রেশমা বেগম। জীবিকার সংস্থানে একটি এনজিও থেকে অর্থ সহায়তা নিয়ে তিলোত্তমা ঢাকা নগরীর এককোণে ছোট্ট একটি চায়ের দোকান দিয়েছেন। দোকানটি বর্তমানে তার আয়ের প্রধান উৎস। চা, পান, বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য, কোমল পানীয় ও অন্যান্য পণ্য বেচাকনার পাশাপাশি তিনি দোকানটিকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখেন। কারণ রেশমা বেগম উক্ত এনজিও সংস্থা থেকে শিখেছেন, নিজের চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখলে, পরিবেশ যেমন সুস্থ থাকবে তেমনি পৃথিবীও সুন্দর হবে।
মূলত, প্রকৃতির সাথে মানুষের রয়েছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্ভরতার একটি নিবিঢ় সম্পর্ক। মানুষের জন্য জীবন ও জীবিকার রসদ জোগায় প্রকৃতি। কিন্তু সময় প্রবাহে, পরিকল্পনাবিহীন ভাবে নগরায়ন, শিল্পের বিকাশ, বনাঞ্চলের সংকোচন, পরিবেশ দূষণ এবং জলবায়ুর নেতিবাচক পরিবর্তনের কারণে প্রকৃতি ক্রমশ নিঃস্ব হচ্ছে। তাই প্রাকৃতিক পরিবেশের উপর চাপ কমাতে জীবিকায়নকে যদি পরিবেশবান্ধব করা যায় তাহলে মানুষ ও প্রকৃতির মেলবন্ধন যেমন আরো দৃঢ় হবে, তেমনি প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষিত করে একটি সুন্দর পৃথিবী গড়া সহজ হবে।

এই লক্ষ্যে ‘সুন্দর প্রকৃতিতে গড়ি সুস্থ জীবন’ প্রত্যয়কে বুকে নিয়ে ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন সুরক্ষা কার্যক্রম ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে একটি পরিবেশ সচেতন জাতি গঠনে কাজ করে যাচ্ছে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন। যার ধারাবাহিকতায় প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন পরিচালিত প্রকৃতি ও জীবন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের অন্যান্য কার্যক্রমের পাশপাশি আয়বর্ধনমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে বাংলাদেশের প্রান্তিক এলাকা ও দুর্যোগপ্রবণ প্রত্যন্ত এলাকায়। এসব এলাকার অসহায় মানুষকে দারিদ্রাবস্থা থেকে মুক্ত করে তাদের জন্য টেকসই জীবিকায়ন নিশ্চিত করার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কল্যাণ প্রয়াস থেকে পরিচালিত হচ্ছে Environment Friendly Alternative Income- EFAI বা ‘পরিবেশবান্ধব বিকল্প আয়’ কার্যক্রম। বাংলাদেশের ৬টি জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় পরিবেশবান্ধব আয়বর্ধনমূলক জীবিকার সংস্থানের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের বহু মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এটি কার্যকর ভুমিকা রাখছে। গরু পালন, মৎস চাষ, সেলাই মেশিন, সবজি দোকান, ইজিবাইক, ক্ষুদ্র ব্যবসায় উদ্যোগ, মুদি-দোকান, ইত্যাদি সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে এ কার্যক্রমটির লক্ষ্য স্বল্পআয় বা আয়বিহীন মানুষরা যেন বিকল্প বা কোনো প্রধান আয়ের উৎসের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি নিজেদের জীবনমান উন্নয়নে সচেষ্ট হয়।

প্রকৃতি ও জীবন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র কর্তৃক পরিচালিত পরিবেশবান্ধব বিকল্প আয় কার্যক্রমে যুক্ত হয়ে যে সব মানুষ নিজেদের জীবনমান উন্নয়ন করতে পেরেছেন, তাদেরই একজন রেশমা বেগম।
দিনের শুরুতে কিংবা কাজের ফাঁকে রেশমা বেগমের চায়ের দোকানে ভিড় জমে নানা শ্রেণী পেশার মানুষের। দোকানের কাজে সহযোগীতা করেন তার স্বামীও। একজন ক্যাশ সামলান, অন্যজন সামলান কাস্টমারের নানা ফরমায়েশ। শীত মৌসুমে চলে পিঠার বিকিকিনি।

এভাবেই পরিবেশবান্ধব বিকল্প আয়- ইএফএআই দেশজুড়ে অসহায় জনগোষ্ঠীকে সুদবিহীন অর্থ প্রদানের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হতে সহায়তা করার পাশাপাশি দারিদ্রতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে।
নিজস্ব সংবাদ : 




















