হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহর সম্ভাব্য দুই উত্তরসূরিকেও হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। হত্যার শিকার দুইজনের মধ্যে সম্ভবত হিজবুল্লাহর সম্ভাব্য নতুন প্রধান হাসেম সাফিয়েদ্দিন আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ৩ অক্টোবর লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হামলায় তার মৃত্যু হয় বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। হাসান নাসরাল্লাহর দুই উত্তরসূরির নাম উল্লেখ না করে ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা হিজবুল্লাহর সক্ষমতা ক্ষুণ্ন করেছি। আমরা (হাসান) নাসরাল্লাহকে এবং নাসরাল্লাহর উত্তরসূরিকে এবং তারও উত্তরসূরিসহ হাজার হাজার সন্ত্রাসীকে চিরতরে সরিয়ে দিয়েছি।”
এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট বলেছেন, নাসরাল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার বিষয়ে প্রত্যাশিত ব্যক্তি হাসেম সাফিউদ্দিনকে সম্ভবত “নির্মূল” করা হয়েছে। তবে নেতানিয়াহু “উত্তরসূরির উত্তরসূরি” (রিপ্লেসমেন্ট অব দ্য রিপ্লেসমেন্ট) বলতে কাকে বোঝাতে চেয়েছেন তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
অবশ্য ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি বলেছিলেন, গত সপ্তাহে যখন যুদ্ধবিমান বোমাবর্ষণ করেছিল তখন ইসরায়েল জানত সাফিয়েদ্দিন হিজবুল্লাহর গোয়েন্দা সদর দপ্তরে ছিলেন এবং সাফিয়েদ্দিনের অবস্থা “পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং যখন আমরা জানব, আমরা জনসাধারণকে জানাব।”
এ খবর সত্য হয়ে থাকলে তা হবে হিজবুল্লাহর জন্য আরেক বড় ধাক্কা। সাফিয়েদ্দিনকে হত্যা করার লক্ষ্য নিয়ে ইসরায়েল গত সপ্তাহে বৈরুতে বিমান হামলা চালায়।

গত মাসে ইসরায়েলের হামলায় নিহত হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসাবে নাম শোনা যাচ্ছিল সাফিয়েদ্দিনের। কিন্তু বৈরুতের দাহিয়া এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলার পর থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন সাফিয়েদ্দিন। তাকে আর জনসম্মুখে কিছু বলতে শোনা যায়নি। পাওয়া যায়নি কোনও খোঁজও।
সম্পর্কে হাসান নাসরাল্লাহর কাজিন হাসেম সাফিয়েদ্দিন তার মতোই একজন ধর্মীয় নেতা। তিনিও মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর বংশধরের প্রতীক হিসাবে কালো পাগড়ি পরেন।

জনসম্মুখে হাসেম সাফিয়েদ্দিনের বিবৃতিতে প্রায়ই হিজবুল্লাহর সামরিক অবস্থান ও ফিলিস্তিনিদের জন্য সংহতির বিষয়টির প্রতিফলন ঘটে।
তবে সাফিয়েদ্দিন ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলীতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। ওই বৈঠকেই বিমান হামলা চালিয়ে নাসরাল্লাহকে হত্যা করেছিল ইসরায়েলি বাহিনী। কিন্তু সাফিয়েদ্দিনও ইসরায়েলের প্রধান টার্গেট ছিলেন।
ডেস্ক রিপোর্ট 




















