ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরাল্লাহর উত্তরসূরি হিসেবে শেখ নাইম কাসেমকে নির্বাচিত করা হয়েছে। তিনি এতদিন লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধাদলটির একজন উপ-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
গত ৩০ বছর ধরে হিজবুল্লাহর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করা নাইম কাসেমকে আজ মঙ্গলবার নতুন প্রধান হিসেবে ঘোষণা করেছে হিজবুল্লাহ। এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তাদের সংগঠনের নীতিমালা ও লক্ষ্যের প্রতি কাসেমের আনুগত্যের কারণে তাকে এই পদে নির্বাচিত করা হয়েছে। তিনি এই মহৎ যাত্রায় বরকতময় পতাকা বহন করবেন এবং হিজবুল্লাহ ও ইসলামিক প্রতিরোধের নেতৃত্বে আল্লাহর কাছে দিকনির্দেশনা কামনা করবেন।
ইসরায়েলি হামলায় হাসান নাসরাল্লাহ নিহত হলে হিজবুল্লাহর সম্ভাব্য নতুন নেতা হিসেবে আলোচনায় আসেন হাসেম সাফিয়েদ্দিন। তবে তিন সপ্তাহ আগে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে ইসরায়েলের এক বিমান হামলায় তিনিও নিহত হন। গত সপ্তাহে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ। এরপর হিজবুল্লাহর প্রধান হিসেবে নাইম কাসেমের নাম ঘোষণা করা হলো।

নাইম কাসেমের পরিচয়
নাইম কাসেম ১৯৫৩ সালে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন শিয়াদের আমল আন্দোলনের মাধ্যমে। ১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি আমল আন্দোলন থেকে সরে আসেন।
১৯৮২ সালে ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালানোর পর ইরানের বিপ্লবী গার্ডের সহায়তায় তৈরি হয় হিজবুল্লাহ। যেসব বৈঠকের মাধ্যমে হিজবুল্লাহর জন্ম হয়েছিল সেগুলোতে উপস্থিত ছিলেন নাইম কাসেম।
১৯৯১ সালে নাইম কাসেমকে উপপ্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেন হিজবুল্লাহর তৎকালীন প্রধান আব্বাস আল-মুসাভি। এর পরের বছর ইসরায়েলের হেলিকপ্টার হামলায় প্রাণ হারান আব্বাস মুসাভি।
তার মৃত্যুর পর হাসান নাসরাল্লাহ হিজবুল্লাহর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর নাইম কাসেম উপপ্রধানের দায়িত্ব পালন করতে থাকেন।
১৯৯২ সালে লেবাননে প্রথমবার সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় হিজবুল্লাহ। ওই সময় থেকেই দলটির নির্বাচনী সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন নাইম কাসেম।
তিনি গত এক বছর ধরে হিজবুল্লাহর অন্যতম মুখপাত্র হিসেবেও কাজ করে যাচ্ছেন। বিদেশি সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় তিনিই কথা বলেন।

তিনি ২০০৫ সালে হিজবুল্লাহর ইতিহাস নিয়ে একটি বই লেখেন। বইটির নামের ইংরেজি অর্থ করলে দাঁড়ায় ‘ইনসাইডারস লুক’। যার মাধ্যমে গোষ্ঠীটির অনেক বিরল ও অজানা তথ্য জানা যায়।
হিজবুল্লাহর নতুন প্রধান নাইম কাসেম মাথায় সাদা পাগড়ি পরেন। অপরদিকে সাবেক প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ এবং তার চাচাতো ভাই হাসেম সাফিয়েদ্দিন কালো পাগড়ি পরতেন। বলা হয়ে থাকে মহানবী হযরত মোহাম্মদের (সা.) বংশধর হিসেবে পরিচিতমূলক কালো পাগড়ি পরা হয়।
ডেস্ক রিপোর্ট 




















