দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও নানা ধাপ পেরিয়ে চ্যানেল আইতে অনুষ্ঠিত হলো প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পিওজে মিউজিক ক্লাব সবুজ সুরের সন্ধানে সিজন ওয়ানের গ্র্যান্ড ফিনালে। বাংলার প্রাণ-প্রকৃতি ও দেশের গান গেয়ে নানা ধাপ পেরিয়ে অবশেষে চ্যাম্পিয়ন হলেন মো. মিজানুর রহমান, প্রথম রানার আপ সঞ্জয় বনিক এবং দ্বিতীয় রানার আপ সাদিয়া আক্তার খুশবো।

বিপন্ন সুর ও সঙ্গীত সংরক্ষণের পাশাপাশি এমন আয়োজন, পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষায় সামাজিক-সংস্কৃতিক জাগরন তৈরি করবে বলে মনে করেন, প্রকৃতিবন্ধু বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকিত মজুমদার বাবু।

ফাইনালের মঞ্চে যখন নতুন তারকার সন্ধান, তখন আয়োজনে ভিন্ন মাত্রা আনে খোদ বিচারকদের গান।

চূড়ান্ত পর্বে ছিলো একঝাঁক তরুণ নৃত্যশিল্পীর চমৎকার পরিবেশনা। ‘এসো গাই প্রকৃতির গান’, পিওজে মিউজক ক্লাবের এই গানে নৃত্যে মাতান এই শিল্পীরা। এছাড়াও ছিল ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ গানের আধুনিক কোরিওগ্রাফির এক নান্দনিক উপস্থাপনা।

দীর্ঘ বাছাই প্রক্রিয়া, অজস্র প্রতিযোগীর মধ্য থেকে সেমিফাইনাল পর্বে নির্বাচিত সেরা ১০ জন প্রতিযোগী নিয়ে পর্দা ওঠে গ্র্যান্ড ফিনালের।

দিনভর চলতে থাকে গায়কদের গায়কীর পরীক্ষা। দেশবরেণ্য শিল্পী আবিদা সুলতানা, প্রিয়াঙ্কা গোপ, বাউল শফি মণ্ডলের কান হয়ে মন জয় করে শিল্পীরা পৌঁছান লক্ষ্যের চূড়ান্তে।
কেবল গানের পরীক্ষাতেই প্রতিযোগিতা থেমে থাকেনি। গান শেষে প্রতিযোগীদের প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন করেন প্রকৃতিবন্ধু ও সবুজ সুরের সন্ধানের স্বপ্নদ্রষ্টা মুকিত মজুমদার বাবু।

তাঁর করা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে উঠতি সংগীত শিল্পীরা গানের পাশাপাশি প্রাণ-প্রকৃতির প্রতি তাদের মনের ঘনিষ্ঠতার পরীক্ষাতেও উতরে যান ভালোভাবেই।
বোদ্ধাদের আশাবাদ, আয়োজনের হাত ধরে সঙ্গীতাঙ্গনের নতুন মুখ যেমন আসবে, তেমনই বিপন্ন সভ্যতার অস্তিত্ব রক্ষায়, প্রাণ-প্রকৃতির সাথে সমাজ ব্যবস্থার ক্ষয়ে যাওয়া সংযোগ পুনরুদ্ধারে আসবে গতি।

সবুজ সুরের সন্ধানে সিজন-১ এর বিচারক প্রিয়াঙ্কা গোপ বলেন, সবুজ সুরের সন্ধানের প্রথম আসর আসলে পুরোটা একটা ভ্রমণের মতো। সুন্দর একটা ভ্রমণ, সুরের ভ্রমণ, সবুজের সঙ্গে সুন্দর যাত্রা। অনেক কিছু আমরাও শিখেছি।’
আবিদা সুলতানা বলেন, ‘আমরাতো বসেছিলাম ওদের খুঁত ধরবো বলে, কিন্তু তা পায়নি, চূড়ান্ত পর্বে ওরা এত ভালো গেয়েছে যে খুব কষ্ট হয়েছে ওদেরকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করতে।’

সবুজ সুরের সন্ধানের বিচারক শফি মণ্ডল প্রতিযোগীতার ফলাফল পর্বে বলেন, ‘তোমরা নিজের যত্ন নেবে, সুরের যত্ন করবে। প্রকৃতির যত্ন নেবে, শিখবে প্রকৃতির কাছ থেকে। প্রকৃতি তোমাদের শেখাবে পথচলা।’
এমন উদ্যোগ হারাতে বসা সুর ও সংগীত ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি করবে বলে মনে করেন, প্রকৃতিবন্ধু বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকিত মজুমদার বাবু।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এই সবুজের অভিযান চলতে থাকবে সারা বাংলাদেশে। বাংলার হারিয়ে যাওয়া গান, ঐতিহ্যের সুর, মাটির গান-শেকড়ের গান আমরা উঠিয়ে আনবো। এর মাধ্যমে আমরা সবুজ সুর ছড়িয়ে দেবো দেশে-বিদেশে।’

আয়োজন শেষে বিজয়ীদের হাতে সনদ, ক্রেস্ট ছাড়াও তুলে দেয়া হয় আর্থিক পুরস্কার।

পুরো আয়োজনটি প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় সঞ্চালনা করেন ইফাতারা ইরা।
দেশের নানা প্রান্ত থেকে সবুজ সুরের সন্ধান করে খুঁজে আনা প্রতিভাদের সঙ্গে নিয়ে প্রকৃতি ও জীবন মিউজিক ক্লাবের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 



















