যেই দ্বীপে আছে লোহার দাঁতের জীবন্ত ‘ড্রাগন’

ড্রাগন, ইউরোপ-চীন-জাপানসহ এশিয়ার বিস্তৃত অঞ্চলের পৌরাণিক কাহিনীগুলোর এক ভীতিকর প্রাণী। চীন-জাপান এমনকি ভুটানেও ড্রাগনের নানা প্রতিকৃতি আজও শোভা পায় নানা স্থানে। ইউরোপে ড্রাগনের বিরুদ্ধে বীরপুরুষ নাইটদের কল্পকাহিনী রোমাঞ্চ জাগায় আজও। বিখ্যাত ওটিটি সিরিজ গেম অব থ্রোনসের পর হাউজ অব দ্য ড্রাগনস কাঁপাচ্ছে বিনোদন দুনিয়া। কিন্তু এসবই কল্পিত ড্রাগন। অথচ ঠিক কল্পিত ড্রাগনের সঙ্গে মিল না থাকলেও ড্রাগন নাম নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার এক দ্বীপে আজও রাজত্ব করছে অতিকায় এক সরীসৃপ, যার নাম কমোডো ড্রাগন। ইন্দোনেশিয়ার কমোডো দ্বীপে এই বিশালাকার সরীসৃপদের বসবাস।

যেই দ্বীপে আছে লোহার দাঁতের জীবন্ত ‘ড্রাগন’

সম্প্রতি হিংস্র এই সরীসৃপ সম্পর্কে আশ্চর্য করা এক তথ্য পেয়েছেন গবেষকরা। তারা জানতে পেরেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই গিরগিটির দাঁতে আছে লোহার আবরণ। যার কারণে ক্ষুরধার দাঁত দিয়ে তারের জাল পর্যন্ত কেটে ফেলতে পারে কমোডো ড্রাগন।পরিবেশ ও প্রাণীবিষয়ক সাময়িকী নেচার ইকোলজি অ্যান্ড ইভোলিউশন জার্নালে বুধবার (২৪ জুলাই) প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ধাতুটি তাদের বাঁকানো ও ক্ষুরধার দাঁতের কাটিং প্রান্তে বা উপরিভাগে জমে।

দীর্ঘ সময় ধরে মানুষ কমোডো ড্রাগনে মুগ্ধ।  এটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় গিরগিটি জাতীয় প্রাণী যাদের দাঁত অতি ধারালো, লম্বা লেজ এবং এর কামড়ে পচন অনিবার্য। বহু দ্বীপের দেশ ইন্দোনেশিয়ার পূর্বের কমোডো দ্বীপে এদের বসবাস।  এদের দেখার জন্য প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক ভিড় করেন।  এদের নিয়ে নানা ধরনের ভৌতিক ছায়াছবিও তৈরি হয়েছে।  দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দারা বিশ্বাস করেন, তাদের দেহ-মনের সঙ্গে কমোডো ড্রাগনের গভীর সংযোগ রয়েছে।  কিন্তু মানুষের সঙ্গে এই প্রাণীর সম্পর্ক এখন বদলে যাচ্ছে।

যেই-দ্বীপে-আছে-লোহার-দাঁতের-জীবন্ত-‘ড্রাগন’ prokritibarta

‘এই দ্বীপের নাম কমোডো দ্বীপ, তাই এটা শুধু কমোডো ড্রাগনের জন্য। মানুষের জন্য নয়। সেজন্যেই এখানে কোন মানবাধিকার কাজ করবে না। কাজ করবে শুধু প্রাণী অধিকার,’ এমনটি বলেন ওই অঞ্চলের গভর্নর ভিক্টর বুংটিলু লাইসকোডাট।

গভর্নর আরও বলেন, ‘ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ এই দ্বীপ সংরক্ষণে বদ্ধপরিকর তারা।  এখন থেকে শুধু অল্প কিছু দর্শনার্থীর জন্য দ্বীপে নিরাপদ ও নিরুপদ্রব দর্শনের ব্যবস্থা রাখা হবে। দ্বীপের বাসিন্দাদেরও সেখান থেকে চলে যেতে হবে।  ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার এখন প্রস্তাবটি বিবেচনা করে দেখছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

যেই দ্বীপে আছে লোহার দাঁতের জীবন্ত ‘ড্রাগন’

আপডেট সময় ০২:৪১:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪

ড্রাগন, ইউরোপ-চীন-জাপানসহ এশিয়ার বিস্তৃত অঞ্চলের পৌরাণিক কাহিনীগুলোর এক ভীতিকর প্রাণী। চীন-জাপান এমনকি ভুটানেও ড্রাগনের নানা প্রতিকৃতি আজও শোভা পায় নানা স্থানে। ইউরোপে ড্রাগনের বিরুদ্ধে বীরপুরুষ নাইটদের কল্পকাহিনী রোমাঞ্চ জাগায় আজও। বিখ্যাত ওটিটি সিরিজ গেম অব থ্রোনসের পর হাউজ অব দ্য ড্রাগনস কাঁপাচ্ছে বিনোদন দুনিয়া। কিন্তু এসবই কল্পিত ড্রাগন। অথচ ঠিক কল্পিত ড্রাগনের সঙ্গে মিল না থাকলেও ড্রাগন নাম নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার এক দ্বীপে আজও রাজত্ব করছে অতিকায় এক সরীসৃপ, যার নাম কমোডো ড্রাগন। ইন্দোনেশিয়ার কমোডো দ্বীপে এই বিশালাকার সরীসৃপদের বসবাস।

যেই দ্বীপে আছে লোহার দাঁতের জীবন্ত ‘ড্রাগন’

সম্প্রতি হিংস্র এই সরীসৃপ সম্পর্কে আশ্চর্য করা এক তথ্য পেয়েছেন গবেষকরা। তারা জানতে পেরেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই গিরগিটির দাঁতে আছে লোহার আবরণ। যার কারণে ক্ষুরধার দাঁত দিয়ে তারের জাল পর্যন্ত কেটে ফেলতে পারে কমোডো ড্রাগন।পরিবেশ ও প্রাণীবিষয়ক সাময়িকী নেচার ইকোলজি অ্যান্ড ইভোলিউশন জার্নালে বুধবার (২৪ জুলাই) প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ধাতুটি তাদের বাঁকানো ও ক্ষুরধার দাঁতের কাটিং প্রান্তে বা উপরিভাগে জমে।

দীর্ঘ সময় ধরে মানুষ কমোডো ড্রাগনে মুগ্ধ।  এটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় গিরগিটি জাতীয় প্রাণী যাদের দাঁত অতি ধারালো, লম্বা লেজ এবং এর কামড়ে পচন অনিবার্য। বহু দ্বীপের দেশ ইন্দোনেশিয়ার পূর্বের কমোডো দ্বীপে এদের বসবাস।  এদের দেখার জন্য প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক ভিড় করেন।  এদের নিয়ে নানা ধরনের ভৌতিক ছায়াছবিও তৈরি হয়েছে।  দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দারা বিশ্বাস করেন, তাদের দেহ-মনের সঙ্গে কমোডো ড্রাগনের গভীর সংযোগ রয়েছে।  কিন্তু মানুষের সঙ্গে এই প্রাণীর সম্পর্ক এখন বদলে যাচ্ছে।

যেই-দ্বীপে-আছে-লোহার-দাঁতের-জীবন্ত-‘ড্রাগন’ prokritibarta

‘এই দ্বীপের নাম কমোডো দ্বীপ, তাই এটা শুধু কমোডো ড্রাগনের জন্য। মানুষের জন্য নয়। সেজন্যেই এখানে কোন মানবাধিকার কাজ করবে না। কাজ করবে শুধু প্রাণী অধিকার,’ এমনটি বলেন ওই অঞ্চলের গভর্নর ভিক্টর বুংটিলু লাইসকোডাট।

গভর্নর আরও বলেন, ‘ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ এই দ্বীপ সংরক্ষণে বদ্ধপরিকর তারা।  এখন থেকে শুধু অল্প কিছু দর্শনার্থীর জন্য দ্বীপে নিরাপদ ও নিরুপদ্রব দর্শনের ব্যবস্থা রাখা হবে। দ্বীপের বাসিন্দাদেরও সেখান থেকে চলে যেতে হবে।  ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার এখন প্রস্তাবটি বিবেচনা করে দেখছে।