সংবাদ শিরোনাম ::

ট্যাংকারে হামলা, সাগরে তেল বিপর্যয়ের শঙ্কা

ট্যাংকারে হামলা, সাগরে তেল ছড়ানো শঙ্কা

লোহিত সাগরে গত মাসে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার শিকার গ্রিসের পতাকাবাহী একটি তেলের ট্যাংকার। গত সোমবার থেকে ট্যাংকারটিতে আগুন জ্বলছে এবং এটি থেকে সাগরে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বেশি তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে। যদি আসলেই তা ঘটে তাহলে লোহিত সাগরে প্রায় প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল ছড়িয়ে পড়তে পারে।

মারাত্মক বিপর্যয় ঠেকাতে ট্যাংকার এমভি সোনিওন থেকে তেল ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে অভিযান চলছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামরিক বাহিনীর সুরক্ষার আওতায় প্রাইভেট কোম্পানিগুলো ট্যাংকারটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড মঙ্গলবার বলেছে, “হামলার শিকার ট্যাংকারের তেল ছড়িয়ে বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা আছে।” ‍তারা এই ‘বেপরোয়া সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ জন্য হুতিদের দোষারোপ করেছে। ট্যাংকারটিকে উদ্ধারের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড।

গত বছরের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে লোহিত সাগরে পশ্চিমা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে ইয়েমেনের হুথিরা। এ পর্যন্ত তাদের চালানো ৭০টিরও বেশি হামলার ঘটনায় দু’টি জাহাজ ডুবে গেছে, একটি জাহাজ আটক করে নিয়ে গেছে তারা আর অন্তত তিনজন নাবিক নিহত হয়েছেন।

সর্বশেষ আক্রান্ত জাহাজগুলোর মধ্যে এমভি সোনিওন একটি। বিবিসি জানায়, গত ২১ অগাস্টে ট্যাংকারটিতে হুতি হামলার পর এর ক্রুরা ট্যাংকারটিকে ওমান উপকূলে ফেলে রেখে চলে যায়।

সোনিওন থেকে তেল ছড়ালে তা ১৯৮৯ সালের এক্সন ভালদেজ তেল বিপর্যয়ের চেয়ে প্রায় চারগুণ বড় বিপর্যয় ডেকে অনতে পারে।

সংক্ষেপে এক্সন ভালদেজ তেল বিপর্যয়: আমেরিকার আলাস্কার প্রিন্স উইলিয়াম এবং এর আশপাশের অঞ্চলটি সামুদ্রিক মাছ, অগণিত প্রজাতির পাখি এবং জলজ প্রাণীর আবাসস্থল। এলাকাটি স্থানীয় জেলেদের আয়ের অন্যতম উৎস। তবে ১৯৮৯ সালের ২৪ মার্চের পর এখানকার জীবন-জীবিকা চিরতরে বদলে যায়। কারণ মানবসৃষ্ট এক ভয়ানক বিপর্যয়ের কবলে পড়ে এলাকাটি। প্রিন্স উইলিয়াম সাউন্ডে এক্সন ভালদেজ তেলবাহী জাহাজ থেকে অপরিশোধিত তেল ছড়িয়ে পড়ে।

১৯৮৯ সালে এক্সন ভালদেজের তেল ছড়ানোয় সামুদ্রিক প্রতিবেশগত বিপর্যয় ঘটে
১৯৮৯ সালে এক্সন ভালদেজের তেল ছড়ানোয় সামুদ্রিক প্রতিবেশগত বিপর্যয় ঘটে

ঘটনার সূত্রপাত হয় ২৪ মার্চ দুপুর ১২টা নাগাদ। এক্সন ভালদেজ আমেরিকান এক্সন শিপিং কোম্পানির মালিকানাধীন একটি সুপারট্যাঙ্কার লং বিচ শিপ। এটি ক্যালিফোর্নিয়ার প্রিন্স উইলিয়াম সাউন্ডের ব্লাইগ রিফকে আঘাত করে। ফলে কয়েক দিনে ১০ দশমিক ৮ মিলিয়ন গ্যালন তেল ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাবে সমুদ্রের পানি বিষাক্ত হয়ে ওঠে এবং সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু হতে থাকে। এক হিসেবে বলা হয়, এক্সন ভালদেজ তেল বিপর্যয়ে প্রায় আড়াই লাখের বেশি সামুদ্রিক পাখি, তিন হাজারের বেশি সামুদ্রিক ভোঁদড়ের মৃত্যু হয়েছিল।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

মাঝারি রূপ নিচ্ছে তাপপ্রবাহ,তাপমাত্রা হতে পারে ৩৬ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস

ট্যাংকারে হামলা, সাগরে তেল বিপর্যয়ের শঙ্কা

আপডেট সময় ০১:৪৪:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪

লোহিত সাগরে গত মাসে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার শিকার গ্রিসের পতাকাবাহী একটি তেলের ট্যাংকার। গত সোমবার থেকে ট্যাংকারটিতে আগুন জ্বলছে এবং এটি থেকে সাগরে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বেশি তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে। যদি আসলেই তা ঘটে তাহলে লোহিত সাগরে প্রায় প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল ছড়িয়ে পড়তে পারে।

মারাত্মক বিপর্যয় ঠেকাতে ট্যাংকার এমভি সোনিওন থেকে তেল ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে অভিযান চলছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামরিক বাহিনীর সুরক্ষার আওতায় প্রাইভেট কোম্পানিগুলো ট্যাংকারটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড মঙ্গলবার বলেছে, “হামলার শিকার ট্যাংকারের তেল ছড়িয়ে বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা আছে।” ‍তারা এই ‘বেপরোয়া সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ জন্য হুতিদের দোষারোপ করেছে। ট্যাংকারটিকে উদ্ধারের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড।

গত বছরের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে লোহিত সাগরে পশ্চিমা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে ইয়েমেনের হুথিরা। এ পর্যন্ত তাদের চালানো ৭০টিরও বেশি হামলার ঘটনায় দু’টি জাহাজ ডুবে গেছে, একটি জাহাজ আটক করে নিয়ে গেছে তারা আর অন্তত তিনজন নাবিক নিহত হয়েছেন।

সর্বশেষ আক্রান্ত জাহাজগুলোর মধ্যে এমভি সোনিওন একটি। বিবিসি জানায়, গত ২১ অগাস্টে ট্যাংকারটিতে হুতি হামলার পর এর ক্রুরা ট্যাংকারটিকে ওমান উপকূলে ফেলে রেখে চলে যায়।

সোনিওন থেকে তেল ছড়ালে তা ১৯৮৯ সালের এক্সন ভালদেজ তেল বিপর্যয়ের চেয়ে প্রায় চারগুণ বড় বিপর্যয় ডেকে অনতে পারে।

সংক্ষেপে এক্সন ভালদেজ তেল বিপর্যয়: আমেরিকার আলাস্কার প্রিন্স উইলিয়াম এবং এর আশপাশের অঞ্চলটি সামুদ্রিক মাছ, অগণিত প্রজাতির পাখি এবং জলজ প্রাণীর আবাসস্থল। এলাকাটি স্থানীয় জেলেদের আয়ের অন্যতম উৎস। তবে ১৯৮৯ সালের ২৪ মার্চের পর এখানকার জীবন-জীবিকা চিরতরে বদলে যায়। কারণ মানবসৃষ্ট এক ভয়ানক বিপর্যয়ের কবলে পড়ে এলাকাটি। প্রিন্স উইলিয়াম সাউন্ডে এক্সন ভালদেজ তেলবাহী জাহাজ থেকে অপরিশোধিত তেল ছড়িয়ে পড়ে।

১৯৮৯ সালে এক্সন ভালদেজের তেল ছড়ানোয় সামুদ্রিক প্রতিবেশগত বিপর্যয় ঘটে
১৯৮৯ সালে এক্সন ভালদেজের তেল ছড়ানোয় সামুদ্রিক প্রতিবেশগত বিপর্যয় ঘটে

ঘটনার সূত্রপাত হয় ২৪ মার্চ দুপুর ১২টা নাগাদ। এক্সন ভালদেজ আমেরিকান এক্সন শিপিং কোম্পানির মালিকানাধীন একটি সুপারট্যাঙ্কার লং বিচ শিপ। এটি ক্যালিফোর্নিয়ার প্রিন্স উইলিয়াম সাউন্ডের ব্লাইগ রিফকে আঘাত করে। ফলে কয়েক দিনে ১০ দশমিক ৮ মিলিয়ন গ্যালন তেল ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাবে সমুদ্রের পানি বিষাক্ত হয়ে ওঠে এবং সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু হতে থাকে। এক হিসেবে বলা হয়, এক্সন ভালদেজ তেল বিপর্যয়ে প্রায় আড়াই লাখের বেশি সামুদ্রিক পাখি, তিন হাজারের বেশি সামুদ্রিক ভোঁদড়ের মৃত্যু হয়েছিল।