মার্স বা মঙ্গল গ্রহকে লাল গ্রহ বলা হয়, শুনে মনে হয় বুঝি প্রাণহীন ভীষণ গরম এক ধু ধু প্রান্তরের গ্রহ এটি। এই গ্রহে পানি আছে কিনা তা নিয়ে চলতে থাকে গবেষণা, মেলে পানির সন্ধান, তবে জমাট অবস্থায়। কিন্তু এবার আরও অত্যাধুক প্রযুক্তির ব্যবহারে জানা গেল সৌরজগতের চতুর্থ গ্রহ মঙ্গলের ভূপৃষ্ঠের অনেকটা গভীরে তরল পানির অস্তিত্ব রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার রোবটযানের ‘মার্স ইনসাইট ল্যান্ডার’ পাঠানো তথ্য–উপাত্ত ব্যবহার করে এক গবেষণায় এ তথ্য জানা গেছে। মঙ্গলগ্রহের পাথরের নিচে তরল পানির আধার পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন নাসার বিজ্ঞানীরা। এ অনুসন্ধানটি প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্স (পিএনএএস) এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে।
পিএনএএসের বরাত দিয়ে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০১৮ সালে নাসার বিজ্ঞানীরা মঙ্গলগ্রহের ভূপৃষ্ঠে ইনসাইট ল্যান্ডার পরিচালনা করেন। এ ল্যান্ডারের সিসমোমিটারের সাহায্যে মঙ্গলগ্রহের ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়। এ ছাড়া, কীভাবে ভূমিকম্পে সেখানকার পৃষ্ঠভাগ কেঁপে ওঠে, সেটি পরীক্ষা এবং ভূপৃষ্ঠের নিচে কোনো উপকরণ বা পদার্থ রয়েছে, তা পরীক্ষা–নিরীক্ষা করছে যানটি।
ইনসাইট ল্যান্ডারের সাহায্যে এই প্রথম মঙ্গলগ্রহের পাথুরে ভূপৃষ্ঠের বাইরের ভূত্বকের গভীরে তরল পানির অস্তিত্ব রয়েছে বলে জানা গেছে।
যদিও এর আগেই মঙ্গল গ্রহের মেরু অঞ্চলে এবং বায়ুমণ্ডলে পানির অস্তিত্বের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে তা তরল অবস্থায় না। বরং তা বরফ এবং বাষ্পাকারে রয়েছে। আর তরল পানি ছাড়া কোনো স্থানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকা সম্ভব না। জীবনের জন্য পানি অপরিহার্য বলে ধরা হয় এবং ভূতাত্ত্বিক বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, ৩০০ কোটি বছর আগে মঙ্গলের উপরিভাগে হ্রদ, নদী ও মহাসাগর ছিল।

ইনসাইট ল্যান্ডারের তথ্যের ভিত্তিতে গবেষণায় দেখা গেছে, তরল পানির বিশাল ওই মজুত মঙ্গলের ভূপৃষ্ঠ থেকে ১১ দশমিক ৫ কিলোমিটার (৭ দশমিক ১৫ মাইল) থেকে ২০ কিলোমিটার নিচে অবস্থিত। গবেষণায় আরও জানা যায়, মঙ্গলের ভূপৃষ্ঠের নিচে যে পরিমাণ তরল পানির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, তা আগের অনুমানের চেয়ে বেশি।
বর্তমানে মঙ্গলগ্রহের পৃষ্ঠ ঠান্ডা ও জনশূন্য। এটি ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি বছরেরও বেশি আগে উষ্ণ ও ভেজা ছিল। গবেষণায় দেখা যায়, মঙ্গলগ্রহের উপরিভাগে যে পানি ছিল তার বেশির ভাগই মহাকাশে বাষ্পীভূত হয়ে উড়ে যায়নি, বরং ভূত্বকের মধ্যে ফিল্টার হয়ে গভীরে প্রবেশ করেছে।
ডেস্ক রিপোর্ট 




















