প্রজাতির পাখি শিমুল ফুলের মধু খেতে আসে, যা তাদের খাদ্য এবং প্রজননে সহায়তা করে।

 

জারুল

জারুল গাছের পাতা শব্দ শোষণ করতে পারে, তাই এটি শব্দ দূষণ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া জারুল গাছ বায়ু থেকে বিভিন্ন ক্ষতিকারক পদার্থ শোষণ করে বায়ু দূষণ কমাতে সাহায্য করে।

জারুল গাছের শিকড় মাটির গভীরে প্রবেশ করে মাটিকে আবদ্ধ করে রাখে, যা মাটি ক্ষয় হতে বাধা দেয়। বিশেষ করে যেখানে নদী বা জলাশয়ের ধারে জারুল গাছ লাগানো হয়, সেখানে এটি ভূমিধস বা মাটি ক্ষয় রোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

 

শাল গাছ

কার্বন সিংক: শাল গাছ কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে এবং কার্বন ধরে রাখে, যা বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

শাল গাছের শিকড় মাটি ধরে রাখে, যার ফলে ভূমিধস এবং মৃত্তিকা ক্ষয় রোধ হয়।

শাল বন বিভিন্ন ধরণের উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল, যা জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য অপরিহার্য।

 

গগন শিরিষ

গগন শিরীষ গাছ কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে বায়ু বিশুদ্ধ করে। এই গাছ বৃষ্টির পানি শোষণ করে এবং অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনে সহায়তা করে, যা বন্যা ও জলাবদ্ধতা প্রতিরোধ করে।

সুউচ্চ গগন শিরিষ ভুবন চিল, কাঠবিড়ালিদের আশ্রয়স্থল

গগন শিরীষ গাছ বিভিন্ন পাখি ও প্রাণীর আবাসস্থল সরবরাহ করে, যা জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সাহায্য করে। গগন শিরীষ গাছ বড় এবং ছায়াযুক্ত হওয়ায় পথচারী এবং জীবজন্তুদের জন্য আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু

বৃক্ষরোপণ: কোন গাছে পরিবেশের কী উপকার হয়, জেনে নিন

আপডেট সময় ০২:৫০:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫

বৃক্ষরোপণের জন্য উপযুক্ত সময় হলো বর্ষাকাল। সাধারণত জুন, জুলাই এবং আগস্ট মাস বৃক্ষরোপণের জন্য সেরা সময়। এই সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়, যা গাছের চারা রোপণের জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। বৃষ্টির পানি গাছের শিকড়কে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করে এবং গাছ সহজে মাটিতে স্থাপিত হতে পারে।

 

বর্ষাকালে বৃক্ষরোপণের কিছু সুবিধা: বৃষ্টির কারণে মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকে, যা গাছের শিকড়কে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করে। বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কম থাকে, যা গাছের জন্য উপকারী।বর্ষাকালে গাছপালা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বর্ষার সময়ে গাছের চারা রোপণ করলে, তাদের পরিচর্যা করাও সহজ হয়।

তবে গাছ সম্পর্কে না জেনে বৃক্ষরোপণ অভিযান যে হিতে বিপরীত হয় তার ফল দেখা গেছে ইউক্যালিপটাস এবং অ্যাকাসিয়া বা আকাশমণি গাছের বেলায়। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে আগ্রাসী প্রজাতি ইউক্যালিপটাস গাছের কারণে রীতিমতো আতঙ্কিত হয়েছেন বৃক্ষপ্রেমি ও বোদ্ধারা।

 

সাধারণত ব্যক্তি পর্যায়ে ভবিষ্যত লাভের আশায় ফলদ এবং কাষ্ঠল গাছের চারা রোপণ করা হয়। কিন্তু দেশে সাম্প্রতিক সময়ে যে তাপমাত্রার উর্ধগতি তাতে দেশজুড়ে বৃক্ষরোপণ এখন নিজেদের অস্তিত্ব এবং আগামী প্রজন্মের জন্য জরুরী হয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে পরিবেশবাদী সংগঠন, সবাই একবাক্যে বৃক্ষরোপণকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই জেনে নেয়া ভাল যে কোন গাছ আসলেই পরিবেশের কী কাজে আসে।

 

পরিবেশবান্ধব গাছের মধ্যে উল্লেখযোগ্য গাছগুলো হলো: বট ও অশ্বত্থ, নিম, আম, জাম, শিমুল, জারুল, শাল, গগন শিরিষ, অর্জুন ইত্যাদি। এবার বিস্তারিতভাবে জেনে নেয়া যাক এসব গাছ পরিবেশের কী কাজে আসে:

 

নিম গাছ

নিমগাছ শুধু ছায়া দেয় না, এটি প্রাকৃতিকভাবেই বাতাস ঠাণ্ডা রাখে। তাপ প্রশমনের ক্ষমতার জন্য উপমা হিসেবে অনেকে বলেন, একটি নিম গাছ ১০টি এসির সমান।

এক-একটি নিমগাছ এর আয়ুষ্কালে এমন পরিমাণ পরিবেশগত সেবা দেয়, যার মূল্য প্রায় ২৪,০০০ থেকে ৩০,০০০ মার্কিন ডলার। একটি পরিপক্ব নিমগাছ প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ বছর বাঁচে এবং তার ছায়ার নিচের তাপমাত্রা আশেপাশের তাপমাত্রার চেয়ে গড়ে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম থাকে। এ ছাড়া নিম গাছ উচ্চ মাত্রার দূষণও সহ্য করতে পারে।

কার্বন ডাই অক্সাইড, সালফার অক্সাইড ও নাইট্রোজেনের মতো দূষণকারী পদার্থ শোষণ করার ক্ষমতাও রয়েছে। পরিবেশকে শীতল ও বিশুদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে নিম গাছের তুলনা নেই। আপনার বাড়ির পাশে খালি জায়গা থাকলে নিমগাছ রোপণ করতে পারেন। এতে পরিবেশের পাশাপাশি আপনারও উপকারও হবে।

 

বট ও অশ্বত্থ

বট ও অশ্বত্থ গাছ পরিবেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই গাছগুলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বিভিন্নভাবে কাজ করে।

বট ও অশ্বত্থ গাছ প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন সরবরাহ করে যা জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য। এই গাছগুলো বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে এবং ক্ষতিকারক পদার্থ দূর করে বায়ু দূষণ কমাতে সাহায্য করে।

এসব গাছের শিকড় মাটি আঁকড়ে ধরে রাখে, ফলে মাটি ক্ষয় হওয়া থেকে রক্ষা পায়। গাছপালা কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে যা গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমায় এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সহায়তা করে।

বট ও অশ্বত্থ গাছ বিভিন্ন পাখি ও প্রাণীর আবাসস্থল সরবরাহ করে এবং তাদের খাদ্য সরবরাহ করে। এই গাছগুলো প্রখর রোদ থেকে ছায়া সরবরাহ করে যা মানুষের পাশাপাশি অন্যান্য জীবজন্তুর জন্য উপকারী।

 

আম, জাম গাছ

আম ও জাম গাছ বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন সরবরাহ করে, যা আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য অপরিহার্য। এছাড়াও, এই গাছগুলো মাটির ক্ষয় রোধ করে, পরিবেশকে শীতল রাখে এবং বিভিন্ন প্রাণী ও পাখির আবাসস্থল হিসেবে কাজ করে।

গাছপালা কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন নিঃসরণের মাধ্যমে বায়ু পরিষ্কার রাখে। আম ও জাম গাছও এই কাজটি করে পরিবেশের দূষণ কমাতে সাহায্য করে।

আম ও জাম গাছের শিকড় মাটিকে আরও স্থিতিশীল করে তোলে, বিশেষ করে বন্যা প্রবণ এলাকায়। গাছপালা তাদের পাতার মাধ্যমে বাষ্পীভবন ঘটায়, যা মেঘ সৃষ্টি এবং বৃষ্টিপাতের জন্য অপরিহার্য। আম ও জাম গাছ এই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে পরিবেশের জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে অবদান রাখে।

আম ও জাম গাছের ফল ও পাতা বিভিন্ন পাখি, পোকামাকড় এবং অন্যান্য প্রাণী খাদ্য ও আশ্রয় সরবরাহ করে। এটি জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ

 

শিমুল গাছ

এটি পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর আবাসস্থল সরবরাহ করে, বাতাসকে বিশুদ্ধ করে এবং মাটির ক্ষয়রোধে সাহায্য করে। শিমুল গাছে বিভিন্ন ধরণের পাখি, পোকামাকড় এবং অন্যান্য প্রাণী আশ্রয় নেয়। বিশেষ করে, প্রায় ৫০ প্রজাতির পাখি শিমুল ফুলের মধু খেতে আসে, যা তাদের খাদ্য এবং প্রজননে সহায়তা করে।

 

জারুল

জারুল গাছের পাতা শব্দ শোষণ করতে পারে, তাই এটি শব্দ দূষণ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া জারুল গাছ বায়ু থেকে বিভিন্ন ক্ষতিকারক পদার্থ শোষণ করে বায়ু দূষণ কমাতে সাহায্য করে।

জারুল গাছের শিকড় মাটির গভীরে প্রবেশ করে মাটিকে আবদ্ধ করে রাখে, যা মাটি ক্ষয় হতে বাধা দেয়। বিশেষ করে যেখানে নদী বা জলাশয়ের ধারে জারুল গাছ লাগানো হয়, সেখানে এটি ভূমিধস বা মাটি ক্ষয় রোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

 

শাল গাছ

কার্বন সিংক: শাল গাছ কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে এবং কার্বন ধরে রাখে, যা বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

শাল গাছের শিকড় মাটি ধরে রাখে, যার ফলে ভূমিধস এবং মৃত্তিকা ক্ষয় রোধ হয়।

শাল বন বিভিন্ন ধরণের উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল, যা জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য অপরিহার্য।

 

গগন শিরিষ

গগন শিরীষ গাছ কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে বায়ু বিশুদ্ধ করে। এই গাছ বৃষ্টির পানি শোষণ করে এবং অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনে সহায়তা করে, যা বন্যা ও জলাবদ্ধতা প্রতিরোধ করে।

সুউচ্চ গগন শিরিষ ভুবন চিল, কাঠবিড়ালিদের আশ্রয়স্থল

গগন শিরীষ গাছ বিভিন্ন পাখি ও প্রাণীর আবাসস্থল সরবরাহ করে, যা জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সাহায্য করে। গগন শিরীষ গাছ বড় এবং ছায়াযুক্ত হওয়ায় পথচারী এবং জীবজন্তুদের জন্য আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে।