হতাশার ধারাবাহিকতা, কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হলো মরুকরণ বিরোধী সম্মেলন

  • নাসিমুল শুভ
  • আপডেট সময় ০৪:২০:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 268

হতাশার ধারাবাহিকতা, কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হলো মরুকরণ বিরোধী সম্মেলন

বৈশ্বিক খরা মোকাবেলায় কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে জাতিসংঘের মরুকরণ বিরোধী সম্মেলন।  কপ ১৬ নামে পরিচিত জাতিসংঘের কনভেনশন টু কমব্যাট ডেজার্টফিকেশন (ইউএনসিসিডি) এর পক্ষগুলির ১২ দিনের সম্মেলনকে তাই ব্যর্থই বলা যায়।

এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়, সর্বশেষ এই সম্মেলনের ব্যর্থতা আসলে সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সম্মেলনের ব্যর্থতারই ধারাবাহিকতা, যেসব সম্মেলন থেকে পৃথিবীর জন্য আশা জাগানিয়া কিছুই বের হয়ে আসেনি। আলজাজিরা এক্ষেত্রে বুসানে বৈশ্বিক প্লাস্টিক উৎপাদন কমানোর সংলাপ এবং এর আগে কলম্বিয়ায় জীববৈচিত্র্য সংলাপের ব্যর্থতার প্রসঙ্গ সামনে এনেছে। এমনকি সদ্য সমাপ্ত জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কপ ২৯- এ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর কাঙ্ক্ষিত তহবিল না পাওয়ার বিষয়টিও উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে রিয়াদ সম্মেলনের ব্যর্থতা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, রিয়াদ সম্মেলনে পক্ষগুলো বড় কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে একমত হতে পারেনি।

ইউএনসিসিডির নির্বাহী সচিব ইব্রাহিম থিয়াও শনিবার বলেছেন, “অগ্রগতির জন্য সবপক্ষের একমত হতে আরও সময় প্রয়োজন।”

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে ইউএনসিসিডির পক্ষগুলো – অর্থাৎ ১৯৬ টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন – “ভবিষ্যত বৈশ্বিক খরা নিয়ন্ত্রণের ভিত্তি স্থাপনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে, যা তারা ২০২৬ সালে মঙ্গোলিয়ায় কপ ১৭-এ সম্পন্ন করতে চায়।”

অথচ বাস্তবতা বলছে যত দ্রুত বৈশ্বিক পক্ষগুলো একমত হয় ততো ভাল। রিয়াদে আলোচনার দ্বিতীয় দিনে ৩ ডিসেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জাতিসংঘ বলেছে, মানবসৃষ্টভাবে পরিবেশ ধ্বংসের কারণে সৃষ্ট খরায় প্রতি বছর বিশ্বকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। খরা ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের জনসংখ্যার ৭৫ শতাংশকে প্রভাবিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এমন বাস্তবতায় রিয়াদ সম্মেলনে একটি বৈশ্বিক চুক্তির আশা করা হলেও জলবায়ু সংশ্লিষ্ট বাকী সম্মেলনগুলোর মতো এই সম্মেলনেও গ্লোবাল সাউথের স্বার্থের সঙ্গে গ্লোবাল নর্থের স্বার্থগত দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। গ্লোবাল সাউথ অর্থাৎ দরিদ্র,স্বল্পোন্নত, উন্নয়নশীল দেশগুলোর আবেদন পাশ কাটিয়ে গেছে ধনী দেশগুলোর ব্লক গ্লোবাল নর্থ।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানা যায়, আফ্রিকার একটি দেশ থেকে কপ ১৬ -এর একজন প্রতিনিধি, নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তাসংস্থাকে এএফপি বলেন, আফ্রিকান দেশগুলি আশা করেছিল যে আলোচনা খরার বিষয়ে একটি বাধ্যতামূলক প্রোটোকল তৈরি করবে। তিনি বলেন, “এই প্রথম আমি আফ্রিকাকে এতটা ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী ইউনাইটেড ফ্রন্টের মতো, খরা প্রোটোকলের ক্ষেত্রে সরব দেখেছি।”

কিন্তু শেষে তাকে হতাশই হতে হয়েছে। সম্মেলনে অংশ নেওয়া আরও দুই প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উন্নত দেশগুলি একটি বাধ্যতামূলক প্রোটোকল চায় না । এর পরিবর্তে একটি “ফ্রেমওয়ার্ক” এর জন্য অপেক্ষা করছে, আর দরিদ্র দেশগুলো বিশেষ করে আফ্রিকান দেশগুলি ধনীদের এই কথিত ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়ন করার জন্য মোটেও প্রস্তুত নয়।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

হতাশার ধারাবাহিকতা, কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হলো মরুকরণ বিরোধী সম্মেলন

আপডেট সময় ০৪:২০:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪

বৈশ্বিক খরা মোকাবেলায় কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে জাতিসংঘের মরুকরণ বিরোধী সম্মেলন।  কপ ১৬ নামে পরিচিত জাতিসংঘের কনভেনশন টু কমব্যাট ডেজার্টফিকেশন (ইউএনসিসিডি) এর পক্ষগুলির ১২ দিনের সম্মেলনকে তাই ব্যর্থই বলা যায়।

এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়, সর্বশেষ এই সম্মেলনের ব্যর্থতা আসলে সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সম্মেলনের ব্যর্থতারই ধারাবাহিকতা, যেসব সম্মেলন থেকে পৃথিবীর জন্য আশা জাগানিয়া কিছুই বের হয়ে আসেনি। আলজাজিরা এক্ষেত্রে বুসানে বৈশ্বিক প্লাস্টিক উৎপাদন কমানোর সংলাপ এবং এর আগে কলম্বিয়ায় জীববৈচিত্র্য সংলাপের ব্যর্থতার প্রসঙ্গ সামনে এনেছে। এমনকি সদ্য সমাপ্ত জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কপ ২৯- এ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর কাঙ্ক্ষিত তহবিল না পাওয়ার বিষয়টিও উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে রিয়াদ সম্মেলনের ব্যর্থতা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, রিয়াদ সম্মেলনে পক্ষগুলো বড় কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে একমত হতে পারেনি।

ইউএনসিসিডির নির্বাহী সচিব ইব্রাহিম থিয়াও শনিবার বলেছেন, “অগ্রগতির জন্য সবপক্ষের একমত হতে আরও সময় প্রয়োজন।”

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে ইউএনসিসিডির পক্ষগুলো – অর্থাৎ ১৯৬ টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন – “ভবিষ্যত বৈশ্বিক খরা নিয়ন্ত্রণের ভিত্তি স্থাপনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে, যা তারা ২০২৬ সালে মঙ্গোলিয়ায় কপ ১৭-এ সম্পন্ন করতে চায়।”

অথচ বাস্তবতা বলছে যত দ্রুত বৈশ্বিক পক্ষগুলো একমত হয় ততো ভাল। রিয়াদে আলোচনার দ্বিতীয় দিনে ৩ ডিসেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জাতিসংঘ বলেছে, মানবসৃষ্টভাবে পরিবেশ ধ্বংসের কারণে সৃষ্ট খরায় প্রতি বছর বিশ্বকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। খরা ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের জনসংখ্যার ৭৫ শতাংশকে প্রভাবিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এমন বাস্তবতায় রিয়াদ সম্মেলনে একটি বৈশ্বিক চুক্তির আশা করা হলেও জলবায়ু সংশ্লিষ্ট বাকী সম্মেলনগুলোর মতো এই সম্মেলনেও গ্লোবাল সাউথের স্বার্থের সঙ্গে গ্লোবাল নর্থের স্বার্থগত দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। গ্লোবাল সাউথ অর্থাৎ দরিদ্র,স্বল্পোন্নত, উন্নয়নশীল দেশগুলোর আবেদন পাশ কাটিয়ে গেছে ধনী দেশগুলোর ব্লক গ্লোবাল নর্থ।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানা যায়, আফ্রিকার একটি দেশ থেকে কপ ১৬ -এর একজন প্রতিনিধি, নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তাসংস্থাকে এএফপি বলেন, আফ্রিকান দেশগুলি আশা করেছিল যে আলোচনা খরার বিষয়ে একটি বাধ্যতামূলক প্রোটোকল তৈরি করবে। তিনি বলেন, “এই প্রথম আমি আফ্রিকাকে এতটা ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী ইউনাইটেড ফ্রন্টের মতো, খরা প্রোটোকলের ক্ষেত্রে সরব দেখেছি।”

কিন্তু শেষে তাকে হতাশই হতে হয়েছে। সম্মেলনে অংশ নেওয়া আরও দুই প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উন্নত দেশগুলি একটি বাধ্যতামূলক প্রোটোকল চায় না । এর পরিবর্তে একটি “ফ্রেমওয়ার্ক” এর জন্য অপেক্ষা করছে, আর দরিদ্র দেশগুলো বিশেষ করে আফ্রিকান দেশগুলি ধনীদের এই কথিত ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়ন করার জন্য মোটেও প্রস্তুত নয়।