সংবাদ শিরোনাম ::

স্পেস স্টেশনে রিসাইকেল করা খাবার খাচ্ছেন নভোচারীরা

স্পেস স্টেশনে রিসাইকেল করা খাবার খাচ্ছেন নভোচারীরা

মহাকাশে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন নভোচারীরা। সম্প্রতি ভারতীয় বংশোদ্ভুত মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস (৫৯) এবং তার আমেরিকান সফরসঙ্গী বুচ উইলমোর (৬১) মহাকাশ ভ্রমণে গেছেন। ইতোমধ্যে তারা খাদ্যের সঙ্কটে পড়েছেন। জানা গেছে, এমন অবস্থায় বুচ ও সুনীতা সেখানে প্রস্রাব মেশানো স্যুপ খেতে বাধ্য হচ্ছেন! সুনিতা উইলিয়ামস হচ্ছেন একজন মার্কিন মহাকাশচারী। তৃতীয়বারের জন্য মহাকাশ অভিযানে গেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস। তাকে অভিযান ১৪ এবং অভিযান ১৫ এর সদস্য হিসাবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি মহিলা মহাকাশচারীদের মধ্য সর্বাপেক্ষা দীর্ঘসময় (৩২১ দিন) মহাকাশ উড়ার রেকর্ড অর্জন করেছেন। তার পিতা দিপক পান্ডে, একজন ভারতীয়-আমেরিকান স্মায়ুতন্ত্রবিদ। মাতা উরসুলিন বনি পান্ডে। তিন সন্তানের মধ্যে সুনীতা হলেন সবার ছোট। সুনিতার পিতার পরিবার ভারতের গুজরাতের বাসিন্দা।

গত জুন মাসে মাত্র ৮ দিনের জন্য মহাকাশে গিয়েছিলেন সুনীতা উইলিয়ামস এবং তার সঙ্গী ব্যারি বুচ উইলমোর। কিন্তু সময়মতো পৃথিবীতে ফিরতে পারেননি তারা। কবে ফিরবেন তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।  মাত্র ৮ দিনের জন্য মহাকাশে গিয়েছিলেন সুনীতা এবং বুচ। কিন্তু কবে পৃথিবীতে ফিরবেন তাঁরা, তা এখনও অনিশ্চিত। তাই উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে মহাকাশচারী মহলে। যদিও নাসার তরফে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে নিরাপদেই আছেন সুনীতা। গত ৫ জুন নাসার ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস স্টেশন থেকে মহাকাশযান বোয়িং সিএসটি-১০০ স্টারলাইনার ক্যাপস্যুলে চড়ে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আনন্দে হাততালি দিয়ে নেচে নেচে স্পেস স্টেশনে ঢুকছেন তিনি।

তার পর থেকে ৮০ দিন পেরিয়ে গিয়েছে। এখনও স্পেস স্টেশনে আটকে রয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভুত মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস! সঙ্গী তাঁর সহ-অভিযাত্রী ব্যারি বুচ উইলমোর। বোয়িং স্টারলাইনার মহাকাশযানে করে মহাকাশে গিয়েছিলেন সুনীতারা। কিন্তু পৃথিবী ছাড়ার পরেই এই বোয়িংয়ের পাঁচটি হিলিয়াম ফুটো হয়ে যায়। এর ফলে নষ্ট হয়ে যায় পাঁচটি ম্যানুভারিং থ্রাস্টার। প্রসঙ্গত, এটিই ছিল বোয়িং-এর প্রথম মহাকাশচারী নিয়ে যাত্রা। তাছাড়া, সাধারণ মানুষ যাতে বেসরকারি উদ্যোগে বাণিজ্যিক ভাবে মহাকাশে বেড়াতে যেতে পারে, সেই পরিকল্পনারও প্রথম ধাপ এই বোয়িং।

স্পেস স্টেশনে রিসাইকেল করা খাবার খাচ্ছেন নভোচারীরা prokritibarta

সাধারণত মহাকাশচারীদের কাছে দু ধরনের খাবার থাকে। শুকনো খাবারের মধ্যে থাকে গুঁড়ো দুধ, শস্যজাতীয় খাবার, পিৎজা, চিকেন রোস্ট এবং টুনা মাছ ইত্যাদি। তারা এখন বেশিরভাগই ডিহাইড্রেটেড থাকছেন। মহাকাশে স্থাপিত স্পেস স্টেশনের ৫৩০-গ্যালন ট্যাঙ্কের পানি দিয়ে তৈরি ফ্রিজের শুকনো স্যুপ বানিয়ে খাচ্ছেন। পানি সংকটে নভোচারীদের ঘাম এবং প্রস্রাবকে খাবার পানিতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলা হয়। নাসার চিকিৎসকরা গোটা মিশন জুড়ে সুনীতা ও ব্যারি বুচ উইলমোরের  ডায়েট নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। বিশেষজ্ঞের মতে, সুনীতাদের কাছে এই ধরনের খাবার থাকলেও তাজা ফলের ভান্ডার কমে আসছে। পৃথিবী থেকে প্রায় ৩ মাস অন্তর আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে (আইএসএস) খাবার পাঠানো হয়। তাই একরকম বাধ্য হয়ে রিসাইকেল করা প্রস্রাব মেশানো স্যুপ খাচ্ছেন সুনীতারা।

সপ্তাহখানেক আগে সুনীতা এবং বুচের একটি ছবি ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেকেই ছবিতে সুনীতাকে দেখে দাবি করেছিলেন যে তার শরীর খারাপ। কারণ, তাকে অবিশ্বাস্য রকমের রোগা লাগছে। মহাকাশে যাওয়ার আগে যে ছবি দেখা গিয়েছিল এখন তারও বদল ঘটেছে। তাই অনেকেই চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। তবে সুনীতা পরে ভিডিও বার্তায় স্পষ্ট করেছিলেন, তাকে নিয়ে চিন্তা করার কিছুই হয়নি। তিনি একদম সুস্থ-স্বাভাবিক আছেন। নভোচারী সুনীতার বক্তব্য ছিল, ‘স্পেস স্টেশনে আসার সময়ে আমার যা ওজন ছিল, এখনও তাই আছে। কিন্তু এখানে থাকতে গেলে প্রতিদিন যে ব্যায়াম করতে হয়, তার কারণে শরীরের গঠনে এমন বদল এসেছে। ছবি দেখে আপনাদের তাই মনে হচ্ছে আমি ভাল নেই।’ সুনীতার এই বার্তা শুনে স্বস্তি পেয়েছেন সকলেই।

নাসা বলছে সুনীতা এবং ব্যারি বুচ উইলমোরের ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফিরতে পারেন। ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেস এক্স-এর সঙ্গে যৌথভাবে একটি মহাকাশযান তৈরি করছে নাসা। সেটাই মহাকাশে পাঠিয়ে সুনীতাদের উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে। নাসা এবং স্পেস এক্স-এর যৌথ এই মিশনটির নাম দিয়েছে ক্র-৯। চলতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে ওই যানে দুজনকে মহাকাশে পাঠানো হবে। ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন থেকে সুনীতাদের নিয়ে সেটি আবার পৃথিবীর দিকে ফিরবে।

মাঝারি রূপ নিচ্ছে তাপপ্রবাহ,তাপমাত্রা হতে পারে ৩৬ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস

স্পেস স্টেশনে রিসাইকেল করা খাবার খাচ্ছেন নভোচারীরা

আপডেট সময় ০২:৪৭:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৪

মহাকাশে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন নভোচারীরা। সম্প্রতি ভারতীয় বংশোদ্ভুত মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস (৫৯) এবং তার আমেরিকান সফরসঙ্গী বুচ উইলমোর (৬১) মহাকাশ ভ্রমণে গেছেন। ইতোমধ্যে তারা খাদ্যের সঙ্কটে পড়েছেন। জানা গেছে, এমন অবস্থায় বুচ ও সুনীতা সেখানে প্রস্রাব মেশানো স্যুপ খেতে বাধ্য হচ্ছেন! সুনিতা উইলিয়ামস হচ্ছেন একজন মার্কিন মহাকাশচারী। তৃতীয়বারের জন্য মহাকাশ অভিযানে গেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস। তাকে অভিযান ১৪ এবং অভিযান ১৫ এর সদস্য হিসাবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি মহিলা মহাকাশচারীদের মধ্য সর্বাপেক্ষা দীর্ঘসময় (৩২১ দিন) মহাকাশ উড়ার রেকর্ড অর্জন করেছেন। তার পিতা দিপক পান্ডে, একজন ভারতীয়-আমেরিকান স্মায়ুতন্ত্রবিদ। মাতা উরসুলিন বনি পান্ডে। তিন সন্তানের মধ্যে সুনীতা হলেন সবার ছোট। সুনিতার পিতার পরিবার ভারতের গুজরাতের বাসিন্দা।

গত জুন মাসে মাত্র ৮ দিনের জন্য মহাকাশে গিয়েছিলেন সুনীতা উইলিয়ামস এবং তার সঙ্গী ব্যারি বুচ উইলমোর। কিন্তু সময়মতো পৃথিবীতে ফিরতে পারেননি তারা। কবে ফিরবেন তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।  মাত্র ৮ দিনের জন্য মহাকাশে গিয়েছিলেন সুনীতা এবং বুচ। কিন্তু কবে পৃথিবীতে ফিরবেন তাঁরা, তা এখনও অনিশ্চিত। তাই উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে মহাকাশচারী মহলে। যদিও নাসার তরফে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে নিরাপদেই আছেন সুনীতা। গত ৫ জুন নাসার ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস স্টেশন থেকে মহাকাশযান বোয়িং সিএসটি-১০০ স্টারলাইনার ক্যাপস্যুলে চড়ে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আনন্দে হাততালি দিয়ে নেচে নেচে স্পেস স্টেশনে ঢুকছেন তিনি।

তার পর থেকে ৮০ দিন পেরিয়ে গিয়েছে। এখনও স্পেস স্টেশনে আটকে রয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভুত মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস! সঙ্গী তাঁর সহ-অভিযাত্রী ব্যারি বুচ উইলমোর। বোয়িং স্টারলাইনার মহাকাশযানে করে মহাকাশে গিয়েছিলেন সুনীতারা। কিন্তু পৃথিবী ছাড়ার পরেই এই বোয়িংয়ের পাঁচটি হিলিয়াম ফুটো হয়ে যায়। এর ফলে নষ্ট হয়ে যায় পাঁচটি ম্যানুভারিং থ্রাস্টার। প্রসঙ্গত, এটিই ছিল বোয়িং-এর প্রথম মহাকাশচারী নিয়ে যাত্রা। তাছাড়া, সাধারণ মানুষ যাতে বেসরকারি উদ্যোগে বাণিজ্যিক ভাবে মহাকাশে বেড়াতে যেতে পারে, সেই পরিকল্পনারও প্রথম ধাপ এই বোয়িং।

স্পেস স্টেশনে রিসাইকেল করা খাবার খাচ্ছেন নভোচারীরা prokritibarta

সাধারণত মহাকাশচারীদের কাছে দু ধরনের খাবার থাকে। শুকনো খাবারের মধ্যে থাকে গুঁড়ো দুধ, শস্যজাতীয় খাবার, পিৎজা, চিকেন রোস্ট এবং টুনা মাছ ইত্যাদি। তারা এখন বেশিরভাগই ডিহাইড্রেটেড থাকছেন। মহাকাশে স্থাপিত স্পেস স্টেশনের ৫৩০-গ্যালন ট্যাঙ্কের পানি দিয়ে তৈরি ফ্রিজের শুকনো স্যুপ বানিয়ে খাচ্ছেন। পানি সংকটে নভোচারীদের ঘাম এবং প্রস্রাবকে খাবার পানিতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলা হয়। নাসার চিকিৎসকরা গোটা মিশন জুড়ে সুনীতা ও ব্যারি বুচ উইলমোরের  ডায়েট নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। বিশেষজ্ঞের মতে, সুনীতাদের কাছে এই ধরনের খাবার থাকলেও তাজা ফলের ভান্ডার কমে আসছে। পৃথিবী থেকে প্রায় ৩ মাস অন্তর আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে (আইএসএস) খাবার পাঠানো হয়। তাই একরকম বাধ্য হয়ে রিসাইকেল করা প্রস্রাব মেশানো স্যুপ খাচ্ছেন সুনীতারা।

সপ্তাহখানেক আগে সুনীতা এবং বুচের একটি ছবি ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেকেই ছবিতে সুনীতাকে দেখে দাবি করেছিলেন যে তার শরীর খারাপ। কারণ, তাকে অবিশ্বাস্য রকমের রোগা লাগছে। মহাকাশে যাওয়ার আগে যে ছবি দেখা গিয়েছিল এখন তারও বদল ঘটেছে। তাই অনেকেই চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। তবে সুনীতা পরে ভিডিও বার্তায় স্পষ্ট করেছিলেন, তাকে নিয়ে চিন্তা করার কিছুই হয়নি। তিনি একদম সুস্থ-স্বাভাবিক আছেন। নভোচারী সুনীতার বক্তব্য ছিল, ‘স্পেস স্টেশনে আসার সময়ে আমার যা ওজন ছিল, এখনও তাই আছে। কিন্তু এখানে থাকতে গেলে প্রতিদিন যে ব্যায়াম করতে হয়, তার কারণে শরীরের গঠনে এমন বদল এসেছে। ছবি দেখে আপনাদের তাই মনে হচ্ছে আমি ভাল নেই।’ সুনীতার এই বার্তা শুনে স্বস্তি পেয়েছেন সকলেই।

নাসা বলছে সুনীতা এবং ব্যারি বুচ উইলমোরের ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফিরতে পারেন। ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেস এক্স-এর সঙ্গে যৌথভাবে একটি মহাকাশযান তৈরি করছে নাসা। সেটাই মহাকাশে পাঠিয়ে সুনীতাদের উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে। নাসা এবং স্পেস এক্স-এর যৌথ এই মিশনটির নাম দিয়েছে ক্র-৯। চলতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে ওই যানে দুজনকে মহাকাশে পাঠানো হবে। ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন থেকে সুনীতাদের নিয়ে সেটি আবার পৃথিবীর দিকে ফিরবে।