গাজার পর ইসরায়েলি আগ্রাসনের কবলে লেবানন। দেশটিতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, এতে এখন পর্যন্ত ৪৯২ জন নিহত হয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ইসরায়েলি বিমানহামলায় ৪৯২ জন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ৩৫ শিশু ও ৫৮ জন নারী। এছাড়া আহত হয়েছেন ১হাজার ৬৪৫ জন। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সালের গৃহযুদ্ধের পর দেশটিতে গতকালই একদিনে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেলেন।
বেশিরভাগ হামলাই চালানো হয়েছে দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননের আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে। হামলায় নাবাতিয়েহ ও বেকা উপত্যকা অঞ্চলে বহু বাড়ি, গুদাম ও কারখানায় আগুন ধরে গেছে। লেবানিজ সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন ব্যাপক মাত্রার ইসরায়েলি হামলা থেকে বাঁচতে দক্ষিণ লেবাননের হাজার হাজার বাসিন্দা উত্তরের উদ্দেশে ছুটতে শুরু করে।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা হিজবুল্লাহর বিভিন্ন অবস্থানে এসব হামলা চালিয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত বছরের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে শত্রুতা উস্কে উঠার পর থেকে এদিন সবচেয়ে ব্যাপক আন্তঃসীমান্ত গোলাগুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এরপর লেবাননের জনগণকে সতর্ক করে হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী যেখানে ‘অস্ত্রশস্ত্র মজুদ করে রেখেছে’ সেসব এলাকা ছেড়ে যাওয়ার জন্য বলে ইসরায়েল।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননি জনগণের উদ্দেশে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও বিবৃতি পাঠিয়ে বলেন, “ইসরায়েলের যুদ্ধ হিজবুল্লাহর সঙ্গে, আপনাদের সঙ্গে নয়। অনেক দিন ধরে হিজবুল্লাহ আপনাদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।”

এদিকে ইসরায়েলের হামলার জবাবে পাল্টা রকেট ছুড়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি, উত্তর ইসরায়েলে সেনাবাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে শতাধিক রকেট হামলার দাবি করেছে। রকেটের আঘাতে অঞ্চলটিতে ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।
এর আগে শনি ও রোববার, হিজবুল্লাহর অন্তত ৪০০টি ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইসরায়েল। ওই হামলায় সশস্ত্র গোষ্ঠীটির এক হাজারের বেশি রকেট উৎক্ষেপণ যন্ত্র ধ্বংসের দাবি করে তেল আবিব। অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সব কিছুই করা হবে বলে জানান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
তবে হিজবুল্লাহর এক শীর্ষ নেতা পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত আছে তাদের যোদ্ধারা। চলমান সংঘাত প্রতিরোধ আন্দোলনকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেছে বলে জানান ওই নেতা।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি আক্রমণের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। যেকোনো সময় আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে। তবে, সংঘাত যাতে ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য চেষ্টা চালানোর কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
ডেস্ক রিপোর্ট 




















