সীমান্তজেলা শেরপুরে বন্যাপরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। টানা বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে শেরপুর। জেলার ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও শ্রীবরদীর উজানের পানি কমলেও ভাটিতে সদর ও নকলা উপজেলার নিম্নাঞ্চলের নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বন্যায় এ পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, সবশেষ শনিবার রাতে নকলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বন্যায় নালিতাবাড়ী উপজেলায় পাঁচ জন ও ঝিনাইগাতীতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৩ লাখের বেশি। শেরপুর নাকুগাঁও স্থলবন্দর স্থবির হয়ে পড়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে জেলার অধিকাংশ সড়ক। বিধ্বস্ত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ পাকা ও কাঁচা সড়ক।

আশার কথা হলো- শেরপুর সদর, নকলার কয়েকটি ইউনিয়নে বন্যার পানি ঢুকলেও শেরপুরের নদীগুলোর পানি কমছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নালিতাবাড়ীর ভোগাই নদীর পানি কমে বিপদসীমার ৫১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং চেল্লাখালী নদীর পানি কমে বিপদসীমার ১৮৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে জেলাটিতে রোববার সকাল থেকে বৃষ্টি মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়াচ্ছে।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান রোববার সকালে বলেন, শনিবার রাতে ভারী বৃষ্টি হয়নি। তবে রোববার সকাল থেকে আবার বৃষ্টি হচ্ছে।
পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধারের জন্য সেনাবাহিনী, বিজিবি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য এবং উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করছেন। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ত্রাণ তৎপরতা পুরোদমে চলছে।

বন্যার্তদের সহায়তার জন্য সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বানভাসি মানুষের স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার জন্য ১৭টি মেডিকেল টিম এলাকায় কাজ করছে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেগুলোতে বন্যার্তদের চিকিৎসা নিশ্চিতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
ডেস্ক রিপোর্ট 










